চিত্রনায়িকা মেহজাবিনের অফিসিয়াল বিবৃতি: ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন—সত্য খুব দ্রুতই পরিষ্কার হবে’
ডেস্ক রিপোর্ট : দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মেহজাবিন তার বিরুদ্ধে করা একটি মামলাকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” উল্লেখ করে অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, একজন অজানা ব্যক্তি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তার এবং তার ১৯ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন—যার কোনো তথ্য তিনি গত নয় মাসে পাননি, কারণ অভিযোগকারী ব্যক্তি পুলিশকে কোনো যাচাইকৃত তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
মেহজাবিন জানান, অভিযোগকারী তার সঠিক ফোন নম্বর, ঠিকানা বা কোনো পরিচয় সংক্রান্ত নথি জমা দেননি, ফলে বিষয়টি এতদিন তার অজানাই ছিল।
—
১. অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো প্রমাণ নেই
অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে ২০১৬ সাল থেকে তিনি মেহজাবিনের সঙ্গে ব্যবসা করতেন এবং ফেসবুকে যোগাযোগ করতেন।
কিন্তু তিনি দেখাতে পারেননি—
ফেসবুকের একটি মেসেজ,
হোয়াটস্যাপ বা ফোনে কোনো যোগাযোগের প্রমাণ,
মেহজাবিনের একটি রিপ্লাই পর্যন্ত,
এমনকি একটি স্ক্রিনশটও না।
এ বিষয়ে মেহজাবিন বলেন, “যার সঙ্গে আট বছর ধরে ব্যবসা করেছি বলে দাবি করা হচ্ছে—তার একটি মেসেজও যদি না থাকে, তবে তার অভিযোগ কতটা অসত্য তা সবাই বুঝতে পারবেন।”
—
২. অভিযোগকারীর পরিচয় অসম্পূর্ণ, নথি অনুপস্থিত
মাহজাবিন জানান, অভিযোগকারী এখনো পর্যন্ত—
সম্পূর্ণ পরিচয়পত্র,
এনআইডি
জমা দিতে পারেননি।
যা একটি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত মৌলিক তথ্য।
—
৩. খবর প্রকাশের পর অভিযোগকারী ও আইনজীবী ফোন বন্ধ করে দেন
তার বিবৃতিতে বলা হয়—
অভিযোগকারী ব্যক্তি তার ফোন বন্ধ করে রেখেছেন,
এমনকি তার আইনজীবীর নম্বরও বন্ধ—
যা মামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বড় ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি করে।
—
৪. কথিত ২৭ লাখ টাকার কোনো লেনদেনের প্রমাণ নেই
অভিযোগকারীর দাবি, তিনি মেহজাবিনকে ২৭ লাখ টাকা দিয়েছেন।
কিন্তু তিনি দেখাতে পারেননি—
ব্যাংক লেনদেন
চেক
বিকাশ/নগদ/রকেট লেনদেন
কোনো লিখিত চুক্তি
রশিদ
সাক্ষী
অর্থাৎ একটি কাগজপত্রও নেই যা এই দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
—
৫. কথিত ‘১১ ফেব্রুয়ারি ঘটনার’ কোনো ভিডিও বা সাক্ষী নেই
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে চোখ বেঁধে ঢাকার হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গত ৯ মাসে তিনি দেখাতে পারেননি—
রেস্টুরেন্টের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ,
রাস্তার ফুটেজ,
কোনো সাক্ষী,
কোনো ছবি বা ভিডিও— কিছুই না।
মেহজাবিন বলেন, “হাতিরঝিল ঢাকার সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা—তা সত্ত্বেও একটি সেকেন্ডের ভিডিওও না পাওয়া বিষয়টিকে হাস্যকর করে তোলে।”
—
৬. গত নয় মাসে তিনি কোনো নোটিশ পাননি
তিনি জানান, গত নয় মাস ধরে—
কোনো পুলিশ স্টেশনের ফোন,
কোনো কোর্টের নোটিশ,
কোনো ডকুমেন্ট
তিনি পাননি।
“একটি নোটিশ পেলেও আমি অনেক আগেই আইনি ব্যবস্থা নিতাম,”—বলেন তিনি।
—
৭. ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’ — মেহজাবিন
তিনি জানান, মামলা ভিত্তিহীন হলেও অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত জামিন নেন:
“আমি আইনকে সম্মান করি। তাই আইনি প্রক্রিয়া মেনেই আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
—
অভিযোগের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মেহজাবিন
তার ভাষায়—
“আজকের সময়ে কাউকে অপমান করা বা ভাইরাল হওয়ার জন্য অন্যকে ব্যবহার করা খুব সহজ হয়ে গেছে। এই ব্যক্তির উদ্দেশ্য যাই হোক—আদালতে সত্য খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
—
মিডিয়া ট্রায়াল পরিহারের অনুরোধ
তিনি অনুরোধ করেন—
কাউকে না জেনে বিচার করা ঠিক নয়,
মানবিক ও সহানুভূতিশীল হতে হবে,
অযথা মিডিয়া ট্রায়াল কারও জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
—
‘১৫ বছরের পরিশ্রমের পরেও আজ আমাকে এসব ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে—এটাই দুর্ভাগ্যজনক’
তার বক্তব্যের শেষ লাইনে তিনি বলেন—
“গত ১৫ বছর ধরে আমি আমার কাজ, পেশা এবং দর্শকদের জন্য যে পরিশ্রম করেছি—তার পরেও আজ আমাকে এসব ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে। এটি আমার জীবনের অন্যতম দুঃখজনক মুহূর্ত।”