• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ কলাতলীতে নির্মাণাধীন ‘পালং অপ প্যানোয়া’ হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টের অভিযোগ; নগদ ১ লাখ টাকা লুটের দাবি মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’ জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে হত্যার হুমকি, থানায় ইমির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নোবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবীনবরণ নবীনদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির কথিত অডিও ঘিরে তীব্র প্রশ্ন ‘দেশের সব পুলিশ আওয়ামী লীগের পক্ষে’, ‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ সহযোগিতা করবে’—কথিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দাবি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য— ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃত্ব, এরপর শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহরের কালাইঘর এলাকার একটি বাসায় সিগারেটের আগুনে শামিম পারভেজ বাদল দগ্ধ সর্ব স্তরের মানুষের নিকট সুন্দর ও সহজভাবে কোরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের মহতী উদ্যোগ।

চাকরির নামে প্রতারণা, চেক বাণিজ্য ও কর্মচারী নির্যাতনের অভিযোগ—‘সিও’ এনজিওকে ঘিরে ফের প্রশ্ন হরিণাকুণ্ডু শাখায় ব্ল্যাংক চেকের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে শাখা সহকারী হিসাবরক্ষকের ওপর শারীরিক নির্যাতনের দাবি; ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনিক তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৩৮ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চাকরির নামে প্রতারণা, চেক বাণিজ্য ও কর্মচারী নির্যাতনের অভিযোগ—‘সিও’ এনজিওকে ঘিরে ফের প্রশ্ন

হরিণাকুণ্ডু শাখায় ব্ল্যাংক চেকের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে শাখা সহকারী হিসাবরক্ষকের ওপর শারীরিক নির্যাতনের দাবি; ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনিক তদন্তের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদহের চাকলাপাড়া, পুরাতন হাটখোলায় অবস্থিত বহুতল ভবনের প্রধান কার্যালয়কেন্দ্রিক ‘সিও’ এনজিওর কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব একজন কর্মচারী। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একটি শাখায় কর্মরত এক শাখা সহকারী হিসাবরক্ষককে ব্ল্যাংক চেক সংক্রান্ত শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ঘটনাটি কেবল একজন কর্মচারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নয়; এর সঙ্গে কর্মীদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ, ঋণ বা আর্থিক দায়-দায়িত্বকে কেন্দ্র করে চাপ প্রয়োগ এবং কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আচরণ—এসব বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণ সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কথিত নির্যাতনের ধরন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

এরই মধ্যে ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি যাতে প্রকাশ্যে না আসে সে জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা বা বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তবে এ ধরনের অভিযোগেরও স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

কর্মচারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রশ্ন উঠছে কর্মপরিবেশ নিয়ে

প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একটি শাখায় কর্মরত এক শাখা সহকারী হিসাবরক্ষক ব্ল্যাংক চেক সংক্রান্ত একটি শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন। এরপর তাকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং একপর্যায়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য, শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে চাপে রাখার পাশাপাশি চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। কারণ একজন কর্মচারী কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে; কিন্তু শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জোরপূর্বক কোনো নথিতে স্বাক্ষর করানো হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং আইনগতভাবে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

ব্ল্যাংক চেক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন

‘সিও’ এনজিওকে ঘিরে পূর্বে বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাংক চেক ব্যবহার, চেকের মাধ্যমে আর্থিক দায় সৃষ্টি এবং কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের কথা সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এখন নতুন করে একজন শাখা সহকারী হিসাবরক্ষকের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠছে—প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মীদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার নিয়ম বা প্রথা আদৌ রয়েছে কি না, থাকলে তার লিখিত নীতিমালা কী, এসব চেক কোথায় সংরক্ষণ করা হয় এবং কোনো কর্মচারীর চাকরির সঙ্গে এসব চেকের সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের মত হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের কাছ থেকে আর্থিক নিরাপত্তার নামে ব্ল্যাংক চেক নেওয়া হলে তার আইনগত ভিত্তি, ব্যবহারের পদ্ধতি ও হিসাব সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে ওই চেকের অপব্যবহার বা কর্মীকে আর্থিক ও আইনগত চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ কতটা সত্য?

‘সিও’ এনজিওকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ, চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ ওঠার দাবি করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে অতীতে প্রকাশিত সংবাদ, অভিযোগকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য, মামলা বা সাধারণ ডায়েরি, ব্যাংক লেনদেন, নিয়োগ সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের রেকর্ড পর্যালোচনা ছাড়া এ ধরনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা দাবি করা সমীচীন নয়।

তবে যদি একই ধরনের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি একই পদ্ধতির কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্যের সঙ্গে নথি, লেনদেন বা মামলার রেকর্ডের মিল পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি কোনো সাংগঠনিক পদ্ধতির অংশ—সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‘মানবসেবার’ প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিরাপত্তা কতটা?

একটি এনজিওর মূল উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের কল্যাণে কাজ করা, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কর্মীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মচারীর কোনো প্রশাসনিক বা আর্থিক ভুল থাকলে তার জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে কারণ দর্শানো, তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ সত্য হলে শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি হতে পারে না।

এই কারণেই হরিণাকুণ্ডুর কথিত ঘটনাটি শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রধান নির্বাহী পরিচালক সামছুল আলমকে ঘিরেও প্রশ্ন

‘সিও’ এনজিওর প্রধান নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সামছুল আলমের নাম বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে বলে প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহকালে দাবি করা হয়েছে। কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণ এবং আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে কি না, কিংবা সরকারি তদন্তে সত্যতা পেয়েছে কি না—তা নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

এ কারণে সামছুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন নথিভিত্তিক তদন্ত। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক হিসাব, অডিট প্রতিবেদন, কর্মচারীদের অভিযোগ, ব্যাংকিং কার্যক্রম, ঋণ বিতরণ ও আদায় প্রক্রিয়া, চেক ব্যবস্থাপনা এবং শাখাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি

অভিযোগগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও আয়ের উৎস নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তবে কারও সম্পদ বেড়েছে বা তিনি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন—এ ধরনের দাবি কেবল অনুমান বা জনশ্রুতির ভিত্তিতে করা যায় না।

তবে যদি অভিযোগের সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের নির্দিষ্ট নথি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনসম্মতভাবে আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট, ব্যাংক লেনদেন, কোম্পানি বা ব্যবসায়িক মালিকানা এবং অন্যান্য সরকারি রেকর্ড যাচাই করতে পারে।

বিশেষ করে গত কয়েক বছরের আয় ও সম্পদের পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রবাহ এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

হরিণাকুণ্ডুর কথিত নির্যাতনের ঘটনা সত্য হলে তার পেছনের কারণ কী ছিল, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কোনো ব্ল্যাংক চেক নেওয়া হয়েছিল কি না, চেকটির বর্তমান অবস্থান কোথায়, কোনো আর্থিক দাবি বা মামলা করা হয়েছে কি না, ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী চিকিৎসা নিয়েছেন কি না এবং ঘটনার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শাখার ক্যাশবুক, হিসাবরক্ষণ নথি, কর্মচারীর দায়িত্বপত্র, চেক রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক কাগজপত্রও তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে।

যদি কথিত নির্যাতনের কোনো ভিডিও, ছবি, চিকিৎসা সনদ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অডিও রেকর্ড, লিখিত অভিযোগ বা অন্য কোনো নথি থাকে, তাহলে সেগুলোও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ—তদন্ত ছাড়া সত্যতা মিলবে না

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে হলে কারা কীভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন, কোনো সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, ভুক্তভোগীকে কোথাও ডেকে নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কোনো লিখিত বা ডিজিটাল যোগাযোগ হয়েছে কি না—এসব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

যদি সত্যিই কোনো অভিযোগ প্রত্যাহার বা সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার জন্য চাপ প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটিও পৃথকভাবে তদন্তের দাবি রাখে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও যদি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই প্রতিষ্ঠানটিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তদন্ত, প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দায় নির্ধারণ করতে হবে।

তাই হরিণাকুণ্ডুর কথিত ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রয়োজনীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘সিও’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী?

এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ‘সিও’ এনজিওর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং প্রধান নির্বাহী পরিচালক সামছুল আলমের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো সত্য নয়, ঘটনার ভিন্ন কোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে, কিংবা ভুক্তভোগীর বক্তব্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নথির অসঙ্গতি রয়েছে—এমন কোনো তথ্য থাকলে তা প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

পরবর্তী অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত হবে

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ এই ঘটনাকে কেবল একটি অভিযোগ হিসেবে দেখে থেমে থাকতে চায় না। নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী অনুসন্ধানে ‘সিও’ এনজিওর নিয়োগ ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, ব্ল্যাংক চেক ব্যবহারের অভিযোগ, বিভিন্ন শাখার আর্থিক কার্যক্রম, কর্মীদের অভিযোগ, পূর্বের মামলা বা লিখিত অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অডিট ও প্রশাসনিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা হবে।

একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈধ আয়ের উৎস, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্পদের পরিবর্তন সম্পর্কেও আইনসম্মতভাবে যাচাইযোগ্য নথি পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা করা হবে।

নতুন কোনো নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ, আর্থিক রেকর্ড, চিকিৎসা নথি, মামলা বা একই ধরনের অভিযোগের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলো যাচাই করে পৃথক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

তবে গুজব, অনুমান কিংবা যাচাইহীন ব্যক্তিগত অভিযোগকে সংবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে না। কারণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার লক্ষ্য কাউকে আগেই অপরাধী বানানো নয়; বরং অভিযোগের পেছনে থাকা সত্য, নথি ও জবাবদিহির বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরা।

জনস্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

‘সিও’ এনজিওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য কি না—তার চূড়ান্ত উত্তর তদন্তেই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু একজন কর্মচারীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ফিরিয়ে দেওয়াও জরুরি।

জনগণের অর্থ, কর্মীদের অধিকার এবং একটি এনজিওর সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিকল্প নেই।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে। নতুন ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠকদের সামনে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd