পিনাকি ভট্টাচার্য: “বিএনপিকে সবাই সাপোর্ট করবে—এটা মামার বাড়ির আবদার”
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | রাজনৈতিক ডেস্ক
২৫ জুলাই ২০২৫
রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও তীক্ষ্ণ ভাষাভঙ্গির বিশ্লেষক পিনাকি ভট্টাচার্য সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে বিএনপি ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তিনি সরাসরি বলেন—
> “আমরা নাকি বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দিতে চাইনা। বা ক্ষমতায় আসলেও শক্তিশালী দল হিসাবে যেন না আসে সেই চেষ্টা করতেছি।”
“যারা বিএনপি না করে তারা তো সেইটাই চাইবে। তারা চাইবে বিএনপির বদলে হয় তার দল ক্ষমতায় আসুক বা তার পছন্দের দল ক্ষমতায় আসুক, বা আসতে পারলেও বিএনপির আসন সংখ্যা যেন কমে। এইটাই ডেমোক্রেটিক রাজনীতির স্পিরিট। এইটাই বিরোধী দলের কাজ। এইটাকে ষড়যন্ত্র বলার কী আছে? ডেমোক্রেটিক রাজনীতির স্পিরিটকে ষড়যন্ত্র বলতো তো হাসিনা। বিএনপি কি আরেকটা বাকশাল চাচ্ছে?”
এখানে পিনাকি মূলত একটি অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন: গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিপক্ষকে দুর্বল রাখার ইচ্ছা কি স্বাভাবিক, নাকি ষড়যন্ত্র?
গণতন্ত্র মানেই তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা
পিনাকি ভট্টাচার্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতি মানেই নিজের দলকে সামনে আনা এবং প্রতিপক্ষকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা। গণতন্ত্রের স্পিরিট এটাকেই স্বীকৃতি দেয়। যেসব দল বিএনপিবিরোধী, তাদের চাওয়া খুবই স্বাভাবিক—বিএনপি যেন না আসে, অথবা এলেও যেন দুর্বল হয়ে আসে। এটাই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতির গঠনমূলক বাস্তবতা।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন:
> “বিএনপির কর্মী সমর্থকদের চাওয়া হচ্ছে আমরা সবাই বিএনপিকে সাপোর্ট করি, বিএনপি যেন ক্ষমতায় আসে চ্যালচ্যালাইয়া, পোচুর সিট পায় সংসদে। মামার বাড়ির আবদার আরকি।”
বিএনপির সামনে কঠিনতম নির্বাচন?
পিনাকি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি যদি সত্যিকারের বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে তাকে জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই ক্ষমতায় আসতে হবে। তিনি বলেন—
> “বিএনপিকে তার জনপ্রিয়তার পরীক্ষা দিয়েই ক্ষমতায় আসতে হবে। বিএনপির নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়াটা হয়ে উঠবে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এমন চ্যালেঞ্জ বিএনপি আগে কখনো ফেইস করে নাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: বার্তা তিনটি
১. গণতন্ত্র মানে সবাই সাপোর্ট করবে এমন ধারণা অযৌক্তিক।
২. রাজনীতিতে নিজের শক্তি দিয়ে জায়গা করে নিতে হয়, আবেগ দিয়ে নয়।
৩. বিএনপিকে যদি সত্যিই ফিরে আসতে হয়, সেটা আসবে তীব্র প্রতিযোগিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মধ্য দিয়েই।
পিনাকি ভট্টাচার্যের বক্তব্য একপাক্ষিক বা রূঢ় মনে হতে পারে, কিন্তু এর ভেতরে আছে এক নির্মম বাস্তবতা—গণতন্ত্রে জায়গা নিতে হয় রণাঙ্গনে। সহযোগিতার নামে দাবিকৃত সেন্টিমেন্টালিজমের যুগ শেষ। বিএনপিকে আজ সত্যিকার অর্থেই রাজনৈতিক পরীক্ষার আগুনে ঝাঁপ দিতে হবে, যেখানে আবদার নয়, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতাই হবে বিজয়ের একমাত্র নিয়ামক।