• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রেকটামে ৮২ গ্রাম স্বর্ণ, বেনাপোলে কাস্টমস গোয়েন্দার হাতে যাত্রী আটক এক্স-রে পরীক্ষায় শরীরের ভেতরে মিলল ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ, মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা মগবাজার থেকে শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন গ্রেপ্তার জুলাই-আগস্টের পর কোথায় ছিলেন সোহরাব? রাজধানীতে অবস্থানের ঘটনায় নানা প্রশ্ন; আত্মগোপনে থাকা আরও কত নেতা-কর্মী দেশে রয়েছেন, উঠছে সেই প্রশ্নও আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথিত মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল, শার্শায় যুবদল নেতাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি তৃণমূলের; রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগের অভিযোগ,অডিটে বাধা,বিদ্যালয়ে অবৈধ প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি-নেপথ্যে মাওলানা মকবুলের ভূমিকা হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা বেগমকে ঘিরে পুরোনো অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে শার্শা উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক; সামাজিক কর্মকাণ্ডেও পরিচিতি, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থিতা ঘিরে বাহাদুরপুরে বাড়ছে আলোচনা মানুষ মানুষের জন্য: অসুস্থ শিশুর পরিবারের পাশে হিন্দু সংহতি আগ্রাবাদ শিশু হাসপাতালে গিয়ে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান, শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নিউ হোপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান ড. ফয়েজ উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মক্কার মতো পবিত্র নগরীকে ইয়েমেনে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এসবি প্রধান হলেন কুড়িগ্রামের কৃতিসন্তান কামরুল আহসান বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বেনাপোলের কথিত হুন্ডি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারে ছাত্রলীগ কর্মীর ক্ষোভ

২,৮০০ টাকার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা!

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৮৩ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

২,৮০০ টাকার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা!

‘কট’ খেয়েছেন কারা—গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক আওলাদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

বদলি আদেশের পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, পুবাইলে যোগদান না করারও অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক | গাজীপুর

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর অঞ্চল (বাসন) কার্যালয় ঘিরে চুক্তিভিত্তিক এক কঞ্জারভেন্সী শ্রমিকের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কর্মরত মোঃ আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্সের নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায়, সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, বদলি আদেশ অমান্য এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে—২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারিত লাইসেন্স ফি-এর বিপরীতে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এই অর্থের লেনদেনে কারা জড়িত ছিলেন, অর্থ কোথায় যেত এবং আদায়ের কোনো হিসাব রাখা হতো কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, লাইসেন্স শাখায় দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোঃ আওলাদ হোসেন সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনাগ্রহী হলে ফাইল আটকে রাখা, কাজ বিলম্বিত করা কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট নথি, লাইসেন্স আবেদন, রসিদ, ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।


২,৮০০ টাকার লাইসেন্সে ১০ হাজার—অতিরিক্ত টাকা গেল কোথায়?

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাসন অঞ্চলের লাইসেন্স শাখায় ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে মোঃ আওলাদ হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও কোনো কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নির্ধারিত ফি যদি ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হলো কেন?

এই অতিরিক্ত অর্থ কি কোনো সেবা বাবদ নেওয়া হয়েছিল, নাকি এটি ছিল কথিত ‘কট’ বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ? যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়ে থাকে, তাহলে তার কোনো রসিদ দেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও বড় প্রশ্ন হলো—এ ধরনের অর্থ আদায়ের সঙ্গে শুধু একজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, নাকি এর পেছনে আরও কেউ ছিলেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ফাইল, আদায় রেজিস্টার, সরকারি রসিদ, ব্যাংক/ট্রেজারি জমার তথ্য এবং ব্যবসায়ীদের সরাসরি বক্তব্য।


‘কট’ খেয়েছেন কারা?

বাসন অঞ্চলের লাইসেন্স শাখায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—এই কথিত ‘কট’ বা অতিরিক্ত অর্থের সুবিধাভোগী কারা?

অভিযোগ সত্য হলে, একজন দৈনিক হাজিরার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী কীভাবে লাইসেন্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে এমন প্রভাব বিস্তার করলেন, সেটিও তদন্তের বিষয়।

একজন চুক্তিভিত্তিক কঞ্জারভেন্সী শ্রমিকের দায়িত্বের পরিধি কী ছিল, তাকে লাইসেন্স শাখায় কীভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার হাতে কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগে আওলাদ হোসেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রভাব তৈরি করেছিলেন।

তবে কর্তৃপক্ষের নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এ অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


বদলি না মানার অভিযোগ

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মোঃ আওলাদ হোসেনের বদলি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ মে ২০২৬ তারিখের স্মারক নং ৪৬.১৯.০০০০.০০৪.১৯.১৯০.২২২২৮/১(২৮)-এর মাধ্যমে তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর অঞ্চল (বাসন) থেকে ২ নম্বর অঞ্চল (পুবাইল)-এ বদলি করা হয়।

পরবর্তীতে ১৩ মে ২০২৬ তারিখের স্মারক নং ৪৬.১৯.০০০০.১২৬.৯৯.১২৭.২৩.১০১০-এর মাধ্যমে তাকে বাসন কার্যালয় থেকে অবমুক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে জানা গেছে।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অবমুক্ত হওয়ার পরও তিনি পুবাইল কার্যালয়ে যোগদানে অনীহা প্রকাশ করেন।

একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী প্রশাসনের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের আদেশ অমান্য করতে পারেন কি না—এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।


বদলির পরই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড়?

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাসন থেকে বদলির সিদ্ধান্তের পর মোঃ আওলাদ হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করতে শুরু করেন।

বিশেষ করে বাসন অঞ্চলের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রসূল এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এবং সংবাদকর্মীদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পেছনে বদলি ও অবমুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে।

এমনকি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাসন অফিসে কাজ করতে না দেওয়ার বিষয়ে হুমকিসূচক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে হুমকির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অডিও, ভিডিও, লিখিত বক্তব্য বা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়।


‘বাসন অফিসে কেউ চাকরি করতে পারবে না’—এমন ঘোষণা?

অভিযোগকারীদের দাবি, বদলি ও অবমুক্তির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আওলাদ হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন এবং বাসন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

যদি সত্যিই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটি নিছক ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিষয় নয়; বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পরিবেশ ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুতর বিষয়।

কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতেই পারেন; কিন্তু সেই বিরোধিতার পদ্ধতি কী ছিল এবং তাতে কোনো কর্মকর্তা হুমকি বা হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না—তা তদন্তে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


২০২২ সালের বদলির বিষয়টিও আলোচনায়

অভিযোগের সঙ্গে ২০২২ সালের একটি বদলির বিষয়ও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময়ও মোঃ আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ ওঠার পর তাকে ৬ নম্বর অঞ্চল (বাসন) থেকে ৮ নম্বর অঞ্চল (কাশিমপুর)-এ বদলি করা হয়েছিল।

তবে ২০২২ সালের সেই বদলির প্রকৃত কারণ কী ছিল, কোনো তদন্ত হয়েছিল কি না, তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট অফিসের নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অতএব, পুরোনো অভিযোগকে বর্তমান প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং যাচাইযোগ্য প্রশাসনিক নথির বিষয় হিসেবে দেখা প্রয়োজন।


২০২৬ সালে আবার বাসনে ফেরার পর কী ঘটেছিল?

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালে মোঃ আওলাদ হোসেন পুনরায় ৬ নম্বর অঞ্চল (বাসন) কার্যালয়ে কর্মরত হন।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিনি আবার বাসন অঞ্চলে কাজ করার সুযোগ পান।

তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

যদি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ থাকে, তাহলে তাকে পুনরায় বাসনে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে হয়েছিল, কার সুপারিশ বা অনুমোদনে হয়েছিল এবং তার নিয়োগ/দায়িত্বের নথিতে কী উল্লেখ রয়েছে—তা প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।


চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর হাতে কতটা ক্ষমতা?

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—একজন কঞ্জারভেন্সী শ্রমিক কীভাবে লাইসেন্স শাখার কার্যক্রমের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হলেন?

তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী?

তিনি কি লাইসেন্স আবেদন গ্রহণ করতে পারতেন?

ফাইল তার হাতে থাকত কি না?

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কোনো অনুমোদিত দায়িত্ব ছিল কি না?

তিনি কি কোনো সরকারি রসিদ ইস্যু করতে পারতেন?

অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেই অর্থ কোথায় জমা পড়েছে?

এবং সর্বোপরি—তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগে কোনো অভিযোগ পেয়েছিলেন কি না?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি।


ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনিচ্ছুক হলে লাইসেন্সের কাজ বিলম্বিত করা কিংবা ফাইল নিয়ে টালবাহানা করার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগটি সত্য হলে তা জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে কার ফাইল কতদিন আটকে ছিল, কে ফাইল আটকে রেখেছিল এবং এর পেছনে কোনো আর্থিক দাবি ছিল কি না—এসব প্রমাণ করতে সংশ্লিষ্ট ফাইলের গতিবিধি, রিসিভ রেজিস্টার, নথি চলাচলের রেকর্ড এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।


কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: সত্য, নাকি প্রতিশোধ?

অন্যদিকে মোঃ আওলাদ হোসেনের পক্ষ থেকে যদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেটিও সরাসরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

তার অভিযোগগুলোতে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য, নথি, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য থাকে, তাহলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।

কারণ একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ যেমন তদন্তযোগ্য, তেমনি একজন কর্মচারী কর্তৃক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগও তদন্তযোগ্য।

তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যক্তি নয়—সত্য উদঘাটন।


মুখোমুখি তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে আসল তথ্য

এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

প্রথমত, ২ হাজার ৮০০ টাকার লাইসেন্সের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য কি না।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, এসব অর্থের কোনো রসিদ বা হিসাব রয়েছে কি না।

চতুর্থত, লাইসেন্স শাখায় একজন কঞ্জারভেন্সী শ্রমিকের দায়িত্ব কী ছিল।

পঞ্চমত, ২০২২ সালের বদলির প্রকৃত কারণ কী ছিল।

ষষ্ঠত, ২০২৬ সালে তাকে পুনরায় বাসন অঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কী ছিল।

সপ্তমত, ১২ মে ২০২৬-এর বদলি আদেশের পর ১৩ মে অবমুক্ত করার পর তিনি পুবাইল অঞ্চলে যোগদান করেছিলেন কি না।

অষ্টমত, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোতে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

নবমত, কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ বা ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে কি না।


তদন্ত হওয়া দরকার নথি ও অর্থের হিসাব

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি তদন্তে নিম্নোক্ত নথি ও তথ্য যাচাই করা জরুরি—

১. ২০২২ সালের বদলি সংক্রান্ত অফিস আদেশ।
২. ২০২৬ সালের বাসন থেকে পুবাইলে বদলির আদেশ।
৩. ১৩ মে ২০২৬-এর অবমুক্তি আদেশ।
৪. আওলাদ হোসেনের নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত।
৫. বাসন অঞ্চলে তার দায়িত্বের লিখিত বিবরণ।
৬. ট্রেড লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি-এর তালিকা।
৭. সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স আবেদন ও রসিদ।
৮. অফিসের রেজিস্টার ও ফাইল চলাচলের নথি।
৯. অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য।
১০. কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আওলাদ হোসেনের দেওয়া অভিযোগপত্রসমূহ।
১১. তার বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো লিখিত অভিযোগ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি।
১২. বদলির পর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন কি না, তার প্রমাণ।


অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা, মিথ্যা হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে সরকারি সেবা প্রদানের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা ঘুষ গ্রহণের সঙ্গে জড়িত যে-ই থাকুক, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

একইভাবে যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থাৎ তদন্তের ফল যেদিকেই যাক, প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।


কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—

২,৮০০ টাকার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়েছে কি?

বাসন অঞ্চলের লাইসেন্স শাখায় চুক্তিভিত্তিক কঞ্জারভেন্সী শ্রমিকের দায়িত্ব কী ছিল?

২০২২ সালে তাকে কেন বাসন থেকে কাশিমপুরে বদলি করা হয়েছিল?

২০২৬ সালে কী প্রক্রিয়ায় তিনি আবার বাসনে ফিরলেন?

১২ মে ২০২৬-এর বদলি আদেশ এবং ১৩ মে-এর অবমুক্তি আদেশের পর তিনি পুবাইলে যোগদান করেছিলেন কি না?

কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে কি?

এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জনসমক্ষে এলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হবে।


বক্তব্য নেওয়া জরুরি অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের

একটি ভারসাম্যপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্বার্থে মোঃ আওলাদ হোসেনের বক্তব্য নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রসূল এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তারা অভিযোগগুলো সম্পর্কে কী জানেন, কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে কি না, আওলাদ হোসেনকে কেন বদলি করা হয়েছিল এবং বদলির পর তার আচরণ সম্পর্কে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ে তাদের বক্তব্য প্রয়োজন।

অভিযুক্ত মোঃ আওলাদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।


শেষ কথা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনসেবা নিতে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ী বা সাধারণ নাগরিককে যদি নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়—তাহলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এটি পুরো সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন।

আবার কোনো কর্মচারী যদি ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করে থাকেন, সেটিও প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তাই এই ঘটনায় কাউকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ, নথিভিত্তিক ও প্রকাশ্য তদন্ত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২,৮০০ টাকার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে—সেই অতিরিক্ত অর্থের হিসাব কোথায়?

কারা ‘কট’ নিয়েছেন?

কে বা কারা এই ব্যবস্থার সুবিধাভোগী?

আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়—তাহলে অভিযোগের উৎস কোথায়, কেন এসব অভিযোগ করা হলো এবং এর পেছনে উদ্দেশ্য কী?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—বাসন অঞ্চলের লাইসেন্স শাখায় আসলে কী ঘটেছিল।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ সতর্কীকরণ

এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও আদালতের। কারও বক্তব্য বা অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

প্রতিবেদক: বিশেষ অনুসন্ধানী টিম
প্রকাশনা: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

#গাজীপুর #গাজীপুরসিটিকর্পোরেশন #বাসন #কঞ্জারভেন্সীশ্রমিক #আওলাদহোসেন #ট্রেডলাইসেন্স #ঘুষেরঅভিযোগ #দুর্নীতিরঅভিযোগ #তদন্তেরদাবি #অনুসন্ধানীপ্রতিবেদন #বিশেষপ্রতিবেদন #জনস্বার্থ

 


More News Of This Category
bdit.com.bd