নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল সংলগ্ন কাগজপুকুর এলাকায় কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর আলোচনায় উঠে এসেছে সপন (পিতা: আব্দুর রশিদ) নামের এক ব্যক্তির নাম, যাকে স্থানীয়রা ওই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করছেন।
অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সপনের স্ত্রী মিলি এবং সুজনের মা পলি। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আনসার সদস্যের অভিযোগ
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক আনসার সদস্য বিল্লাল দাবি করেন, কিছুদিন আগে তার অফিসিয়াল আইডি কার্ড হারিয়ে যায়। পরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে আইডি ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডাকা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে যোগাযোগ করা ব্যক্তি নিজেকে পলি নামে পরিচয় দিয়ে তাকে কাগজপুকুর এলাকার একটি বাড়িতে যেতে বলেন।
বিল্লাল জানান,
“আমি আইডি নেওয়ার জন্য ওই বাড়ির সামনে গেলে পলি নামে এক মহিলা আমাকে বলেন—ভাই একটু ভিতরে আসেন, আমি ড্রেস চেঞ্জ করে আসছি। এরপর তিনি আমাকে একটি কক্ষের ভেতরে বসতে বলেন।”
তার দাবি, কিছুক্ষণ পর ওই নারী ঘরে এসে কথা বলতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ কয়েকজন যুবক সেখানে ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে সপন, সুজন ও বাবলা নামে কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলে জানান।
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ
ভুক্তভোগী বিল্লালের অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পরপরই কয়েকজন যুবক তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়।
তিনি বলেন,
“প্রথমে তারা আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে দরকষাকষি করে পঞ্চাশ হাজার, তারপর ত্রিশ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে।”
বিল্লালের আরও অভিযোগ, ওই সময় তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে ছবি তোলা হয় এবং একজন নারীকে তার পাশে দাঁড় করিয়ে একসঙ্গে ছবি তুলে ভবিষ্যতে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
তার দাবি,
“ওরা আমাকে ভয় দেখিয়ে পরে আবার ২০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে আমি বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করতে পারিনি।”
আরও এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ
এদিকে গত ১৩ মার্চ আরেক ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মশিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একটি দেনাপাওনার বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে তার সঙ্গেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে।
মশিউর রহমানের অভিযোগ,
“আমি একজনের সাথে পাওনা টাকার কথা বলতে গেলে সপন নামে একজন আমাকে অপমান করে বলে—মাগিবাজি করতে এসেছিস। এরপর আমার সামনে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রেখে ছবি তোলে।”
তিনি আরও দাবি করেন, পরে তাকে একটি মাঠের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়।
এলাকাবাসীর উদ্বেগ
কাগজপুকুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এমন নানা ঘটনার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অনেকেই সামাজিক সম্মান বা ভয়-ভীতির কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।
ভুক্তভোগী মশিউর রহমান মশি জানান, তার কাছে থাকা নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত হয় জোরজবরদস্তি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি সত্য হলে এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, এমন অভিযোগ সমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে,গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে বাবলা ও সপন গাং নিয়ে শার্শায় অবস্থান করছে ।