যশোর প্রতিনিধি
যশোর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ব্যাপক বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার নয়টি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে একযোগে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী জেলার মোট ৪৩টি স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। পুলিশের এ বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়েছে। তল্লাশির সময় বিভিন্ন কারণে ৩৪টি মোটরসাইকেল আটক, ১২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনজন কিশোরকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান বিশেষ অভিযান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই, সন্দেহজনক চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। কিশোরদের একটি অংশ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়ায় তাদের গতিবিধি নজরদারি এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ মিরাজুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং নির্মূল এবং মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ ধরনের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিশেষ চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পুলিশের এই অভিযানকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকায় যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তবে আটক করা ৩৪টি মোটরসাইকেল ও দায়ের করা ১২টি মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং আটক তিন কিশোরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। ফলে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি না করে পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও কিশোরদের প্রতি নজরদারি ও ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিশোরদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পুলিশের চলমান অভিযানকে কার্যকর করতে সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের বার্তা— “মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি।”
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে যশোরে অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।