মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা
রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’
রাজশাহী প্রতিনিধি
মাদক ব্যবসা, চুরি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য এবং সাবেক ছাত্রনেতা আলিফ নুর ই জিহাদি টিপু।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজশাহীর সাধুর মোড় এলাকায় একটি দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
টিপুর অভিযোগ, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং চুরি ও মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
টিপু বলেন, তারিকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ‘Tarique Rahman’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বাসায় ফেরার পথে তারিক নামে এক ব্যক্তি তার চলাচলের পথ রোধ করে হুমকি দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন টিপু। এরপর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতেই তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
টিপু বলেন, “আমি যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতাম, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকত। আমার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হোক। দলের নেতৃবৃন্দের কাছেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।
তারিকের বিরুদ্ধে টিপুর উত্থাপিত অভিযোগ
টিপু তার বক্তব্যে তারিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও উত্থাপন করেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া নিজেকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ পরিচয় দিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার তৎকালীন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে মামলা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন টিপু। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টিপুর আরও দাবি, মতিহার থানা এলাকার একটি মসজিদের অর্থ চুরির অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। টিকাপাড়া এলাকায় নারীদের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগেও স্থানীয়দের সঙ্গে তার বিরোধের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া রাজশাহী নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এক তরুণীকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মাদকসহ ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল বলেও অভিযোগ করেন টিপু।
তারিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি নিজেকে রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং নগরীর বিভিন্ন থানায় মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা থাকার দাবিও করেন টিপু।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা কী এবং এসব ঘটনায় কারও সাজা হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করার মতো নথি এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত’
টিপু বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার কেউ নির্দোষ হলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোও অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। তাই আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার অব্যাহত থাকলে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তার ভাষ্য, “আমি তারিকের কথিত অপকর্মের প্রতিবাদ করে কি অন্যায় করেছি—সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলের কাছে এ প্রশ্ন রাখতে চাই। অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে যদি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়, তাহলে সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।”
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা সত্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুন। যারা অপরাধে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী হতে পারে
আইনগতভাবে কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চুরি, ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী বা দোষী বলা যায় না। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত, প্রয়োজন হলে মামলা, গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়া হতে পারে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় ধরনের শাস্তি হতে পারে।

অন্যদিকে, কারও বিরুদ্ধে জেনেশুনে মিথ্যা অভিযোগ, মানহানিকর বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন অভিযোগে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে এবং কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, তা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি, প্রমাণ ও তদন্তের ফলাফলের ওপর।
টিপুর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত তারিকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।