• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট নারীর মেসেঞ্জারে পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানোর অভিযোগ মোঃ দিদারের বিরুদ্ধে, সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা, মালিকানা ও ট্রাস্ট নিয়ে পুরোনো বিরোধ: ২০১৪ সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে একাধিক গুরুতর অসংগতি ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বন্ধে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদক-সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে ফখরুল ইসলাম এমপির আহ্বান হাতিয়ায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: যুব র‍্যালি, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৮ মামলার বাধা পেরিয়ে এবার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশায় দুলাল সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: এমপি নূরুল ইসলাম নয়ন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ: ২৪ ঘণ্টার আইনি আলটিমেটাম, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে সতর্ক করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী

মিডিয়া ট্রায়ালে বলির পাঁঠা একজন রাজপথের সৈনিক: ওসি সাইফুলের নারী কেলেঙ্কারির আড়ালে ছাত্রদল নেতা সনিকে বহিষ্কার

Reporter Name / ১৬২৪ Time View
Update : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫

৮ জুলাই ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ


মিডিয়া ট্রায়ালে বলির পাঁঠা একজন রাজপথের সৈনিক: ওসি সাইফুলের নারী কেলেঙ্কারির আড়ালে ছাত্রদল নেতা সনিকে বহিষ্কার


৩০ জুন ২০২৫। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি রেস্ট হাউজ ‘কপোতাক্ষ’-এ এক নাটকীয় রাত।
সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করেন এক নারীর সঙ্গে, যাকে পরিচয় দেন “স্ত্রী” হিসেবে। সরকারি বরাদ্দের কক্ষে অবস্থান নিয়ে শুরু হয় এক গোপন পর্ব—যেটি আর গোপন থাকেনি।

ফুটেজ ফাঁস: ধরা পড়ে ওসির নারীসঙ্গ

সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় ওসি ও ওই নারী প্রবেশ করছেন। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়দের অনুরোধে সেখানে উপস্থিত হন যশোর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন সনি। দলের কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি যাচাই করেন ওসির পরিচয়। এরপর পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দেন: ওই নারীকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দেন, আর ওসিকে সম্মানজনকভাবে সামনে দিয়ে যেতে দেন।

অভিযোগের মোড়: সনিকে বানানো হলো অপরাধী

কিন্তু এরপরই শুরু হয় পরিকল্পিত ট্রলিং ও মিডিয়া ট্রায়াল। সিসিটিভি ক্লিপের ভিন্নমুখী ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। সনির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে চাঁদাবাজি ও হামলার, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল না, এমনকি দল থেকেও কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি।

বহিষ্কার আদেশ: তদন্ত ছাড়াই চরম সিদ্ধান্ত

সনিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অথচ—

  • তাকে ডেকে কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি,
  • তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি,
  • এবং অভিযোগকারীর পক্ষ থেকেও কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না।

এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অনেক ত্যাগী কর্মী মুখ খুলেছেন।


একজন সহযোদ্ধার আহ্বান: “সত্যের বিচার চাই, মিডিয়া নয়!”

ছাত্রদল নেতা মিরাজ সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন:

“দলের সেই দুঃসময়ে—যখন রাজপথ ফাঁকা, আন্দোলনের মিছিলেও লোক পাওয়া যেত না—তখন বুক চিতিয়ে ব্যানার ধরেছেন সনি ভাই। এখন সামান্য একটা ভাইরাল ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বহিষ্কার করা হলো, কোনো তদন্ত ছাড়াই! এটা কি ন্যায়বিচার?”

তিনি আরও লেখেন:

“আমরা জানি, দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থাশীল। কিন্তু যে নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর গুম-খুন-হামলার মধ্যে থেকেও রাজপথে থেকেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্তত তদন্ত প্রক্রিয়া তো প্রাপ্য?”


কেন প্রশ্ন তুলছে সবাই: কে অপরাধী, আর কে বলির পাঁঠা?

➡️ ওসি সাইফুল ইসলাম, যিনি সরকারি রেস্ট হাউজে নারীসঙ্গ নিয়ে ধরা পড়েছেন, তার বিরুদ্ধে আজও নেই কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
➡️ অন্যদিকে, গোলাম হোসেন সনি, যিনি জনস্বার্থে যাচাই করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে যান, তাকে দল থেকেই বের করে দেওয়া হয়েছে।

এ যেন সেই পুরনো বাংলাদেশ:
“অপরাধ করলে ক্ষমতা বাঁচায়, কিন্তু প্রশ্ন তুললে তুমি শত্রু।”


আমরা তদন্ত চাই না—আমরা বিচার চাই

আমরা মনে করি, এই ঘটনাটি যেন আরেকটি “ভাইরাল গসিপ” হয়ে হারিয়ে না যায়। বরং এটি হওয়া উচিত এক নীতিগত জাগরণের উপলক্ষ।

🔹 ওসি সাইফুলের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার ও অনৈতিক আচরণের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।
🔹 গোলাম হোসেন সনির বহিষ্কার আদেশ বাতিল করে পূর্ণ মর্যাদায় তাকে দলে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
🔹 ছাত্রদলসহ সব সংগঠনের উচিত—মিডিয়া ট্রায়ালের নয়, সত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।


🕊️ শেষ কথায়: প্রশ্ন করা যদি অপরাধ হয়, তবে দলের ভেতরে ন্যায়বিচারের জায়গা কোথায়?

গোলাম হোসেন সনি কোনো অপরাধী নন—তিনি ছিলেন সতর্ক, সাহসী, সচেতন। তার এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নির্ধারণ করবে—একটা দল কতটা সত্যনিষ্ঠ, আর কতটা মিডিয়া-পরাধীন।

সনি হয়তো আজ বিচারের অপেক্ষায়।
কিন্তু কাল ইতিহাস বলবে—সে ছিল একজন সত্যানুসন্ধানী সৈনিক, যার অপরাধ ছিল একটাই: সে প্রশ্ন তুলেছিল।


সম্পাদক, Daily Prothom Bangladesh
“With the Truth, With Bangladesh”


 


More News Of This Category
bdit.com.bd