• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বদলগাছীতে ভিপি সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, ৫ দিন পর আহত মাসুদ রাজশাহী মেডিকেলে মৃত্যু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ আসলামকে বিআইএফের ফুলেল শুভেচ্ছা দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ মাঠ পর্যায়ে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ, সমপরিমাণ অনুদান; উপজেলা পর্যায় থেকে উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার উদ্যোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দুই দিনের প্রশিক্ষণে ৩৮ হাজার ৮৪৭ পুলিশ সদস্য, পরে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ সদস্যকে দেওয়া হবে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে প্রশ্ন, নজরদারি কতটা কার্যকর? কেক, কোমল পানীয় ও দুধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ; পুরোনো আদালতের নথিতেও উঠে এসেছে খাদ্যমান নিয়ে উদ্বেগ বেনাপোল বন্দরে তিন ট্রাক পণ্য পাচার: দুই শেড ইনচার্জ বদলি হলেও কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ৪৪৪ প্যাকেজ উচ্চ শুল্কের ফেব্রিকসসহ পণ্য পাচারের ঘটনায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা, দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত; কাস্টমসের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ এশিয়ান গেমস উপলক্ষ্যে জাপান গমন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যশোরের কেশবপুর আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সভাকে ঘিরে উত্তেজনা, সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়ের অভিযোগ; তৃণমূলে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান ১,৭০০-এর বেশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার তল্লাশি, আটক ৩৪ মোটরসাইকেল; কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য আটক

বেনাপোল বন্দরে তিন ট্রাক পণ্য পাচার: দুই শেড ইনচার্জ বদলি হলেও কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ৪৪৪ প্যাকেজ উচ্চ শুল্কের ফেব্রিকসসহ পণ্য পাচারের ঘটনায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা, দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত; কাস্টমসের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ২৬ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

বেনাপোল বন্দরে তিন ট্রাক পণ্য পাচার: দুই শেড ইনচার্জ বদলি হলেও কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

৪৪৪ প্যাকেজ উচ্চ শুল্কের ফেব্রিকসসহ পণ্য পাচারের ঘটনায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা, দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত; কাস্টমসের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্যাগার থেকে তিনটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত পণ্য পাচারের অভিযোগে দুই শেড ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করা হলেও এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্যাগার থেকে তিনটি ট্রাকে ৪৪৪ প্যাকেজ উচ্চ শুল্কমূল্যের ফেব্রিকসসহ অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শেড ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ও রিপন কুমার দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করা হয়। অফিস আদেশটির স্মারক নম্বর ১৮.১৫.০০০০.০০০.০২০.১৯.০০১৬.১৭.৫৯২।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন অফিস আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনএসআইয়ের তথ্যের পর বন্দরের পদক্ষেপ

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত পণ্য চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০২০০৫৪৮১১। আমদানিকারক হিসেবে ঢাকার সঞ্জিত ইন্টারন্যাশনালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমদানিকারকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে পণ্য চালানটি রিসিভ করা হয়।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য চালানটি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে তিনটি ট্রাকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।

তবে একই ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, বন্দরের ভেতরে পণ্য চালান নিয়ন্ত্রণ ও পাচার ঠেকাতে কাস্টমসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে কেন প্রশ্ন

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কিছু আমদানিকৃত পণ্য চালান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শুল্কায়ন, যাচাই-বাছাই ও খালাস প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ শুল্কমূল্যের পণ্যে ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের অমিল, ওজনের গরমিল কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো চালান দ্রুত খালাসের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান, সহকারী কমিশনার তওফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পণ্য চালান খালাসে অনিয়ম বা অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালকে ঘিরে নানা অভিযোগ

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত পণ্য চালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালকে ঘিরেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সধারী মালিক মাগুরার হাফিজুর রহমান হ্যাপি নিয়মিতভাবে নিজে কার্যক্রম পরিচালনা না করে লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অন্যদের দিয়ে কাজ করান।

তবে লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স নথি, কার্যক্রমের রেকর্ড, পণ্য চালানের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স ব্যবহার করে একাধিক পণ্য চালানে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সের কার্যক্রমও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের মালিক হাফিজুর রহমান হ্যাপির সঙ্গে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শিখরের ঘনিষ্ঠতার কারণে পূর্ববর্তী সময়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা নিয়েছেন।

এছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন অজ্ঞাতনামা সচিবের নাম ব্যবহার করে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্য চালান খালাস নেওয়ারও অভিযোগ ও গুঞ্জন রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো ব্যক্তির নামের সঙ্গে অভিযোগকে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

এর আগেও প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালকে ঘিরে চালান আটকের ঘটনা

অভিযোগের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের ২৩ জুন ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজের নামে ১০ টন ৯০ কেজি খৈল আমদানি করা হয়। পরবর্তীতে ২৫ জুন সকালে বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়।

পুনরায় ওজন করার পর ঘোষিত ওজনের সঙ্গে গরমিল পাওয়া গেলে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এ ঘটনায় চালানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ঘোষিত ও প্রকৃত পণ্যের পরিমাণ এবং শুল্কায়নের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব তথ্য কাস্টমসের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

২০২৫ সালেও ফুড সাপ্লিমেন্ট চালান নিয়ে অভিযোগ

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুন মুন ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ১ হাজার ২২৬ দশমিক ২৫ কেজি ফুড সাপ্লিমেন্ট নামীয় পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়াই পণ্যটি আমদানি করা হয়েছিল।

চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৫১৩১৫ বলে সূত্র উল্লেখ করেছে।

এই চালানের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, পণ্যটি কীভাবে খালাস করা হয়, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ছিল কি না এবং কোনো রাজস্ব বা বিধিবদ্ধ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহলের অনেকে।

শুধু দুই শেড ইনচার্জের বদলিই কি যথেষ্ট?

সাম্প্রতিক তিন ট্রাক পণ্য পাচারের ঘটনায় দুই শেড ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, পণ্যাগার থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য কীভাবে বন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করে বের হওয়ার সুযোগ পেল।

পণ্য চালানের প্রবেশ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, ওজন, ডেলিভারি, গেট পাস, ট্রাক প্রবেশ ও বহির্গমন, কাস্টমস যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ কার্যক্রম—প্রতিটি ধাপের দায়িত্ব কার ওপর ছিল, তা তদন্তে নির্ধারণ করা জরুরি।

একটি বড় চালান তিনটি ট্রাকে করে বের হওয়ার সুযোগ পেলে সেখানে শুধু শেড পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নয়, পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নথিপত্রও পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্ব সুরক্ষায় কঠোর তদন্তের দাবি

বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় এখান দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে কোনো পণ্য চালানে শুল্ক ফাঁকি বা অনিয়ম হলে তা শুধু সরকারি রাজস্বের ক্ষতিই করে না, একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্যও অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তিন ট্রাক পণ্য পাচারের অভিযোগে দুই শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি পুরো ঘটনার শেকড় পর্যন্ত তদন্ত করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর কর্মকর্তা কিংবা কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পদমর্যাদা বা পরিচয় বিবেচনা না করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তাদের আরও দাবি, সাম্প্রতিক ও অতীতের যেসব পণ্য চালান নিয়ে শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের গরমিল, অনুমোদনবিহীন পণ্য আমদানি অথবা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নথি পুনরায় যাচাই করা হোক।

নীরবতা নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত

সাম্প্রতিক ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুই শেড ইনচার্জের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কাস্টমসের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের। তবে তদন্ত যদি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিকভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, বেনাপোল বন্দরের সাম্প্রতিক তিন ট্রাক পণ্য পাচারের ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ম্যানিফেস্ট, বিল অব এন্ট্রি, গেট পাস, শেড রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ, ট্রাক চলাচলের তথ্য এবং কাস্টমসের শুল্কায়ন নথি পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক।

একই সঙ্গে প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালসহ সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী চালানগুলোর কার্যক্রমও বিধি অনুযায়ী যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সরকারি রাজস্ব রক্ষা, বন্দরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বৈধ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অনিয়মের অভিযোগে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে। অভিযুক্ত বা অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা বা বক্তব্য হিসেবে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd