• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও কাস্টমস দেশের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এবং শত শত আমদানি-রপ্তানির চালান এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ, পূর্বে চালু থাকা কিছু স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্পট ট্যাক্স বন্ধ—কেন? স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে পণ্য জব্দ, জটিলতা কিংবা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন— স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থা কেন বন্ধ? এটি কি কোনো নতুন সরকারি নীতির অংশ, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? যদি নতুন নিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা জনসাধারণকে কেন স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি? রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার কার? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। উন্নয়নের ছোঁয়া কোথায়? বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী সীমান্তবন্দর হলেও অনেক যাত্রীর অভিযোগ, যাত্রীসেবার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিযোগ রয়েছে— লাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষা। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। তথ্যকেন্দ্র ও নির্দেশনামূলক সাইনেজ অপ্রতুল। আধুনিক যাত্রীবান্ধব অবকাঠামোর ঘাটতি। অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা দুর্বল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার। যাত্রীর অভিজ্ঞতা: কেনাকাটার পর লাগেজ হয়রানির অভিযোগ সম্প্রতি এক যাত্রী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি ভারত সফরে গিয়ে প্রায় ১১,৬৯৩ ভারতীয় রুপির গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের কিছু পণ্য কেনেন। এর সঙ্গে ছিল কয়েকটি শাড়ি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তে কেনাকাটার রসিদ প্রদর্শনের পর কোনো জটিলতা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের পর তার সব লাগেজ খুলে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পরে শাড়ি নিয়ে আপত্তি তুলে কয়েকটি শাড়ি জব্দ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রীরা যদি নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা না পান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যাত্রীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যাত্রীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এখন আলোচনায় এসেছে— বর্তমান ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী কতটি শাড়ি বা কী পরিমাণ পণ্য বৈধভাবে আনতে পারবেন? ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য এবং বাণিজ্যিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কি দৃশ্যমানভাবে চেকপোস্টে প্রদর্শন করা হয়েছে? কাস্টমস কর্মকর্তারা কি একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করছেন? জব্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি সচেতন নাগরিকদের মতে, যাত্রীদের সঙ্গে কাস্টমসের সম্পর্ক হওয়া উচিত সেবামূলক ও আইনসম্মত। এজন্য তারা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন— ব্যাগেজ রুলস বাংলা ও ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন। কোন পণ্যে কত শুল্ক বা কর প্রযোজ্য—তার তালিকা প্রকাশ। ডিজিটাল রসিদ ও অনলাইন শুল্ক পরিশোধ ব্যবস্থা চালু। অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। যাত্রীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাশা এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো মূলত যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। উপসংহার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট শুধু একটি সীমান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশের ভাবমূর্তির অন্যতম প্রবেশদ্বার। তাই রাজস্ব আদায়, যাত্রীসেবা, আইন প্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা—সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। যাত্রীদের হয়রানি কমিয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও স্বচ্ছ কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)

রামকৃষ্ণ তালুকদার বিশেষ প্রতিনিধিঃ / ১০৮ Time View
Update : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

 

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)

রামকৃষ্ণ তালুকদার বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের অভিভাবক ও সন্মানীত বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিলেট বিভাগ, সিলেট ডা. মো. আনিসুর রহমান গতকাল সোমবার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ইসিসিডি (ECCD) প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্লে সেশনে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের রোল-প্লে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সন্মানীত সহকারী পরিচালক ডা. মো. নূরে আলম শামীম, সন্মানীত সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস, সন্মানীত ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল, ইউনিসেফের মাইসিন অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য সন্মানীত অতিথিবৃন্দ।
পরিদর্শন উপলক্ষে সন্মানীত বিভাগীয় পরিচালকসহ আগত সকল অতিথিবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অভিভাবক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন।


More News Of This Category

বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও কাস্টমস দেশের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এবং শত শত আমদানি-রপ্তানির চালান এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ, পূর্বে চালু থাকা কিছু স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্পট ট্যাক্স বন্ধ—কেন? স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে পণ্য জব্দ, জটিলতা কিংবা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন— স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থা কেন বন্ধ? এটি কি কোনো নতুন সরকারি নীতির অংশ, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? যদি নতুন নিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা জনসাধারণকে কেন স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি? রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার কার? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। উন্নয়নের ছোঁয়া কোথায়? বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী সীমান্তবন্দর হলেও অনেক যাত্রীর অভিযোগ, যাত্রীসেবার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিযোগ রয়েছে— লাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষা। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। তথ্যকেন্দ্র ও নির্দেশনামূলক সাইনেজ অপ্রতুল। আধুনিক যাত্রীবান্ধব অবকাঠামোর ঘাটতি। অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা দুর্বল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার। যাত্রীর অভিজ্ঞতা: কেনাকাটার পর লাগেজ হয়রানির অভিযোগ সম্প্রতি এক যাত্রী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি ভারত সফরে গিয়ে প্রায় ১১,৬৯৩ ভারতীয় রুপির গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের কিছু পণ্য কেনেন। এর সঙ্গে ছিল কয়েকটি শাড়ি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তে কেনাকাটার রসিদ প্রদর্শনের পর কোনো জটিলতা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের পর তার সব লাগেজ খুলে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পরে শাড়ি নিয়ে আপত্তি তুলে কয়েকটি শাড়ি জব্দ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রীরা যদি নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা না পান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যাত্রীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যাত্রীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এখন আলোচনায় এসেছে— বর্তমান ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী কতটি শাড়ি বা কী পরিমাণ পণ্য বৈধভাবে আনতে পারবেন? ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য এবং বাণিজ্যিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কি দৃশ্যমানভাবে চেকপোস্টে প্রদর্শন করা হয়েছে? কাস্টমস কর্মকর্তারা কি একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করছেন? জব্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি সচেতন নাগরিকদের মতে, যাত্রীদের সঙ্গে কাস্টমসের সম্পর্ক হওয়া উচিত সেবামূলক ও আইনসম্মত। এজন্য তারা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন— ব্যাগেজ রুলস বাংলা ও ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন। কোন পণ্যে কত শুল্ক বা কর প্রযোজ্য—তার তালিকা প্রকাশ। ডিজিটাল রসিদ ও অনলাইন শুল্ক পরিশোধ ব্যবস্থা চালু। অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। যাত্রীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাশা এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো মূলত যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। উপসংহার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট শুধু একটি সীমান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশের ভাবমূর্তির অন্যতম প্রবেশদ্বার। তাই রাজস্ব আদায়, যাত্রীসেবা, আইন প্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা—সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। যাত্রীদের হয়রানি কমিয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও স্বচ্ছ কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের লক্ষ্য।

bdit.com.bd