সামান্য অর্থের অভাবে থমকে যাচ্ছে নার্স হওয়ার স্বপ্ন
ক্যানসার আক্রান্ত মা, অসুস্থ বাবা, নিজেদের বাড়িও নেই; নার্সিং শিক্ষার শেষ ধাপে আর্থিক সংকটে কুমিল্লার উম্মে হাবিয়া—ছোট বোনও ভিক্টোরিয়া নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার প্রত্যাশা; স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের জরুরি উদ্যোগ দাবি
এ.কে. পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
একটি স্বপ্নের পেছনে কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, মায়ের কান্না, বাবার অসহায়ত্ব আর সন্তানের অদম্য সংগ্রাম। কুমিল্লার ২৪ বছর বয়সী নার্সিং শিক্ষার্থী উম্মে হাবিয়ার গল্পটিও তেমনই এক জীবনসংগ্রামের গল্প।
অভাব তাকে থামাতে পারেনি। পরিবারের অসুস্থতা তাকে পিছিয়ে দেয়নি। নিজের প্রয়োজনকে ছোট করে, টিউশনি করে, মানুষের সহযোগিতা নিয়ে এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। একজন প্রশিক্ষিত নার্স হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্নে বছরের পর বছর এগিয়ে এসেছেন।
কিন্তু নার্সিং শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ শেষ ধাপে এসে সামান্য অর্থের সংকটই এখন তার সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত মা। অন্যদিকে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বাবা। পাঁচ সদস্যের পরিবারের নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন বারোপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে পরিবারটি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যেই উম্মে হাবিয়ার ছোট বোনও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ/ভিক্টোরিয়া নার্সিং প্রতিষ্ঠানে নার্সিং শিক্ষায় অধ্যয়নরত। প্রথম বর্ষে পড়া ছোট বোনকে ইতোমধ্যে ভর্তি করাতে গিয়ে পরিবারকে আরও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের স্বপ্ন—বড় বোন উম্মে হাবিয়া নার্সিং শিক্ষা সম্পন্ন করে লাইসেন্স পরীক্ষা দিয়ে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করবেন। এরপর একটি ভালো চাকরি পেলে তিনি ছোট বোনের পড়াশোনার দায়িত্বও নিতে পারবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই বড় বোনের নিজের শিক্ষা সম্পন্ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অবস্থায় উম্মে হাবিয়া ও তার পরিবার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ, সামাজিক সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই নার্সিং শিক্ষা
উম্মে হাবিয়ার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই তাদের সংসারে আর্থিক সংকট ছিল। সীমিত আয়ের পরিবারে চিকিৎসা, বাসাভাড়া, খাবার এবং শিক্ষার ব্যয় একসঙ্গে বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
তারপরও পড়াশোনা থামাননি উম্মে হাবিয়া।
নিজের শিক্ষার ব্যয় বহনে তিনি টিউশনি করেছেন। নিজের প্রয়োজন কমিয়েছেন। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন। পরিবারের অসুস্থতার মধ্যেও নিজের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন।
নার্সিং পেশাকে তিনি শুধু চাকরি হিসেবে দেখেন না; মানুষের অসুস্থতার সময়ে পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের পর এখন তিনি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে সামান্য আর্থিক সহযোগিতাই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কোর্স ফি নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উম্মে হাবিয়ার নার্সিং কোর্সের মোট ফি প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নানা কষ্টের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
কখনো টিউশনি করে, কখনো পরিচিতজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে এবং কখনো পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে এই অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
কিন্তু অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ এবং রেজিস্ট্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার ব্যয় মেটানো এখন পরিবারের জন্য বড় ধরনের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট কাজে প্রায় ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ফি ও বকেয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ সংশ্লিষ্ট নার্সিং প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
ক্যানসার আক্রান্ত মা, অসুস্থ বাবা
উম্মে হাবিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রামের জায়গা তার পরিবার।
তার মা ক্যানসারে আক্রান্ত বলে পরিবার জানিয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে তার বাবাও বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে পরিবারের ভাষ্য।
পরিবারটির সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। নিজেদের স্থায়ী বাড়ি নেই। ভাড়া বাসায় থেকে সংসার চালাতে হয়।
খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, ওষুধ, যাতায়াত এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়—সব মিলিয়ে পরিবারটির মাসিক ব্যয় তাদের সীমিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানানো হয়েছে।
ফলে মেয়ের নার্সিং শিক্ষার শেষ ধাপের খরচ জোগাড় করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিজেদের বাড়ি নেই, প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি—পরিবারের দাবি
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উম্মে হাবিয়ার মায়ের অসুস্থতার সময় তাদের পরিবারকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা তাদের একটি জায়গা বা বসতভিটার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
ফলে দীর্ঘ সময় পার হলেও নিজেদের কোনো স্থায়ী বাড়ি হয়নি। এখনো ভাড়া বাসায় বসবাস করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
পরিবারের প্রত্যাশা, অতীতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব চাইলে যাচাই করতে পারেন এবং পরিবারটির স্থায়ী আবাসনের বিষয়েও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওই নেতার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশ করা হবে।
ছোট বোনও নার্সিং শিক্ষার্থী

উম্মে হাবিয়ার নিজের পড়াশোনার সংকটের পাশাপাশি পরিবারের আরেকটি বড় দায়িত্ব হলো তার ছোট বোনের পড়াশোনা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছোট বোন বর্তমানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া নার্সিংয়ে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।
তাকে ভর্তি করাতে গিয়ে পরিবারকে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও কিছু অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু পুরো ভর্তি ফি এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের ভাষ্য।
অর্থাৎ একই পরিবারের দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ এখন নার্সিং শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। একজন শেষ পর্যায়ে এসে অর্থের সংকটে পড়েছেন, অন্যজন মাত্র প্রথম বর্ষে পা রেখেছেন।
পরিবারের স্বপ্ন—দুই বোনই একদিন প্রশিক্ষিত নার্স হয়ে মানুষের সেবা করবেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাব।
বড় বোনের চাকরিই হতে পারে পরিবারের আশার আলো
উম্মে হাবিয়ার পরিবার জানায়, তিনি নার্সিং শিক্ষা সম্পন্ন করে লাইসেন্স পরীক্ষা দিতে চান।
লাইসেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি ভালো চাকরি পেলে নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনাতেও সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পরিবারের একজন সদস্যের ভাষায়, উম্মে হাবিয়ার সবচেয়ে বড় আশা—তিনি চাকরিতে ঢুকতে পারলে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হবে।
কিন্তু সেই চাকরির আগে তাকে শিক্ষাজীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। আর সেখানেই অর্থের সংকট সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ কারণে পরিবারটির কাছে বর্তমান সহায়তা শুধু একটি ফি পরিশোধের বিষয় নয়; বরং পুরো পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা।
মানুষের সহযোগিতায় এরই মধ্যে কিছু অর্থ সংগ্রহ
চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও উম্মে হাবিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন কয়েকজন মানবিক মানুষ।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, নার্সিং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, শিক্ষকসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
এই সহায়তা পরিবারটির জন্য নিঃসন্দেহে আশার আলো তৈরি করেছে।
তবে প্রয়োজনীয় অর্থের পুরোটা এখনো সংগ্রহ হয়নি। ফলে উম্মে হাবিয়ার শিক্ষা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতাকারী প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এখন প্রয়োজন সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ
উম্মে হাবিয়ার ঘটনা কোনো একক পরিবারের সমস্যা হিসেবে দেখলে হয়তো বিষয়টির গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না।
একজন নার্সিং শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে যখন পেশাগত জীবনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান, তখন কেবল অর্থের অভাবে তার পথ আটকে যাওয়া একটি সামাজিক উদ্বেগের বিষয়।
আর এখানে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার পরিবারের একজন মা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং বাবা অসুস্থ। একই সঙ্গে ছোট বোনও নার্সিং শিক্ষায় অধ্যয়নরত।
অর্থাৎ একজনের শিক্ষা সম্পন্ন করা মানে শুধু একজন তরুণীর স্বপ্ন পূরণ নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং অন্য একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধারাবাহিকতাও যুক্ত।
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি মানবিক আহ্বান
উম্মে হাবিয়ার পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কুমিল্লার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে পরিবারের প্রত্যাশা—রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন অসহায় ও মেধাবী নার্সিং শিক্ষার্থীর বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা।
কোনো সহায়তা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নার্সিং প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী এবং পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন সরেজমিনে যাচাই করে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ চাইলে এককভাবে কিংবা সম্মিলিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীর বকেয়া ফি, রেজিস্ট্রেশন ব্যয় এবং ছোট বোনের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় খরচের একটি অংশ বহনের উদ্যোগ নিতে পারেন।
একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ করে দেওয়া রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন
উম্মে হাবিয়া ও তার পরিবার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।
পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উম্মে হাবিয়ার শিক্ষাগত ও আর্থিক পরিস্থিতি যাচাই করা হলে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে।
একজন দরিদ্র শিক্ষার্থী যদি অর্থের অভাবে নার্সিং শিক্ষা সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে শুধু তার ব্যক্তিগত স্বপ্নই থেমে যায় না; দেশের স্বাস্থ্যসেবায় একজন সম্ভাবনাময় জনবল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হয়।
উম্মে হাবিয়ার ক্ষেত্রে তাই প্রয়োজন দ্রুত যাচাই, দায়িত্বশীল উদ্যোগ এবং মানবিক সহযোগিতা।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের বিত্তবান মানুষ, ব্যবসায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবারটির বক্তব্য—একজনের পক্ষে হয়তো ৫০ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ৫০ জন মানুষ যদি ১ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করেন, তাহলেও একটি বড় অংশের অর্থের ব্যবস্থা হতে পারে।
আবার কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা কিংবা সামর্থ্য অনুযায়ী আরও বেশি সহযোগিতা করতে পারেন।
ছোট ছোট সহযোগিতা একত্রিত হলেই হয়তো একজন তরুণীর নার্স হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
তবে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান, বকেয়া ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।
‘আমি নার্স হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই’
উম্মে হাবিয়ার স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষের সেবা।
অভাবের সংসারে বড় হয়ে, মায়ের অসুস্থতা চোখের সামনে দেখে এবং বাবার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি নার্সিং শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়েছেন।
তার কাছে নার্স হওয়া শুধু একটি পেশা নয়। একজন অসুস্থ মানুষের কষ্টের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ।
যে পরিবার নিজের মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, সেই পরিবারের একজন সন্তানই আবার অন্য অসুস্থ মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখছেন—এ যেন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য গল্প।
সহায়তার জন্য উম্মে হাবিয়ার পরিচিতি
নাম: উম্মে হাবিয়া
পেশাগত পরিচয়: ইন্টার্ন নার্স
প্রতিষ্ঠান: কুমিল্লা ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন নার্সিং ইনস্টিটিউট
রোল: ৪৪
ব্যাচ: ১১তম
সেশন: ২০২১–২২
ঠিকানা: বারোপাড়া, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যম:
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭৮৭-২৫৯৩১৫ — উম্মে হাবিয়া
নগদ (পার্সোনাল): ০১৯৯৬-৯৫৩৩৮৩ — উম্মে হাবিয়ার পিতা
ব্যাংক হিসাব:
IFIC PLC
Account Name: LIPI BEGUM
Branch: Balutupa
A/C No: 0203 215606 851
আর্থিক সহায়তার আগে শিক্ষার্থী ও পরিবারের পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের তথ্য, প্রয়োজনীয় ফি এবং হিসাবের তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ কি থেমে যাবে অর্থের কাছে?
উম্মে হাবিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বছরের পর বছর কষ্ট করে যে পথ তিনি পাড়ি দিয়েছেন, শেষ ধাপে এসে কি সামান্য অর্থের অভাবে সেই পথ থেমে যাবে?
একজন ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের সন্তান হিসেবে তিনি নিজের পরিবারের কষ্ট দেখেছেন। অসুস্থ বাবার সীমিত সামর্থ্য দেখেছেন। নিজেদের বাড়ি না থাকার বাস্তবতা দেখেছেন।
তারপরও তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেননি।
বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য নার্সিং পেশাকে বেছে নিয়েছেন।
তার ছোট বোনও একই স্বপ্নে নার্সিং পড়ছে।
পরিবারের আশা, উম্মে হাবিয়া আগে নিজের পড়াশোনা সম্পন্ন করে চাকরিতে প্রবেশ করবেন। এরপর তিনি ছোট বোনের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
কিন্তু সেই প্রথম দরজাটিই যদি অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরো পরিবারের স্বপ্নই আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।
এখনই প্রয়োজন যাচাই ও সহযোগিতা
উম্মে হাবিয়ার পরিবারের এই আবেদন তাই শুধু আবেগের বিষয় নয়; প্রয়োজন দায়িত্বশীলভাবে যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সংশ্লিষ্ট নার্সিং প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থীর প্রকৃত বকেয়া, রেজিস্ট্রেশন ফি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়, তাহলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সহযোগিতা করা আরও সহজ হবে।
স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নার্সিং প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং প্রবাসীদের সমন্বিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।
একজন শিক্ষার্থীকে তার শেষ ধাপে এসে ফিরিয়ে দেওয়া নয়—বরং তাকে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তা।
শেষ মুহূর্তে যেন থেমে না যায় একটি স্বপ্ন
একজন তরুণী নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন।
একজন ক্যানসার আক্রান্ত মা চান তার সন্তান নিজের পায়ে দাঁড়াক।
একজন অসুস্থ বাবা চান তার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হোক।
একজন ছোট বোন নার্সিং পড়ছে, যার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বড় বোন।
একটি পরিবারের নিজেদের বাড়ি নেই, আর্থিক নিরাপত্তা নেই; আছে শুধু বেঁচে থাকার সংগ্রাম আর ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার প্রত্যাশা।
এই পরিবারটির সেই প্রত্যাশা কি সমাজের সামান্য সহযোগিতায় পূরণ হতে পারে না?
হয়তো পারে।
হয়তো কয়েকজন মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই উম্মে হাবিয়ার শিক্ষাজীবনের শেষ বাধাটি সরিয়ে দিতে পারে।
হয়তো আজ যে মেয়েটি অর্থের জন্য সাহায্য চাইছেন, আগামী দিনে তিনিই একজন রোগীর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে জীবন বাঁচানোর কাজে অংশ নেবেন।
তাই প্রয়োজন সহানুভূতির পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগ।
প্রয়োজন যাচাই করে পাশে দাঁড়ানোর।
প্রয়োজন একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে অর্থের কাছে পরাজিত হতে না দেওয়ার।
উম্মে হাবিয়ার পরিবারের আকুতি—শেষ মুহূর্তে যেন সামান্য অর্থের অভাবে থেমে না যায় একজন নার্স হওয়ার স্বপ্ন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
মানবিকতার পক্ষে, মানুষের পাশে।