তারিখ ও সময়: ২২ আগস্ট ২০২৫, ১৭:১৫
রিপোর্টার: মোঃ শাহেদ উদ্দিন, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
হাতিয়ায় মহিষ মালিকদের দমনমূলক আচরণ: কৃষকের সোনালী ফসল ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস
নোয়াখালীর হাতিয়ার ৩ নং সুখচর ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের চর জাগলায় স্থানীয় কৃষকরা মহিষ মালিকদের এবং তাদের বাতাইন্নাদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, বহুবার সমস্যা জানানোর পরও মহিষ মালিক এবং বাতাইন্নারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। উল্টো, তারা কৃষকের জমিতে মহিষের পাল দিয়ে ফসলের ক্ষতি করছেন।
কৃষকরা জানান, “আমরা অনেক অর্থ খরচ করেছি, কষ্ট করে ফসল করছি। কিন্তু মহিষ মালিকরা আমাদের এই সোনালী ফসল ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করছে। এখন আমরা দিশেহারা, জানি না কী করব।” মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, “আমি সকালে আমার ধানক্ষেতে গেলে দেখি ছোট চারা তুলে ফেলা হয়েছে এবং মানুষ হেঁটে ফসল নষ্ট করেছে।”
কৃষকরা আরও অভিযোগ করেছেন, মহিষ মালিকরা প্রভাবশালী, অর্থশালী এবং সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে গরিব কৃষকদের ওপর দমনমূলক আচরণ চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় মহিষ মালিকদের মধ্যে মোঃ ভুট্টু, নাহিদ, এবং আমিরকে নিয়মিত অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, “আমরা কিছু করতে পারি না, পারলে কিছু কইরেন।”
আইনগত বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
১. স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত: উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফসল ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে হবে।
২. অভিযুক্তদের আইনি ব্যবস্থা: কৃষি জমিতে অনধিকার প্রবেশ ও ফসল ধ্বংস করা ফৌজদারি অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪২৭/৪২৮ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণসহ শাস্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৩. নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমি রক্ষার জন্য পুলিশ ও প্রশাসন পর্যায়ক্রমিক নজরদারি চালাবে।
৪. নাগরিক প্রতিকার: কৃষকরা আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
৫. দীর্ঘমেয়াদি সমাধান: মহিষ মালিকদের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি ও প্রশাসনিক সংস্থা ফসল রক্ষায় সরাসরি তত্ত্বাবধান চালাবে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা অপরাধীদের বিচারের দাবি করছেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সমাজকে আরও দুর্বল করবে।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com