• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ কলাতলীতে নির্মাণাধীন ‘পালং অপ প্যানোয়া’ হোটেলে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টের অভিযোগ; নগদ ১ লাখ টাকা লুটের দাবি মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, টিপুর তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগর যুবদল ও বোয়ালিয়া থানা পূর্ব যুবদলের সদস্য আলিফ নুর ই জিহাদি টিপুর দাবি; ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা’ জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে হত্যার হুমকি, থানায় ইমির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নোবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবীনবরণ নবীনদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির কথিত অডিও ঘিরে তীব্র প্রশ্ন ‘দেশের সব পুলিশ আওয়ামী লীগের পক্ষে’, ‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ সহযোগিতা করবে’—কথিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দাবি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য ও অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—প্রশ্ন উঠছে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে হাসিনা-পুতিন ফোনালাপের অসমর্থিত দাবি থেকে মির্জা ফখরুলের চিকিৎসা সহায়তার ভুয়া তথ্য— ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃত্ব, এরপর শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহরের কালাইঘর এলাকার একটি বাসায় সিগারেটের আগুনে শামিম পারভেজ বাদল দগ্ধ সর্ব স্তরের মানুষের নিকট সুন্দর ও সহজভাবে কোরআনের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের মহতী উদ্যোগ।

সংগ্রাম, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস পালিত ১/১১-এর বন্দিদশা থেকে জাতীয় নেতৃত্বের রাজনীতিতে—কারামুক্তির দিনকে গণতন্ত্রের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

নাজমুল হাসান চীফ ইন এডিটর / ১২৪ Time View
Update : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

সংগ্রাম, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন:মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস পালিত

১/১১-এর বন্দিদশা থেকে জাতীয় নেতৃত্বের রাজনীতিতে—কারামুক্তির দিনকে গণতন্ত্রের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কর্মসূচি, শুভেচ্ছা বার্তা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ৩ সেপ্টেম্বর শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার কারামুক্তির দিন নয়; বরং এটি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, কারাবন্দিত্ব, নির্যাতন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘ কারাবাসের সময়ে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপন করা হয়েছে। কারাবন্দিত্বের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলেও দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করে আসছেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়—তৎকালীন পিজি হাসপাতাল থেকে জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। চিকিৎসার প্রয়োজন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখান থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।

৫৫৪ দিনের বন্দিদশা, চিকিৎসা ও প্রবাসজীবন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় তাঁর কারাবাস। ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের সময় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ৫৫৪ দিন বন্দিজীবন কাটাতে হয় তাঁকে—এমন তথ্য বিএনপির দলীয় নথি ও নেতাকর্মীদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, কারাবন্দি অবস্থায় রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে কারাবাস, মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা থেমে থাকেনি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাঁর দেশে ফেরার ঘটনা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এই প্রত্যাবর্তন ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান এবং রাজনৈতিকভাবে নতুন সম্ভাবনার সূচনা।

কারামুক্তির দিন ঘিরে নেতাকর্মীদের আবেগ

১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক স্মরণ করেন। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যানার, পোস্টার ও ডিজিটাল গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ উপলক্ষে বনানী থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ, ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ইমান হোসেন নুর ইমনের পক্ষ থেকেও একটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে—

“ওরা চেয়েছিল করে দিতে তোমায় নিঃশেষ,
ওরা জানে না তারেক রহমান মানে বাংলাদেশ।”

বার্তার শেষে তাঁকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

কারামুক্তি দিবস থেকে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা শুধু দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর কারাবাস, চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা, দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং পরবর্তী সময়ে দেশে প্রত্যাবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয়তা আরও দৃশ্যমান হয়। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাদের ভাষ্য, একসময় যাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার নানা চেষ্টা হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন, সেই তারেক রহমানই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন।

সংগ্রাম থেকে নেতৃত্ব—বিএনপির রাজনৈতিক বয়ানে তারেক রহমান

বিএনপির রাজনৈতিক বয়ানে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস একটি প্রতীকী দিন। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, সাংগঠনিক ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে দিনটির গুরুত্ব রয়েছে।

তাদের মতে, ১/১১-এর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাবন্দিত্ব ও পরবর্তী প্রবাসজীবন পেরিয়ে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ—এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার প্রতিফলন।

সামনে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

১৯তম কারামুক্তি দিবসকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা এখন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে। দলটির সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

কারামুক্তির ১৯ বছর পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান এখন দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। ফলে ৩ সেপ্টেম্বরের এই দিনটি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে উঠেছে।

কারাবন্দি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব—তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা

২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার

দীর্ঘ ৫৫৪ দিনের কারাবাস

কারাবন্দি অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা

২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাত্রা

দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দলীয় নেতৃত্ব

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন

বর্তমানে জাতীয় নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই দীর্ঘ পথচলা রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন


More News Of This Category
bdit.com.bd