তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার
প্রতিবেদক: এস চাঙমা সত্যজিৎ
প্রকাশনা: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
ওয়েবসাইট: www.bangladeshprothomsangbad.com
—
পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত
তিন দশকের ঐতিহ্য, ত্রিশ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে ভাবগাম্ভীর্যে মহাউৎসব
পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি—
পাহাড়ের বুকে শান্তির প্রতীক, ধ্যান ও ধর্মচর্চার পবিত্র স্থান “পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির”–এ এবারও ভাবগাম্ভীর্যে, ধর্মীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় অনুষ্ঠান মহান দানোত্তম কঠিন চীবর দান ২০২৫ (বুদ্ধাব্দ ২৫৬৯)।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই উৎসবটি প্রতি বছরের মতো এবারও পরিণত হয়েছে দেশ-বিদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক মহামিলনমেলায়।
গতকাল (১০ অক্টোবর) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই মহান দানোত্তম কঠিন চীবর দান আজ শনিবার মূল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রভাত থেকেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদজুড়ে শুরু হয় ধর্মীয় স্তোত্রপাঠ, পঞ্চশীল গ্রহণ ও দানীয় সামগ্রী উৎসর্গ। দিনব্যাপী চলা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা, ভিক্ষু সঙ্ঘসহ ত্রিশ হাজারেরও অধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
—
প্রজ্ঞার আলোর উৎসে কঠিন চীবর দান
উৎসবের মূল আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সর্বজন পূজ্য শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির, যিনি মহান বনভন্তের শিষ্যসঙ্ঘের প্রধান ও রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক অধ্যক্ষ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার আলো ছড়ানো পথপ্রদর্শক, পরম মৈত্রেয় লাভী, শ্রীমৎ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির— যিনি এই শান্তিপুর অরণ্য কুটির প্রতিষ্ঠা করে বহু বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজে আলোকবর্তিকা হয়ে আছেন।
এ সময় বিভিন্ন বন বিহার, কুটির ও পার্বত্য বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষগণও মঞ্চের আসনে উপবিষ্ট ছিলেন।
—
ধর্মীয় আচার ও পূণ্যদান
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন শ্রদ্ধেয় ভন্তের প্রিয় ভাজন ও একনিষ্ঠ দায়ক জুনেল চাকমা।
পঞ্চশীলসহ বুদ্ধ বন্দনা ও ভিক্ষু সঙ্ঘের বন্দনা পর্ব পরিচালনা করেন ধম্মদায়াদা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুপেন চাকমা, আর জল সিঞ্চনের দায়িত্বে ছিলেন দায়ক বিনয় কান্তি চাকমা।
সকালের ধর্মদেশনা প্রদান করেন পানছড়ি উপজেলার সঙ্ঘ মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তেজ জ্যোতি স্থবির মহোদয়।
দিনব্যাপী ত্রি-চীবর দান, অষ্টপরিস্কার দান, সঙ্ঘ দান, পিণ্ডদান ও কল্পতরু দানের মাধ্যমে পূণ্যলাভে অংশ নেন হাজারো ভক্ত।
—
সমবেত শ্রদ্ধা ও মানবিক সেতুবন্ধন
উপদেষ্টা কমিটির প্রধান সমীর দত্ত চাকমা, উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অসেতু বিকাশ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চাকমা, প্রভাষক ত্রিরতন চাকমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছায় ভিক্ষু সঙ্ঘকে বরণ করেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে ধর্মদেশনা প্রদান করেন শ্রীমৎ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির মহোদয়, যিনি শান্তি, দান ও মৈত্রীর বার্তা ছড়িয়ে দেন সমবেত জনতার হৃদয়ে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির তাঁর ধর্মীয় দেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
উপস্থিত ভক্তবৃন্দ সমবেতভাবে তিনবার উচ্চারণ করেন—
“সাধু, সাধু, সাধু।”
—
এই মহান চীবর দান উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এক গভীর মানবিক শিক্ষা — দান, ত্যাগ ও সহমর্মিতার চিরন্তন বার্তা।
পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির এ যেন বছর বছর এভাবেই আলোকিত হয়ে ওঠে বুদ্ধের করুণার দীপ্তিতে।
—
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com