• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা টিটু খন্দকার বহাল তবিয়তে! অভিযোগের পরও কেন অক্ষত প্রভাব বলয়? শাহবাগের ফ্ল্যাটে কথিত বৈঠক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে অর্থ সহায়তার অভিযোগ—নীরব কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১৫৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা টিটু খন্দকার বহাল তবিয়তে!

অভিযোগের পরও কেন অক্ষত প্রভাব বলয়? শাহবাগের ফ্ল্যাটে কথিত বৈঠক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে অর্থ সহায়তার অভিযোগ—নীরব কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে ওয়াদুদ খন্দকার টিটু নামে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কথিত সম্পৃক্ততা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, সাবেক ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ওয়াদুদ খন্দকার টিটু বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি তৎকালীন সংসদ সদস্য হাফিজ মল্লিকের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ও প্রচার-প্রচারণায়ও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, সাবেক বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান রাজিব তালুকদারের সঙ্গেও টিটু খন্দকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এসব রাজনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় কলসকাঠী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় তার একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কোনো ব্যক্তিকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী বা আইনভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কেন আলোচনায় টিটু?

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা চলছে, তখন কলসকাঠীর টিটু খন্দকারকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অনেকেই বর্তমানে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকলেও টিটু খন্দকার এখনও এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে, সেগুলো নিয়ে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত অনুসন্ধান হয়েছে কি না।

স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, কারও রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে যদি আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে দল-মত নির্বিশেষে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

শাহবাগের ফ্ল্যাটে কথিত গোপন বৈঠক

টিটু খন্দকারকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় তার একটি ফ্ল্যাটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথিত গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি।

একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও ওই ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগ ও বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রটির দাবি।

তবে এসব বৈঠকের তারিখ, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়, আলোচনার বিষয়বস্তু কিংবা কোনো লিখিত বা অডিও-ভিডিও প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তার অভিযোগ

টিটু খন্দকারের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ উঠেছে—ঢাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কথিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার।

বিশেষ সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে টিটু খন্দকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে কার কাছে, কখন, কী পরিমাণ অর্থ এবং কী মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ কারণে এই অভিযোগকেও নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, তদন্তের দাবি থাকা অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, যদি আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে ব্যাংকিং লেনদেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ

টিটু খন্দকারের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অনেকেই বর্তমানে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাই না হলে ভবিষ্যতে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তাদের দাবি, টিটু খন্দকারের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, বর্তমান যোগাযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।

একাধিক নেতা বলেন, কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তাকে দায়মুক্ত করার ব্যবস্থা—দুই ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

‘বিএনপি আমার কিছুই করতে পারবে না’—কথিত মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা

টিটু খন্দকারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে তার নামে প্রচারিত একটি কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাকে এমন বক্তব্য দিতে শোনা গেছে—“পারলে আমার কিছু করতে বলিস, তোর বিএনপি আমার কিছুই করতে পারবে না।”

তবে এই বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য অডিও বা ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় এর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তারপরও বক্তব্যটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, বক্তব্যটি সত্য হয়ে থাকলে এটি স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার আত্মবিশ্বাস ও প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, টিটু খন্দকার যদি এমন কোনো বক্তব্য দিয়ে না থাকেন, তাহলে তারও প্রকাশ্যে বিষয়টি পরিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে টিটু খন্দকারের বক্তব্য কী?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ওয়াদুদ খন্দকার টিটুর বক্তব্য জানতে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমেও তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য, ব্যাখ্যা কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

‘প্রভাবশালী’ হওয়ার পেছনে কারা?

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—টিটু খন্দকার যদি সত্যিই এতটা প্রভাবশালী হয়ে থাকেন, তাহলে সেই প্রভাবের উৎস কোথায়?

কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগই তাকে এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে।

আবার অন্য একটি পক্ষের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের কারণেই তার প্রভাব তৈরি হয়েছে; শুধু দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

অর্থাৎ টিটু খন্দকারের কথিত প্রভাব বলয়ের প্রকৃত চিত্র জানতে হলে তার রাজনৈতিক ইতিহাস, নির্বাচনী ভূমিকা, ব্যবসায়িক বা সামাজিক যোগাযোগ এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড—সবকিছু যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর?

স্থানীয়দের একটি অংশের প্রশ্ন, গুরুতর অভিযোগগুলো যদি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো অনুসন্ধান হয়েছে কি না।

বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বা আর্থিক সহায়তার অভিযোগ থাকলে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে না দেখে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকেও যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে একই সঙ্গে এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ অপরিহার্য।

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তদন্তেই বেরিয়ে আসুক সত্য

টিটু খন্দকারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, কথিত প্রভাব বলয়, রাজধানীতে কথিত বৈঠক এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহযোগিতার অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

কিন্তু প্রশ্ন ওঠা আর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের দাবি—অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে টিটু খন্দকারকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় পরিচয়ের কারণে যেন কোনো ব্যক্তি তদন্তের বাইরে না থাকেন—এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

শেষ প্রশ্ন—কেন অক্ষত প্রভাব বলয়?

কলসকাঠীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—টিটু খন্দকারের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ও আলোচনা থাকার পরও তার কথিত প্রভাব বলয় কীভাবে অক্ষত রয়েছে?

তিনি কি সত্যিই কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, নাকি স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে?

শাহবাগের ফ্ল্যাটে কথিত বৈঠকের অভিযোগের পেছনে বাস্তব কোনো প্রমাণ আছে কি না?

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তার অভিযোগের সত্যতা কী?

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তার নামে প্রচারিত কথিত বক্তব্যের সত্যতা কতটুকু?

এসব প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্তে।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এখানেই শেষ নয়। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ওয়াদুদ খন্দকার টিটুর বক্তব্য পাওয়া গেলে তার বক্তব্যও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশের সুযোগ থাকবে।

প্রতিবেদন: অনুসন্ধানী ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
The Voice of People | জনতার কণ্ঠস্বর


More News Of This Category
bdit.com.bd