একটি নাম, এক মহাসড়ক, এক দুর্নীতির প্রতীক: ওবায়দুল কাদের
৪ জুলাই ২০২৫ |
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
ওবায়দুল কাদের: উন্নয়নের মুখোশে অনিয়মের কিংপিন?
আপনি যখন ঢাকা থেকে নোয়াখালী বা ফেনীর দিকে গাড়ি চালিয়ে যান, রাস্তা ঝকঝকে। মনে হতে পারে, দেশ এগিয়েছে। কিন্তু সেই রাস্তার নিচে পুঁতে রাখা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, কমিশনের চেইন, আর পরিবারতন্ত্রের পাকা পোকা—সেটা আপনি দেখেন না।
এই রাস্তার ইঞ্জিন কাকে বলা হয়?
নাম: ওবায়দুল কাদের—প্রাক্তন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের হেভিওয়েট নেতা, এক সময়ের কথিত ছাত্রনেতা, আজকের কমিশনের কাণ্ডারি।
—
দুর্নীতির রোডম্যাপ: ঘুষে বাঁধানো মহাসড়ক
কাদেরের সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে যত প্রকল্প হয়েছে, ততবারই উঠে এসেছে একটি শব্দ: কমিশন।
১৩৭টি এসি বাস প্রকল্প: কথিতভাবে কোটি টাকার অনিয়ম, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের বেপরোয়া লাভ।
প্রকল্প কমিশন: ১৫–২০% নিয়মিত হারে উপরের মহলে চলে যেত ‘খরচ’ বাবদ।
সওজ দুর্নীতি: ৩০–৪০% ব্যয়ই হতো প্রকল্পের বাইরের ঘুষ-চাঁদা ও লুটপাটে।
অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে: “একটা প্রকল্প পাস করাতে হলে প্রথমেই কাদের সাহেবের পছন্দের ঠিকাদারকে জানাতে হয়।”
সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি নাম না বললেও ইঙ্গিত স্পষ্ট: কাদের মানেই টেন্ডার রাজনীতি। আর টেন্ডার মানেই ঘুষের গেইম।
—
এক নজরে দুর্নীতির চিত্র:
বিষয় তথ্য
বাস প্রকল্পে অনুসন্ধান ১৩৭টি এসি বাস; কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
সওজ দুর্নীতি ৩০–৪০% ব্যয় অনিয়মে; ১৫–২০% কমিশন + ২–৬% চাঁদা
আইনজীবীর অভিযোগ কাদের, স্ত্রী ও ভাইদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মামলা
দুদকের অবস্থান এখনো তদন্ত পর্যায়ে, মামলা দায়ের হয়নি
ব্যক্তিজীবন: বাহাদুরি না চরিত্রহীনতা?
প্রশ্ন উঠেছে বারবার—”কাদের সাহেব রাজনীতিক ছিলেন, না চরিত্রহীন ক্ষমতার দানব?”
একাধিক নারী কেলেঙ্কারির গুঞ্জন ঘুরে বেড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
মিডিয়া সন্ত্রাস ও ছাত্র সংগঠনে সন্ত্রাসীদের পোষা—এ বিষয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন ফোরামে।
তার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে রয়েছে বিদেশে সম্পদ ও শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক বিনিয়োগ।
পরিবারিক নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদারি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে বহুবার।
এমনকি জানা যায়, তিনি নিজেই কখনও তার সম্পদের হিসাব সংসদে বা জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি।
—
‘মাগীবাজ’ ট্যাগ, গুজব না ইতিহাস?
এক সময়ের ছাত্র রাজনীতিতে তাকে ঘিরে ঘুরত আরেক বিশেষণ—”মাগীবাজ কাদের”।
রাজনীতিতে এই শব্দটি যত আপত্তিকর, ততটাই ভয়ংকর যদি তা বাস্তব হয়।
প্রাক্তন ছাত্রনেতারা বলেন, “ওই সময় হলে ছাত্র রাজনীতি মানেই ছিল কাদেরের ভয়।”
কারণ: ছাত্রী হলে হস্তক্ষেপ, নারী ব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার—সবই চলত ‘বড় ভাই’ হিসেবে।
—
বিশ্লেষণ: একটি পদ্ধতির প্রতীক
ওবায়দুল কাদের শুধুই একজন ব্যক্তি নন—তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দুর্নীতির প্রতীক।
উন্নয়নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে লুটপাটের মঞ্চ সাজানোর প্রকৌশলী।
আজ যদি সৎভাবে একটি কমিশন গঠন করে অনুসন্ধান চালানো হয়—ওবায়দুল কাদেরের নাম থাকবে প্রথম সারিতেই।
সময়ই সত্য বলে দেবে
সময়ের দেয়ালে সব নাম থাকে না।
কিন্তু কিছু নাম থাকে বিচারকের কাঠগড়ায়, ইতিহাসের কালো পাতায়।
ওবায়দুল কাদের কি থাকবেন সেই পাতায়?
এই প্রশ্ন ভবিষ্যতের। কিন্তু তার উত্তর লেখা হচ্ছে আজ, জনগণের হাতে, সাংবাদিকতার কালি দিয়ে।
—
প্রকাশনায়: Daily Prothom Bangladesh
✍️ লিখেছেন:
🎥 ভিডিও সংস্করণ, Reels ও Documentary ইনভেস্টিগেশন আসছে শিগগিরই…