• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায় মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাপান সফরের সাফল্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য—

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১২৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে

হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য—মিডিয়ার দায়িত্ব ও সরকারি চাপ নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই, রাজনৈতিক পক্ষপাত, টকশোতে বিতর্কিত বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সংবাদ ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যাচাইহীন বা পরে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত হওয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে একজন টেলিভিশন সাংবাদিকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনাও সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

এ দুই ধরনের ঘটনাকে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি হলো সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব ও তথ্য যাচাইয়ের প্রশ্ন; অন্যটি হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার বা অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তবে উভয় ঘটনাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের দাবি কতটা যাচাইযোগ্য

সম্প্রতি শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে কথিত ফোনালাপ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ও আলোচনা ছড়ায়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুতিন ও শেখ হাসিনার মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট ফোনালাপ হয়েছে এবং সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন।

তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্যেই বলা হয়েছে, ওই ফোনালাপের বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

চ্যানেল ওয়ানও এ ধরনের দাবি নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেছে বলে দ্য ডিসেন্টের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, চ্যানেল ওয়ানের প্রতিবেদনে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য এবং ভারতের ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকার বরাত ব্যবহার করা হয়েছিল; একই সঙ্গে সরকারি নিশ্চয়তা না থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হচ্ছে—কোনো তথ্য নিশ্চিত নয় বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি সেটিকে সংবাদ বা আলোচনার প্রধান বিষয় বানানো হলে দর্শকের কাছে তার সম্ভাব্য প্রভাব কী দাঁড়ায়।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাষ্ট্রপ্রধানদের যোগাযোগ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে কোনো তথ্য প্রচারের আগে একাধিক স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুলকে ৫০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তার দাবি

আরও স্পষ্ট একটি উদাহরণ সামনে এসেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়ায় যে শেখ হাসিনা মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। দ্য ডিসেন্টের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের যাচাই অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চেকের ছবিটি সম্পাদিত ছিল এবং মূল চেকটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী প্রণোদনা তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চ্যানেল নাইনের ‘নাইন সংলাপ’ অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব আজিজ একই ধরনের দাবি করেন বলে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্য আলোচকেরা বক্তব্যটির প্রতিবাদ করেন।

পরে মাহবুব আজিজ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দাবিটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না এবং পরে তথ্যটি সঠিক নয় বুঝতে পেরে তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশের কথা জানান। তবে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক জানান, তিনি মাহবুব আজিজের কাছ থেকে স্পষ্টভাবে ‘সরি’ বলা শুনতে পাননি।

এখানে সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—রাজনৈতিক বক্তব্য বা টকশোতে কোনো তথ্য উপস্থাপনের আগে সেটির সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক নেতা সম্পর্কে অর্থনৈতিক বা চিকিৎসা সহায়তার মতো সুনির্দিষ্ট দাবি করলে তার পক্ষে নথি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকা প্রয়োজন।

সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল নিয়ে প্রশ্ন

অন্যদিকে চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনাকে ঘিরে আলাদা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনাটির প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, তথ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া চিঠিতে অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করা হয়নি এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের প্রকৃত প্রশাসনিক কারণ কী, সেটি সরকারি পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

কোনো সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়ে থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ, প্রযোজ্য নীতিমালা এবং সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক ভিত্তি প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অনেকটাই নিরসন হতে পারে।

কারণ অ্যাক্রেডিটেশন কোনো সাংবাদিকের সম্পূর্ণ পেশাগত অধিকার বা সংবাদ প্রকাশের অধিকার নয়; এটি নির্দিষ্ট সরকারি স্থাপনা বা অনুষ্ঠান কাভারের জন্য প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে এই ধরনের অনুমোদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যদি স্বচ্ছ ও ব্যাখ্যাহীন হয়, তাহলে সাংবাদিকদের মধ্যে চাপ বা আত্মসংযমের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন করা সাংবাদিকতার অপরাধ নয়

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবাদিকের অন্যতম দায়িত্ব হলো ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা। কোনো প্রশ্ন অস্বস্তিকর হতে পারে, প্রশ্নের ভাষা বা তথ্য নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, এমনকি কোনো প্রশ্নের তথ্যগত ভিত্তিও ভুল হতে পারে। কিন্তু তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য, যুক্তি ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে।

কোনো সাংবাদিকের প্রশ্নের কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন।

একইভাবে সাংবাদিকেরও দায়িত্ব রয়েছে প্রশ্ন করার সময় তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যাচাইহীন তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করা।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সরকারের সময় গণমাধ্যমের ওপর প্রশাসনিক চাপ, সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল, নির্দিষ্ট সাংবাদিককে টকশোতে না ডাকার অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।

অতীতের কোনো সরকারের সময় এমন ঘটনা ঘটেছিল—এই যুক্তি বর্তমান সময়ে একই ধরনের আচরণকে বৈধতা দেয় না। বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মানদণ্ডও যেন পরিবর্তিত না হয়, সেটিই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সরকার সমালোচনামুক্ত সংবাদমাধ্যম চাইবে—এমন প্রত্যাশা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে সংবাদমাধ্যমও রাজনৈতিক পক্ষপাত বা যাচাইহীন তথ্যকে সাংবাদিকতার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না।

জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান শর্ত তথ্যের নির্ভুলতা

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি তথ্য লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে সংবাদমাধ্যম কোনো অসমর্থিত দাবি প্রচার করলে তার প্রভাবও দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে।

হাসিনা-পুতিন কথিত ফোনালাপের মতো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দাবি কিংবা মির্জা ফখরুলকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার মতো ব্যক্তিগত ও আর্থিক দাবি—দুই ক্ষেত্রেই তথ্যের উৎস, নথি এবং স্বাধীন যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থানের ওপর নয়; বরং তথ্য কতটা যাচাই করা হয়েছে, ভুল হলে কত দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে—তার ওপর।

একই মানদণ্ড সবার জন্য

একসময় কোনো সংবাদমাধ্যম যদি ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অতিরিক্ত অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত হয়ে থাকে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়লে সেটিও একই সাংবাদিকতা-মানদণ্ডে বিচার হওয়া উচিত।

কোনো সাংবাদিক বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে মত প্রকাশ করতেই পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদন, টকশো এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তথ্য ও মতামতের পার্থক্য স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

একইভাবে কোনো সরকারের পছন্দের সাংবাদিক বা অপছন্দের সাংবাদিক—এই বিভাজনের ভিত্তিতে অ্যাক্রেডিটেশন বা সংবাদ কাভারের সুযোগ নির্ধারিত হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব, গণমাধ্যমের দায়িত্ব

সরকারের দায়িত্ব হলো সাংবাদিকদের নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো যাচাইহীন তথ্যকে সংবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না করা, ভুল তথ্য প্রচার হলে সংশোধন করা এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ করা।

আর দর্শক ও পাঠকের দায়িত্ব হলো কোনো সংবাদ শুধু রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে মিলে গেলেই সত্য ধরে না নিয়ে তার উৎস ও প্রমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার জবাবদিহি—দুটিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাধীন সাংবাদিকতা তখনই কার্যকর হয়, যখন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্বও পালন করে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সামনে তাই মূল প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল বা ব্যক্তিকে গ্রহণ কিংবা বর্জন করা নয়; বরং একই নীতি সবার জন্য প্রযোজ্য করা যায় কি না।

ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সাংবাদিকতার মানদণ্ডও যদি পাল্টে যায়, তাহলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নটি রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তনের মধ্যেই আটকে থাকবে। আর যদি সরকার ও সংবাদমাধ্যম উভয়েই স্বচ্ছতা, তথ্য যাচাই ও জবাবদিহির একই মানদণ্ড মেনে চলে, তাহলে জনগণের আস্থার ভিত্তিও শক্তিশালী হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ


More News Of This Category
bdit.com.bd