• রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বেনাপোল পৌর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মেয়র পদে প্রার্থী হতে প্রস্তুত শাহাবুদ্দিন শিহাব, জনগণের রায়ের অপেক্ষায় উল্লাপাড়ায় ইফতার মাহফিলে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামিউল ইসলাম সামিরের আত্মপ্রকাশ

পবায় সন্ত্রাসী মুকুলের নিয়ন্ত্রণে ‘হিমালয় তামাক ফ্যাক্টরি’: কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জনজীবন বিপন্ন

পাভেল ইসলাম মিমুল / ১৪৭ Time View
Update : রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

পবায় সন্ত্রাসী মুকুলের নিয়ন্ত্রণে ‘হিমালয় তামাক ফ্যাক্টরি’: কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জনজীবন বিপন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, পবা |

রাজশাহীর পবা উপজেলার ঠাকুরমাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘হিমালয় তামাক ফ্যাক্টরি’ এখন এলাকার ত্রাসে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী মুকুলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে এবং কালো ছায়ায় এই বিষাক্ত তামাক ফ্যাক্টরিটি পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটিয়ে এবং রাষ্ট্রকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে এই অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সন্ত্রাসী দাপটে জিম্মি এলাকাবাসী
স্থানীয়দের অভিযোগ, তামাক ফ্যাক্টরিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মুকুলের একটি বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই মুকুল ও তার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়। ফলে এলাকাবাসী এক প্রকার প্রাণভয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তামাকের উৎকট গন্ধে পথচারী ও বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস উঠলেও এই সন্ত্রাসী বলয়ের কারণে কেউ আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পাচ্ছে।

কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমালয় তামাক ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত পণ্যের সিংহভাগই বাজারজাত করা হচ্ছে ভুয়া ব্যান্ডরোল বা ব্যান্ডরোল ছাড়াই। নিম্নমানের তামাক ব্যবহার করে তৈরি এসব পণ্য বিক্রি করে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর সরকারকে কোটি কোটি টাকার কর ফাঁকি দিচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি না থাকায় এই অর্থ চলে যাচ্ছে সন্ত্রাসী চক্রের পকেটে।

জনস্বাস্থ্যের চরম অবনতি
বিষাক্ত ধোঁয়া ও কেমিক্যালের মিশ্রণে এলাকাটি এখন ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত হয়েছে। এলাকায় যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও চর্মরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, “মুকুলের ভয়ে আমরা কথা বলতে পারি না, আবার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকাতেও থাকতে পারছি না। আমরা যেন নিজ দেশে পরবাসী।”

অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফ্যাক্টরি বন্ধের দাবি
সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি:

সন্ত্রাসী মুকুলকে অবিলম্বে গ্রেফতার: চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ কারখানা পরিচালনার দায়ে মুকুল ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

ফ্যাক্টরি সিলগালা: পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত এই তামাক ফ্যাক্টরি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত: শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে এই কারখানার হিসাব তদন্ত করে বকেয়া রাজস্ব আদায় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

জনজীবন অতিষ্ঠকারী এবং রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎকারী এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পবার পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

রাজশাহীর পবায় ‘হিমালয় তামাক ফ্যাক্টরি’কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অপরাধ ও আতঙ্কের সাম্রাজ্য। স্থানীয় প্রভাবশালী ও কথিত সন্ত্রাসী মুকুলের নিয়ন্ত্রণে চলা এই ফ্যাক্টরিটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি এবং সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকির মূল হোতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১. জঘন্য আচরণ ও সাংবাদিকদের হুমকি
অভিযোগ উঠেছে যে, মুকুল ও তার অনুসারীরা সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সাথে চরম অপেশাদার ও জঘন্য আচরণ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মামলা-হামলার ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তামাকের এই বিষাক্ত ফ্যাক্টরি চলায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে তামাক প্রক্রিয়াজাত করায় শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছে স্থানীয়রা। তামাকের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

৩. রাজনৈতিক প্রভাব ও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন
মুকুলের এই দৌরাত্ম্যের পেছনে কাজ করছে গভীর রাজনৈতিক খুঁটি। স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে যে:

তিনি বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্থানীয়দের ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

বলা হয়ে থাকে, ফ্যাক্টরি থেকে আয়ের একটি বড় অংশ বিএনপির নির্দিষ্ট একটি মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তিনি তার সুরক্ষা নিশ্চিত করেন।

৪. প্রকাশ্য দম্ভ ও রাজস্ব ফাঁকি
মুকুল কেবল অপকর্ম করেই ক্ষান্ত নন, বরং জনসম্মুখে এসব তথ্য দম্ভের সাথে প্রকাশ করে বেড়ান। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ফ্যাক্টরি পরিচালনা করলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে প্রশাসনকে তোয়াক্কা করছেন না তিনি।

জনজীবন বিপন্ন করে এবং সরকারি আইন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পবার এই তামাক ফ্যাক্টরি এখন আতঙ্কের জনপদ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া সাধারণ মানুষের মুক্তি ও সরকারের রাজস্ব পুনরুদ্ধার অসম্ভব।


More News Of This Category
bdit.com.bd