১ জুলাই ২০২৫
নাজমুস সাকিব
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বর্তমানে চরম বিতর্কের মুখে। একের পর এক অস্বচ্ছ ও নিয়মবহির্ভূত নিয়োগে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এক বিতর্কিত নাম—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যিনি বিভিন্ন মহলে ‘শিশু উপদেষ্টা’ হিসেবেই অধিক পরিচিত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বিসিবির লজিস্টিকস ও প্রটোকল বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন জিহাদুর রহমান সোহান নামে এক ব্যক্তি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, মাত্র কয়েক মাস কাজ করেই তার চাকরি পার্মানেন্ট করে দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির প্রচলিত নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী।
এছাড়াও, গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন আশিক জামান, যিনি এই পদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা রাখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবুও শুধুমাত্র আসিফ মাহমুদের সুপারিশেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—লজিস্টিকস ও প্রটোকল বিভাগের আরেকটি এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম আকাশ। বিসিবি সূত্র জানায়, এই নিয়োগের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, যার ব্যক্তিগত অনুরোধে আবারও অনুমোদন দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
বর্তমান বাস্তবতায় বিসিবির চাকরিগুলো তরুণ প্রার্থীদের জন্য একটি স্বপ্নের মতো। অথচ সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া, নিয়োগ বোর্ড গঠন ছাড়া এবং মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ছাড়াই পদ ভাগ হয়ে যাচ্ছে পরিচিতজনদের মধ্যে।
এ নিয়ে বিসিবির ভেতরে অসন্তোষ দানা বাঁধলেও, কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বিসিবি এখন ‘যোগ্যতা নয়, সম্পর্কই শেষ কথা’—এই চর্চার কালো অধ্যায়ে ঢুকে পড়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। যখন মাঠে ব্যর্থতা নিয়ে ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, তখন বোর্ডের ভেতরের এই ‘সুপারিশ সংস্কৃতি’ অনায়াসে পার পেয়ে যায়। বিসিবিকে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অবিলম্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
অনুসন্ধানে রয়েছে বিসিবিতে এমন আরও বেশ কিছু বিতর্কিত নিয়োগের তথ্য। আগামীতে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো প্রকাশ করা হবে।
ছবি ব্যাখ্যা:

– প্রথম কার্টুন ছবিতে বোঝানো হয়েছে, কীভাবে ব্যক্তিগত আগ্রাসনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেন একরকম গিলে ফেলা হচ্ছে।
– দ্বিতীয় ছবিটি নিয়ে বিসিবির নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের দেখা যাচ্ছে একই ফ্রেমে।