৮৪ দিনের অবস্থানের পর নবান্ন অভিযান: আন-এডেড মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষা কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল কলকাতা
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ | নিজস্ব প্রতিনিধি
পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত আন-এডেড মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আন এডেড মাদ্রাসা ঐক্য মঞ্চ-এর ডাকে বুধবার (১১ মার্চ) কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় ব্যাপক কর্মসূচি ‘নবান্ন অভিযান’। দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া পূরণের আশায় দুপুর ঠিক দুইটায় Sealdah Railway Station থেকে শুরু হয় এই মিছিল।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, গত ৮৪ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং ধারাবাহিকভাবে ১৯তম দিনের ইফতার মাহফিল আয়োজন করার পরও তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা নবান্ন অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় ২৩৫টি আন-এডেড মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষা কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি। শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা এবং মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তাদের এই আন্দোলন।
বুধবার দুপুরে কয়েকশো শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মী শিয়ালদা স্টেশনে জমায়েত হয়ে মিছিল শুরু করেন। সেখান থেকে ব্যানার্জি রোড ধরে Nabanna-এর উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে থাকেন তারা। কিন্তু Kolkata Municipal Corporation-এর সামনে পৌঁছালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আগে থেকেই কয়েকশো পুলিশ সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মোতায়েন ছিলেন।
মিছিলকারীরা ব্যারিকেডের সামনে পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নবান্নের দিকে যেতে না দেওয়ায় তারা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—তাদের নবান্নে যেতে দিতে হবে, নইলে তারা সেখানেই বসে ইফতার করবেন। তাদের বক্তব্য, “আমরা এতদিন রাস্তায় বসে ইফতার করেছি, আজও করব। তবু আমরা নবান্নে গিয়ে আমাদের দাবি জানাবো।” এরপর তারা রাস্তার উপর বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মিছিলের জন্য কোনো পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়নি, তাই তাদের এগিয়ে যেতে দেওয়া সম্ভব নয়। এর জবাবে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন—আন্দোলন করা কি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নয়? তারা উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee অতীতে আন্দোলন-অবস্থান করেছেন; সে সময় কি সবসময় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল?
এ সময় মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ মাইক কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরে মাইক পরিচালনাকারীর অনুরোধে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মাইক সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন সরকারের নির্দেশ মেনে চললেও ন্যায্য দাবির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আহ্বান জানান, যেন দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করা হয় এবং মাদ্রাসাগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হয়।
রিপোর্টার: সমরেশ রায় ও শম্পা দাস
স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।