বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিতের প্রতিবাদে কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মানববন্ধন: বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
হাফিজুর রহমান, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ। ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান সড়কে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশের মূল স্লোগান ছিল — “জুলাই বিপ্লবের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই”, যার মধ্য দিয়ে তাঁরা শিক্ষাক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বার্তা দেন।
বৈষম্যমূলক পরিপত্রের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বক্তারা জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চমৎকার ফলাফল অর্জন করেছে। তবে, ২০২৫ সাল থেকে এসব শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা কিনা ১৭ জুলাই জারিকৃত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তকে তারা “চরম বৈষম্য” এবং “শিশুদের আত্মমর্যাদার উপর আঘাত” হিসেবে আখ্যা দেন। বক্তারা বলেন, বৃত্তি কোনো আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়; বরং এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সামাজিক স্বীকৃতি ও শিক্ষামূলক অনুপ্রেরণার মূল উৎস। এই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হলে লাখো শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের মনোবল ভেঙে পড়বে।
স্মারকলিপি প্রদান ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নলতা খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ প্রি-ক্যাডেট জুনিয়র হাই স্কুলের অধ্যক্ষ শ্রী কুমার বসাক। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রত্যয় আইডিয়াল স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন।
ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি দিদারুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন:
অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন হোসেন খান (ইডা আদর্শ প্রি-ক্যাডেট স্কুল)
অধ্যক্ষ দুলাল চন্দ্র সরকার (উপজেলা ল্যাবরেটরি স্কুল)
সহকারী শিক্ষক তাপস কুমার ঘোষ (নলতা কে.বি. আহসানউল্লাহ প্রি-ক্যাডেট)
অধ্যক্ষ কিবরিয়া (কার্ডিফ মডেল স্কুল)
অধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ (লাই সিয়াম প্রি ক্যাডেট)
অধ্যক্ষ মহাসিন হোসেন (রাজবাড়ী কিন্ডারগার্টেন)
অধ্যক্ষ মিহির সাহা (ব্রাইট স্টার প্রি ক্যাডেট)
অধ্যক্ষ আবু ফরহাদ (চিলড্রেন ভয়েস প্রি-ক্যাডেট)
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ তাহোদুজ্জামান হেলাল, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, ইস্তেগফার রহমান, সুবোধ চন্দ্র ঘোষ, সুব্রত মণ্ডল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবুল কালাম, শেখ ওকালাত, শফিউল্লাহ প্রমুখ।
এ মানববন্ধন শুধুই একটি কর্মসূচি নয়— এটি একটি আহ্বান, একটি প্রত্যয়, যেখানে কোমলমতি শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষক-অভিভাবকরা এক কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছেন: “শিক্ষায় বৈষম্য চলবে না!” সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে — এবং আগামীতে সারাদেশেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
সতর্কতার সঙ্গে ভাবার সময় এখনই।