• রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বেনাপোল পৌর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মেয়র পদে প্রার্থী হতে প্রস্তুত শাহাবুদ্দিন শিহাব, জনগণের রায়ের অপেক্ষায় উল্লাপাড়ায় ইফতার মাহফিলে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামিউল ইসলাম সামিরের আত্মপ্রকাশ

মানিকগঞ্জের নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি — দরিদ্র ঘরের মেয়ে থেকে অন্ধকার জগতে প্রবেশ: এক পর্ন তারকার জীবনগল্প

Reporter Name / ১৩৩৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

 

মানিকগঞ্জের নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি — দরিদ্র ঘরের মেয়ে থেকে অন্ধকার জগতে প্রবেশ: এক পর্ন তারকার জীবনগল্প

অপরাধ ডেস্ক রিপোর্ট :

মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি দরিদ্র এক জেলে পরিবারের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই আর্থিক কষ্টে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর শিক্ষাজীবন থেমে যায় খুব অল্প বয়সেই। ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করা হয়নি। ইচ্ছে ছিল বি এ পাশ করে কিছু একটা করা, কিন্তু গরিব ঘরে জন্ম নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা যেন অপরাধ। বয়স কম হলেও শরীর-সৌষ্ঠবের কারণে তাকে দেখতে বড় লাগত, যা পরবর্তীতে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অল্প বয়সেই পরিবারের চাপে পাশের গ্রামের এক দিনমজুর ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর সংসার জীবন সুখের হয়নি। স্বামীর সঙ্গে মানিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে, মানসিক কষ্টেও ছিলেন দীর্ঘ সাত বছর। অবশেষে নিজেই তালাকের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পরিবার তা মেনে নেয়নি, উল্টো দোষারোপ করে। এক পর্যায়ে বৃষ্টি সিদ্ধান্ত নেন ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করবেন।

ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নিলেও সেখানে তাকে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত অনেকেই খারাপ প্রস্তাব দিত। একাধিক গার্মেন্টস পরিবর্তন করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। জীবনের এই সময়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের এক যুবক আজিমের। আজিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে দুজনে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর আজিম তাকে বোঝায়, যদি তারা দুজন মিলে একটি নির্দিষ্ট জগতে কাজ করে তাহলে অল্প সময়েই অনেক অর্থ উপার্জন করা যাবে। শুরুতে বৃষ্টি ভেবেছিলেন এটি স্বাভাবিক কাজ, কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি অন্ধকার দুনিয়ায় পা রাখেন। আর্থিক প্রলোভন ও স্বামীর প্ররোচনায় তিনি পর্ন জগতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দারিদ্র্য ও প্রতারণার কারণে ভুল পথে পা রেখেছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি এবং তার সহযোগীরা বর্তমানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশে পর্নগ্রাফি বা এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি ও সমাজবিরোধী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সমাজে যেন এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং নিরাপত্তাহীনতা অনেক নারীকে ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শাস্তির পাশাপাশি পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন, যাতে কোনো নারী আর প্রলোভনের ফাঁদে না পড়ে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহল বলছে, যদি নাদিয়া আক্তার বৃষ্টির মতো মেয়েদের জন্য বিকল্প জীবিকা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকত তবে হয়তো এমন পরিণতি এড়ানো যেত।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd