৮ জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
মিডিয়া ট্রায়ালে বলির পাঁঠা একজন রাজপথের সৈনিক: ওসি সাইফুলের নারী কেলেঙ্কারির আড়ালে ছাত্রদল নেতা সনিকে বহিষ্কার
৩০ জুন ২০২৫। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি রেস্ট হাউজ ‘কপোতাক্ষ’-এ এক নাটকীয় রাত।
সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করেন এক নারীর সঙ্গে, যাকে পরিচয় দেন “স্ত্রী” হিসেবে। সরকারি বরাদ্দের কক্ষে অবস্থান নিয়ে শুরু হয় এক গোপন পর্ব—যেটি আর গোপন থাকেনি।
সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় ওসি ও ওই নারী প্রবেশ করছেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়দের অনুরোধে সেখানে উপস্থিত হন যশোর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন সনি। দলের কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি যাচাই করেন ওসির পরিচয়। এরপর পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দেন: ওই নারীকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দেন, আর ওসিকে সম্মানজনকভাবে সামনে দিয়ে যেতে দেন।
কিন্তু এরপরই শুরু হয় পরিকল্পিত ট্রলিং ও মিডিয়া ট্রায়াল। সিসিটিভি ক্লিপের ভিন্নমুখী ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। সনির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে চাঁদাবাজি ও হামলার, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল না, এমনকি দল থেকেও কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি।
সনিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অথচ—
এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অনেক ত্যাগী কর্মী মুখ খুলেছেন।
ছাত্রদল নেতা মিরাজ সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন:
“দলের সেই দুঃসময়ে—যখন রাজপথ ফাঁকা, আন্দোলনের মিছিলেও লোক পাওয়া যেত না—তখন বুক চিতিয়ে ব্যানার ধরেছেন সনি ভাই। এখন সামান্য একটা ভাইরাল ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বহিষ্কার করা হলো, কোনো তদন্ত ছাড়াই! এটা কি ন্যায়বিচার?”
তিনি আরও লেখেন:
“আমরা জানি, দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থাশীল। কিন্তু যে নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর গুম-খুন-হামলার মধ্যে থেকেও রাজপথে থেকেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্তত তদন্ত প্রক্রিয়া তো প্রাপ্য?”
➡️ ওসি সাইফুল ইসলাম, যিনি সরকারি রেস্ট হাউজে নারীসঙ্গ নিয়ে ধরা পড়েছেন, তার বিরুদ্ধে আজও নেই কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
➡️ অন্যদিকে, গোলাম হোসেন সনি, যিনি জনস্বার্থে যাচাই করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে যান, তাকে দল থেকেই বের করে দেওয়া হয়েছে।
এ যেন সেই পুরনো বাংলাদেশ:
“অপরাধ করলে ক্ষমতা বাঁচায়, কিন্তু প্রশ্ন তুললে তুমি শত্রু।”
আমরা মনে করি, এই ঘটনাটি যেন আরেকটি “ভাইরাল গসিপ” হয়ে হারিয়ে না যায়। বরং এটি হওয়া উচিত এক নীতিগত জাগরণের উপলক্ষ।
🔹 ওসি সাইফুলের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার ও অনৈতিক আচরণের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।
🔹 গোলাম হোসেন সনির বহিষ্কার আদেশ বাতিল করে পূর্ণ মর্যাদায় তাকে দলে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
🔹 ছাত্রদলসহ সব সংগঠনের উচিত—মিডিয়া ট্রায়ালের নয়, সত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
গোলাম হোসেন সনি কোনো অপরাধী নন—তিনি ছিলেন সতর্ক, সাহসী, সচেতন। তার এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নির্ধারণ করবে—একটা দল কতটা সত্যনিষ্ঠ, আর কতটা মিডিয়া-পরাধীন।
সনি হয়তো আজ বিচারের অপেক্ষায়।
কিন্তু কাল ইতিহাস বলবে—সে ছিল একজন সত্যানুসন্ধানী সৈনিক, যার অপরাধ ছিল একটাই: সে প্রশ্ন তুলেছিল।
সম্পাদক, Daily Prothom Bangladesh
“With the Truth, With Bangladesh”