🗓️ ৩০ জুন ২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ❝ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেছনের ছায়া—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ৭ অভিযোগ❞
বাংলাদেশের প্রশাসনিক অঙ্গনে চলমান সবচেয়ে আলোচিত নাম—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একের পর এক বিতর্ক, দুর্নীতির অভিযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারে তাঁর নাম বারবার সামনে উঠে আসছে। ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত সাতটি গুরুতর অভিযোগ তাকে কেন্দ্র করে সরাসরি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন ও কম্বল বিতরণের অজুহাতে মাত্র ৬ দিনে ২৮ বার হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। ৯ কিমি পথ পাড়ি দিতেও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নজির তৈরি করেন তিনি। এই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে তাকে “হেলিকপ্টার উপদেষ্টা” নামে খ্যাতি দিয়েছে।
আসিফ মাহমুদের বাবা সরকারি কাজের লাইসেন্স পান ছেলের প্রভাব খাটিয়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসতেই আসিফ মাহমুদ প্রকাশ্যে ‘বাবার ভুলের জন্য’ ক্ষমা চান। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই ক্ষমা কি নৈতিক দায় থেকে মুক্তির জন্য যথেষ্ট?
সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। অভিযোগ—সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ বাণিজ্য ও কমিশনভিত্তিক নিয়োগে জড়িত থাকা।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও পদে বদলিকে কেন্দ্র করে পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার ঘুষ লেনদেনের অডিও ফাঁস হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বদলির পেছনে ছিল ২০ কোটি টাকার দুর্নীতির চক্রান্ত।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এডহক প্রশাসক হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তি এজাজকে নিয়োগ দেন আসিফ মাহমুদ। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে এজাজের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ইশরাক হোসেনকে শপথ নিতে দেওয়া হয়নি। এটি আদালত অবমাননার স্পষ্ট উদাহরণ।
সম্প্রতি বিমানবন্দরে অস্ত্রভর্তি ব্যাগসহ প্রবেশ করে দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েন উপদেষ্টা আসিফ। যদিও দাবি করা হয় লাইসেন্সধারী অস্ত্র, কিন্তু বয়সসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং আয়ের উৎস এখনও রহস্য ঘেরা। কে এই মহিউদ্দিন রিয়াজ?
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে প্রায় প্রতিটি সরকারি সফরে দেখা যাচ্ছে একজন রহস্যময় যুবককে—মহিউদ্দিন রিয়াজ। তিনি কোনো সরকারি কর্মকর্তা, উপদেষ্টা বা প্রটোকল কর্মকর্তা নন, অথচ সিসিটিভি ফুটেজে বারবার দৃশ্যমান। প্রশ্ন উঠেছে—এই ব্যক্তির ‘বিশেষ অধিকার’ কীসের ভিত্তিতে?
সামাজিক মাধ্যমে এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে চলেছে তীব্র সমালোচনা ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ। একজন উপদেষ্টাকে কেন্দ্র করে এতো অভিযোগ, অথচ প্রশাসনিক স্তরে তার কোনো জবাবদিহিতা না থাকাটাই বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশের প্রশাসনে এমন নজিরবিহীন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এখনো উপদেষ্টা পদে বহাল। প্রশ্ন জাগে—দায়মুক্তির এই সংস্কৃতি কি আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করছে না?
ক্ষমতার পালাবদলে এই সব ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি এখন জনমত হয়ে উঠছে।
#AsifControversy #HelicopterAdvisor #Ghush20Crore