রাউজান ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ: প্রবাসী শান্তি মিয়াকে ঘিরে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক | রাউজান
রাউজান উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভূমিদখল, বিচারবহির্ভূত সালিশ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে ডুবাই প্রবাসী শান্তি মিয়া, স্থানীয়ভাবে পরিচিত আলমগীর মেম্বার ও ডাকাত হারুনকে ঘিরে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি ফজল করিমের ঘনিষ্ঠতার প্রভাব খাটিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ফজল করিমের বিদেশ সফরের সময় ডুবাইয়ে অবস্থানকালে শান্তি মিয়া সফরের যাবতীয় খরচ বহন করতেন এবং সফরসঙ্গীদের দামী মোবাইল ফোন উপহার দিতেন। এই ঘনিষ্ঠতার জের ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের জমি ও বসতবাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তি মিয়া ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটবিহীন আলমগীর মেম্বার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একাধিক নিরীহ মানুষের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলেন। এমনকি শান্তি মিয়ার চাচা বজল আহাম্মদের বাউন্ডারি ওয়ালও রক্ষা পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমেরিকাপ্রবাসী আবুল হাসেম, বুধো মিয়া ও টাওয়ার বাইল্লে বাউন্ডারি এলাকার একাধিক দেয়াল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া ‘আলি কোম্পানি’ নামের একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আরও অভিযোগ উঠেছে, আলমগীর মেম্বার, শান্তি মিয়া ও ডাকাত হারুন মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকায় বিচার সালিশের নামে অর্থের বিনিময়ে অন্যায় রায় দিতেন। এক ব্যক্তির জমি অন্যজনকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে রাউজানে কেউ পাহাড় কেটে ধানের জমি ভরাট করার সাহস পেত না। অথচ শান্তি মিয়া সরকারি পাহাড় থেকে মাটি কেটে নিজের প্রায় পাঁচ কানি জমি ভরাট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বাজেটে নির্মিত রাস্তার ইট ব্যবহার করে ডাকাত হারুন নিজের ঘর নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই চক্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল গোটা এলাকা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শান্তি মিয়া ও আলমগীর মেম্বার বর্তমানে ডুবাইয়ে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে অভিযোগ আছে, শান্তি মিয়া বিএনপিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে গত ৫ আগস্টের পর একবার দেশে আসেন এবং বিএনপি নেতা প্রয়াত সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দীনের বাসায় যান। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ জনতা একত্র হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয় বলে দাবি করা হয়। পরে তিনি আবার ডুবাইয়ে পালিয়ে যান।
বর্তমানে ডুবাইয়ে বসেই শান্তি মিয়া রাউজান ৬ আসনে বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের ‘মোমবাতি’ মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।