প্রত্যেক পুরুষের ভেতরে একজন ‘Impotent’ বাস করে: আদিম সত্য উন্মোচনের চ্যালেঞ্জ
ঢাকা: আজকের সমাজে পুরুষের পরিচয় নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত, তা প্রায়শই ভুল এবং সীমাবদ্ধ। জন্মের মুহূর্ত থেকেই ছেলেদের শেখানো হয় কঠোর হওয়া, কাঁদতে না পারা, ব্যথা সহ্য করা—কিন্তু কেউ শেখায় না যে শুধু যৌনাঙ্গের উপস্থিতি দিয়ে পৌরুষ প্রতিষ্ঠা হয় না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যেক পুরুষের ভেতরে থাকে একটি ‘impotent’ সত্তা—শারীরিক নয়, মানসিক। যে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম, দায়িত্ব নিতে ভয় পায়, সামান্য আঘাতে ভেঙে পড়ে এবং শুধু নিজের স্বার্থ বোঝে—তার ভেতরের নপুংসকত্বই আসল ‘Impotency’।
লেখক জানান, এই লেখাটি পুরুষকে ছোট করার বা পুরুষবিদ্বেষের উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি সেই সত্য উন্মোচন করার চেষ্টা, যা আমরা ভয়ে লুকিয়ে রাখি। মানব জীবনের আদিম সত্তা হলো স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, এবং পরনির্ভরশীল। কিন্তু জেদ এবং ত্যাগই সেই সত্তাকে পুরুষে রূপান্তরিত করার মূল শক্তি।
একজন ছেলে প্রথমবার সত্যিকারের পৌরুষের দিকে পা বাড়ায় যখন তার ভেতরে জন্মায় জেদ—নিজের অক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। পরীক্ষায় ফেল করা, বন্ধুদের অপমান, ব্যক্তিগত ব্যর্থতা—এসবেই প্রথমবার তার ভেতরের impotency পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু এই জেদ একাই যথেষ্ট নয়।
লেখক বলেন, ত্যাগ ছাড়া জেদ অর্থহীন। যখন একজন ব্যক্তি নিজের স্বার্থ ছেড়ে অন্যের জন্য সংগ্রাম করে—প্রবাসী হিসেবে পরিবার রক্ষা করা, বড় ভাই হিসেবে ছোটদের পড়াশোনা এগিয়ে দেওয়া—তখনই সে প্রকৃত পুরুষে পরিণত হয়। পৌরুষ মানে হুকুম দেওয়া নয়, ভরসা দেওয়া; মানে দায়িত্ব নেওয়া, ভালোবাসা শিখানো।
আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনার জীবনের জেদ এবং ত্যাগ কিসের জন্য? আপনার ভেতরের ‘impotent’ সত্তার আগুন পুড়িয়ে দিয়ে সত্যিকারের পুরুষ হয়ে ওঠার সাহস আছে কি? না কি জীবনটা শুধু মুখোশ পরে কাটাবেন?
লেখক স্পষ্ট করে বলেছেন, জন্ম আপনাকে ছেলেটা বানিয়েছে, কিন্তু পুরুষ হয়ে ওঠা আপনার নিজস্ব প্রয়াসের ফল। যে পুরুষ জেদ ও ত্যাগকে মিশিয়ে নিতে পারে, তার কাঁধই সবচেয়ে শক্তিশালী।