আলেমদের মুক্তি নয়, নাটকীয় মিছিল—‘জিহাদ’ নামক ভণ্ডামি কি জামায়াতকে রাষ্ট্রীয় কৌশলের পয়দা বানিয়েছে?
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতিতে এক গভীর নৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। “আলেমদের মুক্তি” কিংবা “ইসলামি রাষ্ট্র”—এইসব আদর্শের আড়ালে বর্তমান জামায়াতপন্থী আন্দোলন ক্রমেই বিতর্কিত, বিভ্রান্তিকর ও গোয়েন্দা নকশার অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমনটাই উঠে এসেছে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের এক বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টে, যেখানে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—“আসল শত্রু চিনতে ব্যর্থ হলে, আলেমদের রক্ত শুধু ব্যবহৃতই হবে, রক্ষা পাবে না।”
“আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ? কিন্তু কার আদেশে?”—রাজনৈতিক কৌশল না বিভ্রান্তি?
সাম্প্রতিক বায়তুল মোকাররমের সামনে ‘জিহাদি’ স্লোগানে করা এক বিক্ষোভকে ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কালো পতাকায় লেখা কালেমা, ‘খেলাফত রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার ডাক, এবং পশ্চিমা শক্তিবিরোধী প্রচারণা—সব মিলিয়ে দৃশ্যপট অনেকটা “গাযওয়ায়ে হিন্দ” ভাবধারার অনুকরণে সাজানো হয়েছে। তবে ইলিয়াস হোসাইন প্রশ্ন তুলেছেন—এই আন্দোলনের জন্মস্থান কোথায়? আদর্শের ভিত্তি না কি গোয়েন্দা নকশার বাস্তবায়ন?
তিনি দাবি করেন, এই পতাকাগুলো রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই দ্বারা ‘ডিজাইন’ করা একটি কথিত ইসলামি দলের প্রতীক। তিনি বলেন,
> “কালেমা লেখা পতাকার জন্য জীবন দিব, কিন্তু যে ব্যক্তি কালকের পতাকা আপনাদের হাতে দিয়েছে, তাকে জিজ্ঞেস করুন—এই পতাকা কোথায় তৈরি হয়েছে?”
ডিজিএফআই-ডিএমআই ও ইসলামপন্থী নেতাদের গোপন বৈঠক: খেলা হচ্ছিল অনেক আগে থেকেই?
সাংবাদিক ইলিয়াস সরাসরি ইঙ্গিত দেন—হেফাজতের কিছু নেতা ওয়াকার ও ডিএমআই-এর সাথে গোপনে বৈঠক করেছেন। আন্দোলনের নামে যারা রাস্তা কাঁপাচ্ছেন, অনেকেই আদতে সিস্টেমের সুবিধাভোগী এবং ইসলামপন্থী রাজনীতিকে ঠুনকো নাটকের পরিণত করেছেন।
> “আপনারা যাদের নিয়ে মিছিল করছেন, তাদের অনেকে ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখন আমায় ‘আমেরিকার দালাল’ বলছেন, অথচ কারা কার সঙ্গে বসছে, তা কি জানেন?”
১শ আলেমের জামিন নিশ্চিত: কিন্তু কার পক্ষে কাজ করছেন?
ইলিয়াস হোসাইন দাবি করেছেন, তার মধ্যস্থতায় ১০০ এর বেশি আলেম কারামুক্ত হয়েছেন, যা জামায়াত বা হেফাজত কোনো প্ল্যাটফর্মই পারেনি। অথচ যারা মাঠে কিছুই করতে পারেননি, তারাই এখন তাকে ‘দালাল’ তকমা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে।
তিনি বলেন,
> “আপনারা কিছুই করতে পারেননি। পারবেনও না, গ্যারান্টি দিলাম! কিন্তু আমাকে দালাল বানাতে পারলেন। এই কী কৌশল?”
প্রথম আলো এখনো অফিস করছে, ‘সন্ত্রাস দমন আইন’ এখনো বহাল: তাহলে কী বিজয় উদযাপন?
এক জ্বালাময়ী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি—যেসব মিডিয়া ১৫ বছর ধরে আলেমদের ‘জঙ্গি’ বানিয়ে প্রচার করেছে, সেই প্রথম আলোর সাংবাদিকেরা এখনও দিব্যি অফিস করছে। কিন্তু হেফাজত কিংবা জামায়াত এই ১৫ বছরে ‘সন্ত্রাস দমন আইন’ বাতিল তো করাতে পারেইনি, একটা সম্মিলিত জাতীয় সমাবেশও আয়োজন করতে পারেনি।
আলেমদের হাতে প্রতীক, কিন্তু কৌশলহীন নেতৃত্ব—কারা লাভবান?
বর্তমান ‘আমেরিকা বিরোধী’ মুখোশধারী রাজনৈতিক স্লোগানকে সাংবাদিক ইলিয়াস বলছেন “দূরদর্শিতাহীন রাজনৈতিক অপকৌশল”। তিনি সতর্ক করেছেন—আমেরিকাকে ধাক্কা দিয়ে ভারতকে পরোক্ষে লাভবান করা হচ্ছে, যার পরিণামে “পাকিস্তান-পন্থী ইসলামী চেতনা” পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতে পারে।
বিশ্লেষণ: জামায়াত কী আদর্শভিত্তিক? নাকি গোয়েন্দা দপ্তরের আরেকটি প্রজেক্ট?
এই প্রতিবেদন এক স্পষ্ট প্রশ্ন সামনে আনছে—জামায়াত কি আদৌ ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে? নাকি এটি রাষ্ট্রের ভিতর রাষ্ট্র তৈরি করার ছায়াযুদ্ধের একটি ‘প্লাস্টিক সৈনিক’?
আলেম সমাজের জন্য এখন সময় এসেছে নিজেরাই প্রশ্ন করবার—
“আমাদের হাতের পতাকা কোথা থেকে এল? আমাদের কণ্ঠের স্লোগান কে লিখে দিল?”
সাবধানতা ও বুদ্ধির সময় এখন। নয়তো ভবিষ্যতের ইতিহাসে লেখা হবে—
“আলেমদের সরলতাকে ব্যবহার করে একদল কৌশলী ভণ্ড নেতৃত্ব শুধু পতাকা তুলেছিল, মুক্তি দেয়নি।”