বাগেরহাটে ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ে: বরযাত্রার আগেই বৌভাত, যৌতুকবিরোধী নজির, মুগ্ধ এলাকাবাসী
মোঃ ফিরোজ আহমেদ
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বিয়ের অনুষ্ঠানে নতুনত্ব আনা যেন এখন একধরনের সামাজিক প্রতিযোগিতা। শীতের মৌসুমে যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থানে লাখো ছেলে–মেয়ের ঘর সাজানোর উৎসব চলছে, সেখানে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ে। শুধু ধুমধাম নয়, যৌতুকবিরোধী দৃষ্টান্ত, প্রথা ভেঙে নতুন ভাবনা, এবং দুই পরিবারের সৌহার্দ্য—সবকিছু মিলিয়ে এই বিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বরযাত্রার আগেই বৌভাত! নেটিজনদের চোখ কপালে
গত ২০ অক্টোবর ২০২৫, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে রোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোড়েলগঞ্জের ভাইজোটা ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সেনা সদস্য সার্জেন্ট (অব.) মোঃ মহিউদ্দিন (মিন্টু) মোল্লা ও মোসাঃ শাহানারা দম্পতির বড় ছেলে—ডিপ্লোমা ইন সিভিল প্রযুক্তিতে অধ্যয়নরত মোঃ ফাহিম মোল্লা। তার সঙ্গে বিবাহসূত্রে যুক্ত হন খুলনার ‘রায়ের মহল’-এ বসবাসরত সৈয়দ মিন্টু কবির ও মোসাঃ সাবিনা দম্পতির বড় কন্যা মোসাঃ মরিয়ম মিম।
বিয়ের শুরু থেকেই ছিল ব্যতিক্রমের ছোঁয়া। ছেলে ও মেয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান একসঙ্গে এবং জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় ছেলের বাড়িতে। এরপর ঘটে আরেক চমক—বরযাত্রা মেয়ে বাড়িতে যাওয়ার আগেই বরপক্ষই মেয়েপক্ষকে ছেলের বাড়িতে বৌভাতের নিমন্ত্রণ জানায়। প্রচলিত রীতি ভেঙে এমন আয়োজন সবাইকে চমকে দেয়।
“যৌতুকবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি”—বরের বাবা
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে বরের বাবা সার্জেন্ট (অব.) মোঃ মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন—
> “আমার ইচ্ছে ছিল সমাজে একটি বার্তা দেওয়ার—বিয়ে মানেই যৌতুক নয়, দর-কষাকষির ঝামেলা নয়। ভালোবাসা, সম্মান আর পারিবারিক বন্ধন দিয়েই সুন্দরভাবে বিয়ে করা যায়। তাই ছেলের বিয়েতে ব্যতিক্রম কিছু করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, দুই পরিবার অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশে বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। কোনও বাড়াবাড়ি নয়, কোনও চাপ নয়—শুধু আনন্দ, আন্তরিকতা আর মানবিকতা।
এলাকায় প্রশংসার ঝড়, নেটিজনরাও মুগ্ধ
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সমাজে যেখানে বিয়ে ঘিরে প্রতিযোগিতা, উচ্চ ব্যয়, যৌতুক, বিলাসিতার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে এমন সাদামাটা অথচ স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ে সমাজে অনুকরণীয় উদাহরণ।
মোরেলগঞ্জসহ বাগেরহাট জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিয়ে নিয়ে চলছে আলোচনা। অনেকেই লিখেছেন—
“যৌতুকমুক্ত মানবিক সমাজ গড়তে এ ধরনের উদ্যোগ আরও দেখা উচিত।”
“বরযাত্রার আগেই বৌভাত!—এমন বিয়ের রীতি সত্যিই নতুনত্ব আনলো।”
সমাপ্তি
ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ে শুধু দুই পরিবারকেই আলোচনায় আনেনি, বরং যৌতুকপ্রথা ও সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে এক মানবিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সার্জেন্ট (অব.) মহিউদ্দিন মোল্লার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারে—বিয়ে হতে পারে সরল, ব্যয়-সংযত, আনন্দঘন এবং সম্পূর্ণ মানবিক।