• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ কলাতলীতে নির্মাণাধীন ‘পালং অপ প্যানোয়া’ হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টের অভিযোগ; নগদ ১ লাখ টাকা লুটের দাবি মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’ জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে হত্যার হুমকি, থানায় ইমির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নোবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবীনবরণ নবীনদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির কথিত অডিও ঘিরে তীব্র প্রশ্ন ‘দেশের সব পুলিশ আওয়ামী লীগের পক্ষে’, ‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ সহযোগিতা করবে’—কথিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দাবি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য— ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃত্ব, এরপর শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহরের কালাইঘর এলাকার একটি বাসায় সিগারেটের আগুনে শামিম পারভেজ বাদল দগ্ধ সর্ব স্তরের মানুষের নিকট সুন্দর ও সহজভাবে কোরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের মহতী উদ্যোগ।

রাজনীতিতে পদ-পদবি, ক্ষমতা কিংবা নির্বাচনী হিসাবের বাইরে একজন নেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় কঠিন সময়ে নির্যাতনের ক্ষত বুকে নিয়েও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন ইমদাদুল হক ইমদাদ

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১৬৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

নির্যাতনের ক্ষত বুকে নিয়েও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন ইমদাদুল হক ইমদাদ

বেনাপোলের রাজপথে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ ও কারাবরণের স্মৃতি—মেয়র পদে আলোচনায় ত্যাগী তরুণ নেতৃত্বের নাম

স্টাফ রিপোর্ট | ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

বেনাপোল, যশোর: রাজনীতিতে পদ-পদবি, ক্ষমতা কিংবা নির্বাচনী হিসাবের বাইরে একজন নেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় কঠিন সময়ে তাঁর অবস্থান, কর্মীদের পাশে থাকার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ধরে রাখার মধ্য দিয়ে। বেনাপোলের স্থানীয় রাজনীতিতে এমনই এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নাম মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ।

যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও শার্শা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ইমদাদকে ঘিরে বর্তমানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে তাঁকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ইমদাদুল হক ইমদাদকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক পদ বা সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থিতা নয়। তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতা, মামলা, কারাবরণ এবং রাজনৈতিক হামলা-নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সময়ের তাঁর রক্তাক্ত ছবি নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বহু আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তাঁর সমর্থকরা সামনে আনছেন, তা হলো—এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিকে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে আনেননি।

‘রক্তাক্ত হওয়ার পরও প্রতিশোধ নয়, রাজনীতিই তাঁর পথ’

ইমদাদুল হক ইমদাদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী ও সমর্থকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে হামলা বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তিনি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের পথে হাঁটেননি।

তাঁদের দাবি, বেনাপোলে রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন সময়ে ইমদাদুল হক ইমদাদকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এসব ঘটনার ছবি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

তবে এসব হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, কোন ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল এবং প্রতিটি ঘটনার আইনগত অবস্থান কী—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জবাব যদি একই ধরনের প্রতিহিংসা দিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে পরিস্থিতি আরও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু ইমদাদুল হক ইমদাদ সে পথে না গিয়ে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই নিজের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

সমর্থকদের মতে, এখানেই তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটে ওঠে—ব্যক্তিগত ক্ষোভকে রাজনৈতিক প্রতিশোধে রূপ না দেওয়া।

বেনাপোলের রাজপথে দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়

ইমদাদুল হক ইমদাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মাঠের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন সময়ে রাজপথে তাঁর উপস্থিতি ছিল বলে দাবি করেন তাঁর সহকর্মীরা।

আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তাঁকে যেতে হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

রাজনীতির মাঠে তাঁর এই দীর্ঘ সময়কে সমর্থকরা দেখছেন ‘ত্যাগের রাজনীতি’ হিসেবে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু নির্বাচনের সময় সক্রিয় হওয়া আর বছরের পর বছর মাঠে থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে থাকা—দুটি বিষয় এক নয়।

তবে ইমদাদুল হক ইমদাদের রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি দাবি ও ঘটনার স্বাধীন নথিপত্র যাচাই করা হয়নি—এ বিষয়টি পাঠকদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বেনাপোল বলফিল্ডের ঘটনার স্মৃতিও আলোচনায়

স্থানীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্যে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠে রাজনৈতিক হামলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় সেখানে ইমদাদুল হক ইমদাদ হামলার শিকার হন। ওই সময়ের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও তাঁরা জানান।

সমর্থকদের মতে, এসব ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে শুধু শারীরিক আঘাতের স্মৃতি নয়; বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার একটি অধ্যায়ের অংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে অবশ্য কোনো নেতার ওপর হামলা বা নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মামলা, চিকিৎসা নথি, সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ওপরই নির্ভরশীল।

কেন প্রতিশোধের রাজনীতি নয়?

ইমদাদুল হক ইমদাদকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তা হলো তাঁর সমর্থকদের ভাষায় ‘প্রতিশোধের রাজনীতির বাইরে থাকার মানসিকতা’।

তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তাঁকে আরও সংঘাতমুখী না করে বরং সাংগঠনিক রাজনীতিতে মনোযোগী করেছে।

একজন রাজনৈতিক কর্মী যখন ব্যক্তিগতভাবে হামলা বা নির্যাতনের অভিযোগের মুখোমুখি হন, তখন তাঁর সামনে সাধারণত দুটি পথ থাকে—ব্যক্তিগত প্রতিশোধ অথবা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে জবাব দেওয়া।

ইমদাদুল হক ইমদাদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পথটিকেই তাঁর সমর্থকরা তাঁর অন্যতম রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরছেন।

তাঁদের মতে, তিনি চাইলে অতীতের ঘটনাগুলোকে সামনে এনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ভাষা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যক্তিগত প্রতিশোধকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নজির তাঁরা দেখেননি।

এ কারণেই তাঁর সমর্থকদের কাছে ‘প্রতিশোধ নয়, সংগঠন’—এই বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা

বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইমদাদুল হক ইমদাদের নাম আলোচনায় আসার আরেকটি কারণ তাঁর বয়স ও তরুণ নেতৃত্বের পরিচয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান সময়ে পৌরসভা পরিচালনায় নতুন প্রজন্মের চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

বেনাপোলের মতো সীমান্তবর্তী ও বন্দরকেন্দ্রিক একটি শহরের নাগরিক সমস্যা অন্য অনেক পৌর এলাকার তুলনায় ভিন্ন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, আবাসিক সম্প্রসারণ ও নগরায়ণের কারণে নাগরিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়ছে চাপ।

এই বাস্তবতায় তরুণ নেতৃত্বের হাতে পৌরসভা গেলে নতুন ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তাঁর সমর্থকরা।

উন্নয়নই হতে পারে নির্বাচনী পরীক্ষার মূল বিষয়

রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থী হিসেবে একজন নেতার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতা।

বেনাপোল পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের আলোচিত সমস্যার মধ্যে রয়েছে সড়ক যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট, নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবার মান।

এর সঙ্গে রয়েছে বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বিশেষ নগর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন।

ইমদাদুল হক ইমদাদের সমর্থকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন পেলে এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল নাগরিক সেবা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের।

‘ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’

ইমদাদুল হক ইমদাদের মেয়র পদে আগ্রহ প্রকাশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে আলোচনা থাকলেও দলীয় মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্পষ্ট করেছেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত যাকে দলীয় মনোনয়ন দেবে, সবাই তাঁর পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

এ বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি দলের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও মনোনয়ন ঘোষণার পর দলীয় ঐক্য ধরে রাখা নির্বাচনী সাফল্যের অন্যতম শর্ত।

ইমদাদুল হক ইমদাদের সমর্থকরাও বলছেন, তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।

কর্মীদের কাছে ‘ত্যাগী’ নেতৃত্বের পরিচয়

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একটি অংশের মতে, ইমদাদুল হক ইমদাদের রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম জায়গা হলো তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ।

তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে থাকার কারণে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

একজন সংগঠক হিসেবে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং কঠিন সময়ে মাঠে থাকার অভিজ্ঞতাকে তাঁরা তাঁর বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন।

তবে জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের প্রকৃত মাপকাঠি নির্বাচনী মাঠেই নির্ধারিত হয়। দলীয় কর্মীদের সমর্থন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বেনাপোলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ইমদাদের সম্ভাবনা

বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে এখন নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই আলোচনায় আসছে।

এই পরিস্থিতিতে ইমদাদুল হক ইমদাদের নাম সামনে আসার পেছনে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকরা।

বিশেষ করে রাজনৈতিক হামলা-নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং প্রতিশোধের বদলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তির একটি আলাদা দিক হিসেবে তাঁরা তুলে ধরছেন।

প্রতিশোধের বদলে সহনশীলতা—রাজনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, নির্বাচনী প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত না করাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির বড় চ্যালেঞ্জ।

ইমদাদুল হক ইমদাদের সমর্থকদের বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে তিনি যে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছেন, সেসব অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রতিহিংসাপরায়ণ না করে বরং আরও সাংগঠনিক হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

তাঁদের ভাষায়, যে নেতা নিজের ওপর আঘাতের জবাব ব্যক্তিগত প্রতিশোধ দিয়ে না দিয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিতে চান, তাঁর জন্য জনসেবার রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বেশি।

অবশ্য একজন নেতার রাজনৈতিক চরিত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু সমর্থকদের বক্তব্য নয়, তাঁর দীর্ঘ সময়ের কর্মকাণ্ড, প্রকাশ্য বক্তব্য এবং ভবিষ্যৎ আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কঠিন পরীক্ষা

ইমদাদুল হক ইমদাদের সামনে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে একাধিক কঠিন পরীক্ষা।

প্রথমত, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া। দ্বিতীয়ত, মনোনয়ন পেলে দলের ভেতরের বিভিন্ন মত ও পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করা। তৃতীয়ত, সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা। চতুর্থত, নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিশ্রুত নাগরিক সেবা বাস্তবায়ন করা।

অতীতের রাজনৈতিক ত্যাগ একজন প্রার্থীর পরিচয় তৈরি করতে পারে, কিন্তু পৌর নির্বাচনে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনাও বিবেচনা করবেন।

সুতরাং ইমদাদুল হক ইমদাদের রাজনৈতিক অতীত যেমন আলোচনার বিষয়, তেমনি বেনাপোলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনাও নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা: রক্তাক্ত অতীত থেকে জনসেবার ভবিষ্যৎ?

বেনাপোলের রাজনৈতিক মাঠে ইমদাদুল হক ইমদাদের নাম নতুন নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁর সহকর্মীরা।

এখন সেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে তিনি কীভাবে নাগরিক নেতৃত্বে রূপ দিতে পারেন—সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

যদি দলীয় মনোনয়ন পান, তাহলে তাঁকে শুধু দলের কর্মীদের নয়, বেনাপোলের সাধারণ ভোটারদেরও আস্থা অর্জন করতে হবে। আর সেই আস্থা অর্জনের প্রধান পথ হবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার বাস্তব প্রয়োগ।

তাঁর সমর্থকদের কাছে ইমদাদুল হক ইমদাদ শুধু একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নন; তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক।

আর তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের সবচেয়ে বড় গুণ হিসেবে তাঁরা যে বিষয়টি সামনে আনছেন, সেটি হলো—নির্যাতনের অভিযোগের স্মৃতি থাকলেও প্রতিশোধের রাজনীতিকে নিজের রাজনৈতিক পথ না বানানো।

বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে এই দাবির বাস্তব পরীক্ষা হবে আরও বড় পরিসরে। দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী মাঠ এবং সর্বশেষে ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে—ইমদাদুল হক ইমদাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা তাঁকে পৌর নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যেতে পারে কি না।

ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পর্যবেক্ষণ: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি নয়—বেনাপোলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে উন্নয়ন, সহনশীলতা, জবাবদিহি ও নাগরিক সেবার প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।


More News Of This Category
bdit.com.bd