শেখ মুজিব একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশকে বিরোধিতার অপরাধে হত্যা করতেন: মির্জা ফখরুল
ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান একটি একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—বাংলাদেশের মানুষ তাঁর বিরোধিতা করলে, তাদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে হবে।”
আজ রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের বাকশাল কায়েমের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, বিরোধী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছিল, সংসদকে অকার্যকর করে দিয়ে রাষ্ট্রপতির হাতে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়। এটাই ছিল শেখ মুজিবের গণতন্ত্র।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক, বহুদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা। অথচ ৭২-এর সংবিধানে তাৎক্ষণিকভাবে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারগুলো খর্ব করা হয়। পরে ৭৫-এ এসে সেই প্রবণতা পূর্ণতা পায়—একদলীয় শাসন, বন্দুকের নল, গুপ্ত হত্যা—এই ছিল শেখ মুজিবের শাসনব্যবস্থা।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, “যে কেউ শেখ মুজিবের বিপক্ষে কথা বললে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বানিয়ে গুম বা খুন করে ফেলা হতো। এভাবে বহু মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হত্যার শিকার হয়েছে, যার বিচার আজও হয়নি।”
তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “শেখ হাসিনা আজ তার পিতার পথেই হাঁটছেন। বাকশালের ছায়া আজও জাতির ঘাড়ে চেপে বসে আছে। কিন্তু এই জনগণ আর সে শাসন মানবে না। এবার প্রতিরোধ হবে—জনতার রায়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, না হলে গণঅভ্যুত্থান।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
সংবাদদাতা:
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর