• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তুলকালাম: চিকিৎসক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে স্বজনদের পিটানোর অভিযোগ, বিচারের দাবিতে উত্তাল এলাকা

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট : / ১৬১ Time View
Update : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

 

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তুলকালাম: চিকিৎসক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে স্বজনদের পিটানোর অভিযোগ, বিচারের দাবিতে উত্তাল এলাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা | ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর বাবা ও স্বজনদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুজ্জামান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাঘা। বিক্ষুব্ধ জনতা ও রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। আহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে গেলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি এবং আউটডোরের অন্যান্য কর্মীরা মিলে রোগীর বাবাসহ অন্তত পাঁচজন স্বজনকে পিটিয়ে আহত করেন।

রণক্ষেত্রে পরিণত হাসপাতাল চত্বর
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সেরাজুল হক এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকের এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ কমেনি এলাকাবাসীর। পরে তারা হাসপাতালের সামনে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ডাঃ আসাদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের হাসপাতাল থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উপস্থিত থানা যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফী সাংবাদিকদের বলেন:

“ডাঃ আসাদ দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করে আসছেন। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এমন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বাঘাবাসী আর হাসপাতালে দেখতে চায় না।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ অনেকটা দায়সারাভাবে বলেন, “আমি ওই সময় চেম্বারে ছিলাম, পরে ঘটনাটি জেনেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”

অন্যদিকে, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সেরাজুল হক জানান, “আউটডোর স্টাফদের মাধ্যমে রোগীর স্বজনদের মারধরের বিষয়টি আমরা শুনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় এসেছেন। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জনমনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য শাস্তি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা এবং মারধরের ঘটনা প্রমাণ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুই ধরণের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে:

১. ফৌজদারি অপরাধের আওতায় শাস্তি: মারধরের ঘটনায় বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পেনাল কোডের (দণ্ডবিধি) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বেচ্ছায় আঘাত করা (ধারা ৩২৩): দোষী সাব্যস্ত হলে ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

মারাত্মক জখম (ধারা ৩২৪/৩২৬): যদি আঘাত গুরুতর হয়, তবে শাস্তির মেয়াদ ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।

২. বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা (সরকারি চাকরি বিধিমালা): মেডিকেল অফিসার ও স্টাফরা যেহেতু সরকারি কর্মচারী, তাই তাদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে:

অসদাচরণ (Misconduct): জনসেবার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হওয়া ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়। এর দায়ে অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) বা স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।

বিভাগীয় শাস্তি: অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের পদোন্নতি স্থগিত করা, বেতন বৃদ্ধি (Increment) বন্ধ করা অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিধান রয়েছে।

৩. বিএমডিসি সনদ বাতিল: বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (BM&DC) এর নীতিমালা অনুযায়ী, চিকিৎসকের নৈতিক স্খলন বা রোগীদের সাথে অপেশাদার আচরণের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিবন্ধিত সনদ (License) স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন যদি দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে আইন অমান্য ও জনরোষের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd