• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথিত মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল, শার্শায় যুবদল নেতাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি তৃণমূলের; রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগের অভিযোগ,অডিটে বাধা,বিদ্যালয়ে অবৈধ প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি-নেপথ্যে মাওলানা মকবুলের ভূমিকা হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা বেগমকে ঘিরে পুরোনো অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে শার্শা উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক; সামাজিক কর্মকাণ্ডেও পরিচিতি, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থিতা ঘিরে বাহাদুরপুরে বাড়ছে আলোচনা মানুষ মানুষের জন্য: অসুস্থ শিশুর পরিবারের পাশে হিন্দু সংহতি আগ্রাবাদ শিশু হাসপাতালে গিয়ে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান, শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নিউ হোপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান ড. ফয়েজ উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মক্কার মতো পবিত্র নগরীকে ইয়েমেনে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এসবি প্রধান হলেন কুড়িগ্রামের কৃতিসন্তান কামরুল আহসান বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ কলাতলীতে নির্মাণাধীন ‘পালং অপ প্যানোয়া’ হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টের অভিযোগ; নগদ ১ লাখ টাকা লুটের দাবি মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’

ডাক্তারদের নীরব মানবিকতা বনাম ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা: দায় কার?

Reporter Name / ১৮০ Time View
Update : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫

 

ডাক্তারদের নীরব মানবিকতা বনাম ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা: দায় কার?

১৮ আগস্ট ২০২৫, সোমবার

জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক:

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিদিন ঘটে চলেছে একের পর এক ট্র্যাজেডি। সরকারি হাসপাতালে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, একশো বেডের হাসপাতালে ভর্তি থাকছে ৫০০ রোগী। আবার অপর দিকে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ— অতিরিক্ত টেস্ট, কমিশন, কিংবা রোগীর কথা না শোনা।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ডাক্তাররা প্রতিদিনই নীরবে এমন সব মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন যা প্রচারের আলোয় আসে না। আর পুরো ব্যর্থতার দায়ভার আসলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরেই বর্তায়।

নবজাতককে ফেলে পালানো, ডাক্তারদের চাঁদায় মুক্তি

একটি প্রাইভেট মেডিকেলে ১.৫ কেজি ওজনের এক শিশুর জন্ম হয়। গুরুতর অসুস্থতায় তাকে NICU-তে রাখা হয়। কিছুদিন পর মা সন্তানকে ফেলে পালিয়ে যান। এক মাসের চিকিৎসা শেষে বিল দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। ইন্টার্ন ডাক্তাররা নিজেদের চাঁদা তুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়ে এক লাখ টাকা মওকুফ করান, তারপর শিশুটিকে রিলিজ করান।

রোগীর জানাজা থেকে শুরু করে নিজের রক্ত দেওয়া

অসহায় রোগীর জানাজার খরচ থেকে শুরু করে প্রসূতির জন্য রক্তের ব্যবস্থা— ডাক্তাররাই এগিয়ে আসেন। অনেকেই নিজের শরীর থেকে রক্ত দেন, নিজের বেতন দিয়ে রোগীর অপারেশনের খরচ বহন করেন। এমনকি কলেজ ছাত্ররা তাদের উৎসবের টাকা দিয়ে রোগীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালান।

দায় এড়াতে পারে না রাজনীতি

তবে এইসব মানবিকতার আড়ালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক গভীর সত্য— বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধ্বংস আজ পরিকল্পিত।

ডা. আহমেদ জুবায়ের স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
“ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না করে প্রশ্ন করুন— কেন দেশের এমপি-মন্ত্রীদের কেউ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয় না? কেন তাদের পরিবার-পরিজন বিদেশে চিকিৎসা নেয়, অথচ আপনাদের সন্তানকে সরকারি হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়?”

হাতুড়ে চিকিৎসক আর ভাঙা সিস্টেম

দেশে ডেঙ্গু রোগীকে স্টেরয়েড ও ব্যথার ওষুধ দিয়ে মারাত্মক অপচিকিৎসা করা হচ্ছে হাতুড়ে ডাক্তারদের মাধ্যমে। অথচ এসব হাতুড়ে ক্লিনিকগুলো চালু থাকে প্রশাসনের আশীর্বাদে। রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায়ভার কারা নেবে?

রাজনৈতিক দায়

স্বাস্থ্যখাতে ভাঙন এসেছে বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি আর রাজনৈতিক উদাসীনতার কারণে। যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন তারা নিজেদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন, অথচ দেশের সাধারণ মানুষকে ফেলে রেখেছেন অবহেলায়।

আজ দেশের ডাক্তাররা প্রতিদিন নিজেদের রক্ত, টাকা, শ্রম দিয়ে রোগী বাঁচাচ্ছেন, অথচ রাজনীতিবিদরা তাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায় এড়াচ্ছেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের আসল সংকট ডাক্তার নয়, সিস্টেম। আর এই সিস্টেমকে অকার্যকর ও দুর্বল করে রেখেছে রাজনীতি।

যেদিন এই দেশের জনগণ তাদের এমপি-মন্ত্রীদের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করতে পারবে, সেদিন থেকে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার আসল সংস্কার শুরু হবে। তার আগে নয়।


More News Of This Category
bdit.com.bd