• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ কলাতলীতে নির্মাণাধীন ‘পালং অপ প্যানোয়া’ হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টের অভিযোগ; নগদ ১ লাখ টাকা লুটের দাবি মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’ জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে হত্যার হুমকি, থানায় ইমির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নোবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবীনবরণ নবীনদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির কথিত অডিও ঘিরে তীব্র প্রশ্ন ‘দেশের সব পুলিশ আওয়ামী লীগের পক্ষে’, ‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ সহযোগিতা করবে’—কথিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দাবি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য— ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃত্ব, এরপর শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহরের কালাইঘর এলাকার একটি বাসায় সিগারেটের আগুনে শামিম পারভেজ বাদল দগ্ধ সর্ব স্তরের মানুষের নিকট সুন্দর ও সহজভাবে কোরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের মহতী উদ্যোগ।

২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নাগরিক সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট / ৯০ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ; নিউইয়র্ক সফর ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিবেদন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে সরকারি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক—তিন পর্যায়েই বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর পরদিন, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এলাকায় অবস্থিত ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আয়োজকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি চলছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সফরকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে একাধিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট।

বাপসনিউজকে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল লতিফ সম্রাট জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নাগরিক সংবর্ধনার অনুষ্ঠানস্থল, সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণকে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনের মঞ্চে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরতে পারে।

এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ অধিবেশনের সময় সভাপতিত্বের দায়িত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থাকবেন—এমন তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। তবে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ঘোষণা অনুসরণ করাই নির্ভরযোগ্য হবে।

বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সমাগম ঘটে। ফলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বৈঠক-সাক্ষাৎ এবং পার্শ্ব বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন কোন দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রমবাজার, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে আলোচনা, তবে চূড়ান্ত নয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের মিশনের একজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠকের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে তাঁদের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

তবে কূটনৈতিক বৈঠক বা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য সাক্ষাৎকে নিশ্চিত কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি সমন্বয়, বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো সফরসূচিতে থাকতে পারে।

তবে এসব কর্মসূচির সবকিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশের পরই কোন কর্মসূচি কখন এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যাবে।

২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে প্রবাসীদের প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে অংশ নিতে পারেন বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানটি সফল করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, প্রচার, অতিথি তালিকা, যাতায়াত এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতির খবর

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী ও সমমনা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাপসনিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, কবি, সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, মানবাধিকারকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সদর দপ্তর, নাগরিক সংবর্ধনাস্থল, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা এবং জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিভিন্ন কর্মসূচির স্থানকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচি হতে পারে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে আগমন উপলক্ষে জেএফকে বিমানবন্দর এলাকায়ও প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতির কথা জানা গেছে।

তবে এসব কর্মসূচির নির্দিষ্ট সময়, স্থান, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং প্রশাসনের অনুমোদনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রযোজ্য হওয়ায় চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

একই শহরে সমর্থন ও প্রতিবাদ—নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা এবং সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিবাদ কর্মসূচি একই সময়ে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত, উসকানি, হয়রানি বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষ করে জেএফকে বিমানবন্দর, টাইমস স্কয়ার এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় কর্মসূচি থাকলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনাও সেই অর্থে প্রবাসীদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিবাদ ও পাল্টা কর্মসূচির বিষয়টি সামনে আসায় সফরকালীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন হবে।

চূড়ান্ত কর্মসূচির অপেক্ষায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০২৬ সালের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানো, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনা—এই সম্ভাব্য কর্মসূচিগুলোকে ঘিরে এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

একদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি, অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি—দুই ধরনের তৎপরতায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি, বৈঠকের তালিকা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পরই পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হবে।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, সরকারি নথি এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি প্রকাশের পর বিষয়টি আরও যাচাই করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd