তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৫, রবিবার
প্রতিবেদক: জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ প্রকল্পে ২৯৭ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর — যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
জনতার কণ্ঠস্বরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রকৃত চিত্র
সাম্প্রতিক সময়ে “ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ প্রকল্পে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাত হয়েছে” এমন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগের পেছনে কোনো দৃঢ় প্রমাণ নেই। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পটি ছিল স্বচ্ছ, পরিকল্পিত এবং দেশের তরুণদের স্বনির্ভর করার সফল প্রয়াস।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
২০১৭ সালের জাতীয় যুব নীতিমালার আলোকে প্রকল্পটি শুরু হয়, যার লক্ষ্য তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৪টি জেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ব্যক্তি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রকল্পের কোর্সসমূহ অন্তর্ভুক্ত ছিল: কম্পিউটার অপারেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ইংরেজি কমিউনিকেশন।
অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা
“২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের” অভিযোগ প্রথমে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়। তবে প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, সব ব্যয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের যৌথ অনুমোদনে সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত অডিটের আওতায় আছে।
“ট্রেনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার,” “সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট,” এবং “কনসালটেন্সি সার্ভিসেস” খাতের সব ব্যয়ের নথি মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিক্রিয়া
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
> “ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ প্রকল্পে কোনো অর্থ আত্মসাত হয়নি। এটি দেশের যুব সমাজকে স্বনির্ভর করার একটি মাইলফলক প্রকল্প। যারা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তারা জাতির তরুণদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে।”
অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা এম. এ. আখের এবং মাসুদ আলম-এর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এবং কোনো সরকারি তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অফিসিয়াল বক্তব্য: এম. এ. আখের ও মাসুদ আলম
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এম. এ. আখের একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মাসুদ আলম একজন অভিজ্ঞ ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর। গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’ বা ‘তহবিল স্থানান্তর’-এর অভিযোগ কোনো সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে তারা নিজেও জানাচ্ছেন:
> “আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ একটি বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ গণমাধ্যম, যা সত্যিকারের জনতার কণ্ঠস্বর প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, আমি ওই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নই এবং বিক্রেতা নির্বাচনের কোনো ধাপে যুক্ত ছিলাম না। এছাড়া, আমি সেই টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির কোনো সদস্যও ছিলাম না।”
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
প্রকল্পের প্রতিটি ব্যয় e-GP (Electronic Government Procurement) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, CPTU ওয়েবসাইটে দরপত্র, অনুমোদন ও আহ্বানপত্র সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত।
বিশ্বব্যাংক ও জাইকা সম্প্রতি প্রকল্পটিকে বাংলাদেশের আইসিটি-ভিত্তিক যুব দক্ষতা উন্নয়নের “মডেল সাকসেস স্টোরি” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরবর্তী ধাপে আরও ৭৫ হাজার যুবক-যুবতীকে উন্নত আইটি স্কিলে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। একটি অনলাইন ফ্রিল্যান্সার ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাজের ইতিহাস ও আয়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগগুলো সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক গুজব, যা প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে মেলেনা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অডিট এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অনুযায়ী, এটি একটি স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভাষায়:
> “যারা তরুণদের মনোবল ভাঙতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তারা দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। আমাদের প্রকল্প তরুণদের স্বনির্ভর করছে—এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
‘ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ প্রকল্প’ তাই শুধু একটি উন্নয়ন উদ্যোগ নয়, এটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com