• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ কলাতলীতে নির্মাণাধীন ‘পালং অপ প্যানোয়া’ হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টের অভিযোগ; নগদ ১ লাখ টাকা লুটের দাবি মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’ জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে হত্যার হুমকি, থানায় ইমির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নোবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবীনবরণ নবীনদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির কথিত অডিও ঘিরে তীব্র প্রশ্ন ‘দেশের সব পুলিশ আওয়ামী লীগের পক্ষে’, ‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ সহযোগিতা করবে’—কথিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দাবি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য— ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃত্ব, এরপর শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহরের কালাইঘর এলাকার একটি বাসায় সিগারেটের আগুনে শামিম পারভেজ বাদল দগ্ধ সর্ব স্তরের মানুষের নিকট সুন্দর ও সহজভাবে কোরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের মহতী উদ্যোগ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক ও এনক্রিপটেড যোগাযোগ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে; ৩৩২ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৬১ Time View
Update : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক ও এনক্রিপটেড যোগাযোগ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে; ৩৩২ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিবেদন | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেছেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে তৈরি করেছে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি এবং ডিজিটাল চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করছে। ফলে প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ তদন্তে বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ শনাক্ত, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ এবং কার্যকর তদন্ত পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের অন্যতম অপরিহার্য অংশ।

প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, এই কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মাঠ পর্যায়ের অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি কার্যকরভাবে অন্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, তাহলে দেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তে দক্ষ তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইজিপি এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ উপকরণ ও প্রশিক্ষণ মডিউলগুলো সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মোঃ ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মোঃ একরামুল হাবিব। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছাঃ শেহেলা পারভীন ‘সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল’ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের অনুষদ সদস্য এবং বিভিন্ন রিসোর্স পার্সনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর কাজী মোঃ ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ দশ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তে নিয়োজিত তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং অপরাধীদের কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং অনলাইনভিত্তিক অপরাধের তদন্তে প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি হলে ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর


More News Of This Category
bdit.com.bd