যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার, বিশ্ববিখ্যাত ‘হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ অর্জন করলেন রাঙ্গুনিয়ার মুমতাহিনা করিম মীম
তারিখ ও সময়: ৮ আগস্ট ২০২৫, বিকেল ৪:৩০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার, বিশ্ববিখ্যাত ‘হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ অর্জন করলেন রাঙ্গুনিয়ার মুমতাহিনা করিম মীম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা বড়বাড়ির কৃতী মেয়ে মুমতাহিনা করিম মীম এক অসাধারণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। শৈশব থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা এই মেধাবী শিক্ষার্থী এবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার অফার পেয়েছেন তিনি।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হেনড্রিক্স কলেজ থেকে অর্জন করেছেন বিশ্বখ্যাত ‘হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’, যা একটি ফুল-রাইড স্কলারশিপ। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হন, এবং এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে একমাত্র প্রাপক হয়েছেন মীম।
৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ অফার
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মীমের কাছে প্রস্তাবিত স্কলারশিপের মোট অর্থমূল্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। তবে তিনি হেনড্রিক্স কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স (ডুয়েল-ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রোগ্রামে স্নাতক সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ৫ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
শৈশব থেকে উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ
শৈশব থেকেই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন মীম। সপ্তম শ্রেণিতে নিজের হাতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন ৬৫ সদস্যের একটি প্রোগ্রামিং ক্লাব। করোনা মহামারির সময় তিনি ঘরে বসে গড়ে তোলেন একটি মিনি রোবটিক্স ল্যাব এবং নির্মাণ করেন ‘কিবো’ নামের একটি রোবট, যা খাবার পরিবেশন করতে সক্ষম।
শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা
মীম চট্টগ্রাম শহরের অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই তার মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ জন্ম নেয়।
সংবর্ধনা ও স্থানীয় গর্ব
তার এই অর্জনে গত ১ আগস্ট বিকেলে সরফভাটা বড়বাড়িতে স্থানীয়দের উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। এতে বক্তারা মীমের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন এবং তাকে বাংলাদেশের গৌরব হিসেবে তুলে ধরেন।
মীমের নিজের কথা
নিজের যাত্রাপথ প্রসঙ্গে মীম বলেন,
> “সহশিক্ষা কার্যক্রম আমার পরিচয়ের বড় অংশ। বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন, গান, বিজ্ঞান মেলা—সবখানেই সক্রিয় থেকেছি। এসব থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার স্বপ্ন ছিল, সেটার জন্য ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করেছি। মা-বাবা আর শিক্ষকদের সহায়তায় আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।”
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য মুমতাহিনা করিম মীমের এই অর্জন নিঃসন্দেহে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com