🗓 ৩ জুলাই ২০২৫
✍ Nazmul Hassan Nayan
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো নীরবে কিন্তু নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছে কোনো তারকার পুরো ক্যারিয়ার। এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ—যার চোখের সামনে ভেঙে যায় এক সময়ের সুপারস্টার নায়ক ওমর সানীর ক্যারিয়ারের ভিত।
ঘটনাটি ১৯৯৩ সালের শেষ দিকে। আমজাদ হোসেন পরিচালিত এবং জেড এইচ মিন্টু প্রযোজিত ‘১ জন সন্ত্রাসী’ ছবির মহরত হয় বারী স্টুডিওতে। অনুষ্ঠানটি ছিল তারকাবহুল—উপস্থিত ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম, কাজী হায়াৎ, আলাউদ্দীন আলী, মাহফুজুর রহমান খান, সোহানুর রহমান সোহানসহ প্রায় ৩০ জন বিখ্যাত পরিচালক ও কলাকুশলী।
সেই সময় পরিচালক আমজাদ হোসেনের সহকারী হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করছিলেন রবিউল ইসলাম রাজ। তিনিসহ আরও দুইজন সহকারী পরিচালক—হক ভাই ও আহমেদ আলী মন্ডল—এই ছবিতে কাজ শুরু করেছিলেন।
গানের শুটিংয়ের আগমুহূর্তে ঘটে সেই ইতিহাস-ঘটানো ঘটনা।
মেকআপ রুমে পরিচালক আমজাদ হোসেন গানের আগের ও পরের দৃশ্য নিয়ে কাজ করছিলেন, পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজ। এমন সময়, নায়ক ওমর সানী রুমে ঢুকে পা তুলে বসে, সিগারেট ধরায় এবং প্রশ্ন করেন, “আমজাদ ভাই, আমার ড্রেস ঠিক আছে তো? শটের শিসিয়েশনটা একটু বুঝিয়ে দেন।”
এই আচরণকে নির্মাতা আমজাদ হোসেন ব্যাখ্যা করেন “অপেশাদার ও অসম্মানজনক” হিসেবে। পরদিন থেকেই তিনি আর জেড এইচ মিন্টুর অফিসে যাননি। বিষয়টি ক্রমে এতটাই গভীর হয় যে, পরিচালক স্পষ্ট জানিয়ে দেন—তিনি আর ছবিটি করতে পারবেন না।
শেষমেশ ছবির নাম বদলে রাখা হয় ‘আদরের সন্তান’। বাদ পড়েন ওমর সানী, জায়গা নেন ইলিয়াস কাঞ্চন। নতুন গল্প, নতুন শুটিং, নতুন দম নিয়ে ছবিটি মুক্তি পায় এবং সুপারহিট হয়। এরপর আরও কয়েকটি ছবির প্রজেক্ট থেকে ছিটকে যান ওমর সানী। শুরু হয় তার নায়কজীবনের পতনযাত্রা।
তবে রবিউল ইসলাম রাজ এর ভাষায়—
“একটি কথা আমি সবসময় বলি—ওমর সানীর মতো সুদর্শন নায়ক আমি আর দেখিনি। এতটা হ্যান্ডসাম, ক্যামেরার উপযোগী চেহারা বিরল। কিন্তু কখনো কখনো, আচরণই মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়।”
শেষে এই বরেণ্য পরিচালক বলেন,
“ওমর সানী ভাই, আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমার পক্ষ থেকে দোয়া রইল।”
📞 যোগাযোগ:
রবিউল ইসলাম রাজ
চলচ্চিত্র পরিচালক
📱 ০১৯৪৮-৩২৯৩৮৩