মুন্সিগঞ্জে অতীশ দীপঙ্কর আন্তর্জাতিক হিসেবে প্রখ্যাত ভূমিকা করুণানন্দ থের
মোঃ সুজন বেপারী – মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগীনি ইউনিয়নের সোমপাড়া গ্রামে পাল সাম্রাজ্যের বিখ্যাত বৌদ্ধ ধর্ম অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থানকে “পণ্ডিতের ভিটা” নামে পরিচিত করে থাকে। অতীশ দীপঙ্কর মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের আন্তর্জাতিক হিসেবে প্রখ্যাত ভূমিকা পরিচালক অধ্যক্ষ ভদন্ত করুণানন্দ থের।
আন্তর্জাতিক অতীশ দীপঙ্কর বলতে এই প্রখ্যাত বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত, যিনি তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ধর্মগুরু, দার্শনিক ও অনুবাদক, যিনি দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করে তিব্বতের ধর্ম ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁর অবদান ও জীবন আজও বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক ভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
অতীশ দীপঙ্করের জীবন দর্শন অতীশ দীপঙ্করের পিতা ছিলেন পাল রাজাদের অধীনস্ত সামন্ত রাজা। শৈশবে তাঁর নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ। ১০ বছর বয়সেই অতীশ বৌদ্ধ ও অবৌদ্ধ শাস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারার এক বিরল প্রতিভা প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি নালন্দায় শাস্ত্র শিক্ষার জন্য যান এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান নামে পরিচিত হন। ১২ থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পণ্ডিতের কাছে শাস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করেন। সর্বশেষ দীক্ষা তিনি আচার্য ধর্ম পালের কাছ থেকে গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ ১২ বছর বৌদ্ধ দর্শন শাস্ত্র অধ্যয়ন করার পর স্বদেশে ফিরে বিক্রমশিলা বিহারে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি বৌদ্ধ শাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা ও কারিগরি বিদ্যা বিষয়ে প্রায় দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন। বৌদ্ধ ধর্মের নানা সংস্কারের মধ্যে তিনি সন্ন্যাসী জীবন অতিবাহিত করলেও ১০৫৪ সালে ৭৩ বছর বয়সে লাসা নগরের চে-থঙ্গের দ্রোলমা লাখাং তারা মন্দিরে তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি তিব্বতের কাছে একজন মহামানব এবং ‘অদ্বিতীয় গুরুরূপে’ পূজনীয়। তাঁর নামে বাংলাদেশে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ২০০৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে অনুমোদন পায়। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি পণ্ডিত যিনি পাল সাম্রাজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারক ছিলেন।
তাঁর রচনাবলী বৌদ্ধ শাস্ত্র, চিকিৎসা বিদ্যা এবং কারিগরি বিদ্যা সম্পর্কিত ছিল, যা তিব্বতী ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়। তিনি তিব্বতের ধর্ম, রাজনীতি এবং জীবনধারা সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেন, যার মধ্যে ‘তাঞ্জুর’ নামে একটি বিশাল শাস্ত্রগ্রন্থও রয়েছে। তিব্বতে তাঁর অবদান এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, স্থানীয়রা তাঁকে ‘অতীশ’ উপাধিতে ভূষিত করে।