• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহনপুরের ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকৌশলী সাদরুলের দাপট এখন গোদাগাড়ীতে ৩৫ লাখ টাকা হরিলুট ও জালিয়াতির অভিযোগ: শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন!

কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো / ১৫৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

মোহনপুরের ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকৌশলী সাদরুলের দাপট এখন গোদাগাড়ীতে
৩৫ লাখ টাকা হরিলুট ও জালিয়াতির অভিযোগ: শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন!

কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর মোহনপুর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় কর্মরত প্রকৌশলী সাদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে অনিয়ম, নথি জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ‘দুর্নীতির মহোৎসব’ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মোহনপুরে থাকাকালীন মাত্র কয়েকটি প্রকল্পে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে গোদাগাড়ীতে কর্মরত থাকলেও তার এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট পুরো রাজশাহী জেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা লুটপাটের চিত্র
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এডিপি ও উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দের টাকা যেন ছিল প্রকৌশলী সাদরুলের ব্যক্তিগত তহবিল।

ভুয়া বিল ও কোয়ার্টার মেরামত: নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল ও মে মাসে তিনটি পৃথক বিলের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে উপজেলা চত্বরের মিতালী, বনানী ও ডরমিটরি ভবন মেরামতের নামে। স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি, হলেও তা ছিল নামমাত্র।

৭২ ঘণ্টার ‘ম্যাজিক’ রাস্তা: ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি সিসিকরণ রাস্তা মাত্র ৭২ ঘণ্টায় শেষ করে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এই রাস্তা এখন খানাখন্দে ভরা।

জালিয়াতির ‘মাস্টারমাইন্ড’
অভিযোগ রয়েছে, সাদরুল ইসলাম সরকারি বিধি তোয়াক্কা না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সাবেক চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিল বৈধ করেছেন। ঠিকাদাররা অনেক ক্ষেত্রে জানতেনই না যে তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

আইনের কাঠগড়ায় সাদরুল: যে শাস্তি হতে পারে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারী হয়ে নথি জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাৎ করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সাদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত আইনের ধারায় মামলা ও শাস্তি হতে পারে:

১. দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারা (Criminal Breach of Trust): সরকারি কর্মচারী হিসেবে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করলে এর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত জেল ও অর্থদণ্ড।

২. দণ্ডবিধি ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারা (Forgery): সরকারি নথিপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ দলিলে স্বাক্ষর জাল করলে শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড।

৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ (ধারা ৫-২): ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সুযোগ গ্রহণ বা দুর্নীতি করলে দোষী সাব্যস্ত হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্জিত সকল অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।

৪. সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮: অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত, পদাবনতি এবং সকল অবসরকালীন সুবিধা বাতিল করা হবে।

গোদাগাড়ীতেও অস্থিরতা
বর্তমানে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকলেও সাদরুল ইসলামের কর্মশৈলী নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার একক আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের কারণে সাধারণ কর্মচারী ও ঠিকাদাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী সাদরুল ইসলামের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির এই চেইন ভাঙতে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ এবং একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি।


More News Of This Category
bdit.com.bd