-৫ আগস্টেই শুরু হয় দখল, এক বছরেও ঘর ফেরত পায়নি অন্ধ মিজান:আওয়ামী পন্থী বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
আরমানীটোলা, ঢাকা | ১৪ জুলাই ২০২৫
৫ আগস্ট ২০২৪—যেদিন বাংলাদেশে এক যুগের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে, সেই ঐতিহাসিক দিনে এক অন্ধ মানুষের জীবনে নেমে আসে আরেক রকমের অন্ধকার।
আরমানীটোলার মোঃ মিজানুর রহমান—একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাগরিক—সেদিনই হারান তার জীবনের শেষ সম্বল, নিজের ভাড়াঘরের দখল।
আজ এক বছর পার হলেও তিনি বিচার পাননি।
ভুক্তভোগীর জবানবন্দি:
> “শেখ হাসিনা পতনের দিন দুপুরেই আমার চাচাতো ভাই আজমান মাহমুদুর রহমান ও আরিফুর রহমান নাদিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আমার ছয়টি ঘরের ভাড়াটিয়াদের বের করে দেয়। বলেছিল, ‘ক্ষমতা যার, জমি তার’। আজ এক বছর পরও আমি ঘর পাইনি। প্রশাসন চুপ, দল চুপ, মানুষও চুপ হয়ে যাচ্ছে।”
অভিযুক্তদের পরিচয়:
আজমান মাহমুদুর রহমান — বিএনপি, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
আরিফুর রহমান নাদিম — সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি
তারা স্থানীয়ভাবে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে চলছে। মিজানুর রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুই চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধা নিয়েছে, এখন বিএনপিতে ঢুকে পড়েছে — দুই দলের ছায়ায় রাজনৈতিক মাস্তানিতে সিদ্ধহস্ত এক শ্রেণির সুবিধাবাদী চরিত্র।
৫ আগস্টের বিজয় কি কেবল দলের ছিল, না মানুষেরও ছিল?
একজন অন্ধ মানুষ যখন এক বছর ধরে বাড়ি হারিয়ে ভিক্ষার মতো বিচার চায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—
এই পরিবর্তন কার জন্য? সাধারণ মানুষ কি আজও জুলুমের হাতেই বন্দি?
অভিযুক্তদের দখলকৃত সম্পত্তির তালিকা:
১. ছয়টি ভাড়াঘর
– মালিক: মোঃ মিজানুর রহমান (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী)
– সময়: ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দখল শুরু
– পদ্ধতি: ভাড়াটিয়াদের মালপত্র রাস্তায় ফেলে দিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে ঘর খালি করানো
– মন্তব্য: এখনও দখলে রয়েছে, ভুক্তভোগী ঘর ফেরত পাননি।
২. গোডাউন দখল
– মালিক: শাকিল আহমেদ (পিতা: মৃত শাহাবুদ্দিন)
– দখলের তারিখ: ২০ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ৩টা
– অপরাধের ধরন: ব্যবসায়িক মালপত্র লুটপাট করে গোডাউন দখল
– উদ্দেশ্য: স্থায়ীভাবে ব্যবসা দখল করে নেয়া ও ভাড়ার আয় দখল করা।
৩. প্যারালাইসিস রোগীর দোকান
– নাম প্রকাশ না করা হলেও স্থানীয়রা জানায়, এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির দোকান জোর করে দখল করে নেয়া হয়
– দোকানটিও এখন এই চক্রের দখলে।
৪. টং দোকান বসিয়ে জায়গা দখল
– স্থায়ী দোকানদার ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে নিজের লোকজন বসানো
– প্রতিদিন ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর সময় চাঁদাবাজি আদায়
– জায়গা ও রাস্তার দখল নিয়ে আর্থিক বাণিজ্য চলছে।
এই চারটি দখলের বিষয় প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইন অমান্য এবং দখলবাজির স্পষ্ট আলামত বহন করে।
-স্থানীয় জনতার প্রতিবাদ:
> “শেখ হাসিনার পতন দেখে যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম, এখন এই দখলবাজদের দম্ভ দেখে তেমনই লজ্জিত হচ্ছি। বিএনপি কি শুধু ক্ষমতা দখল করতেই এসেছিল, নাকি মানুষের পাশে দাঁড়াতে?”
দাবি তিনটি পরিষ্কার:
১. আজমান মাহমুদ ও আরিফ নাদিমকে দল থেকে বহিষ্কার করুন
২. দখল করা ঘর ফিরিয়ে দিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমানকে
৩. এই দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নিন — ৫ আগস্টের চেতনা রক্ষা করুন
মিজানুর রহমানের আকুতি: “একটা বছর কেটে গেল, চোখে দেখতে না পারলেও বুঝতে পারি—এই সরকারও কি আমার নয়?”
সম্পাদনায় ‘Daily Prothom Bangladesh’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।