নিজস্ব প্রতিবেদক, শার্শা-বেনাপোল
তৃণমূল ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে উঠে এসে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় শার্শা-বেনাপোলের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া তার রাজনৈতিক পথচলা পরবর্তী সময়ে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়। বর্তমানে তিনি শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে শার্শা-বেনাপোলের বিএনপির রাজনীতিতে নুরুজ্জামান লিটন একটি পরিচিত নাম হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছেন।
রাজনীতির মাঠে তার সমর্থকেরা তাকে কর্মীবান্ধব ও ত্যাগী নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, অসুস্থতা কিংবা ব্যক্তিগত সংকটের সময় অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, শার্শা উপজেলার ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে নুরুজ্জামান লিটনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ তাকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
নুরুজ্জামান লিটনের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান।
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে তৃণমূলের রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার পরিচয়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে শার্শা-বেনাপোলের রাজনীতিতেও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচিতে নুরুজ্জামান লিটনের উপস্থিতি ও সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান।
তার অনুসারীরা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে মাঠের কর্মীদের পাশে থাকা এবং তাদের মনোবল ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যক্তিগত ভূমিকা সম্পর্কে যেসব দাবি করা হয়, সেগুলোর প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন যাচাই সবসময় সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিএনপির রাজনীতিতে নুরুজ্জামান লিটন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল বলে প্রকাশ্যে তার রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।
দলীয় রাজনীতিতে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সাংগঠনিক ঐক্য, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে পরিচিতি ও সাংগঠনিক অবস্থানের পাশাপাশি নুরুজ্জামান লিটনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনাও রয়েছে। তার সমর্থকদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কখনো কখনো তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়।
অন্যদিকে কোনো অভিযোগ বা পাল্টা বক্তব্য থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণ যাচাই করে তা প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব। যাচাইহীন অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।
রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবি পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা একজন নেতার রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের ক্ষেত্রেও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব এবং বর্তমানে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতাই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান পরিচয়।
শার্শা-বেনাপোলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সমর্থকেরা তাকে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, কর্মীবান্ধব ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তুলে ধরছেন। সময়ের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততাই তার নেতৃত্বের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ জনতার কণ্ঠস্বর