• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায় মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাপান সফরের সাফল্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা

পোরশায় সরকারি বালাম বইয়ে সংখ্যার পরিবর্তন, নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুসহ ৩ জন সাময়িক বরখাস্ত

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১৩৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

পোরশায় সরকারি বালাম বইয়ে সংখ্যার পরিবর্তন, নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুসহ ৩ জন সাময়িক বরখাস্ত

‘১২৫’ কেটে ‘১৩৫’ করার অভিযোগে প্রশাসনিক তদন্ত | ফরেনসিক পরীক্ষার সুপারিশ | ধামইরহাটের পর মান্দায় অধিকতর তদন্ত | প্রমাণ মিললে হতে পারে ফৌজদারি মামলা ও বিভাগীয় শাস্তি

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বালাম বইয়ে সংখ্যার পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বালাম বইয়ের একটি স্থানে থাকা ‘১২৫’ সংখ্যাটি কেটে ‘১৩৫’ করা হয়েছে—এমন বিষয় নজরে আসার পর প্রশাসনিকভাবে ঘটনাটি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক পর্যায়ে প্রশাসনিক অনুসন্ধান হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বালাম বইটি কারা রেকর্ডরুম থেকে বের করেছিলেন, কখন তাদের কাছে ছিল এবং নথিতে পরিবর্তনের বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্তের এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নথির হাতের লেখা ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হলেও পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি কার সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নথিটি যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দার সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে নথিতে পরিবর্তনের ঘটনায় কারও ব্যক্তিগত দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

 

২০২৫ সালের ২৯ মে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ মে পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪২১/৪৭১ নম্বর বালাম বইয়ের একটি স্থানে ‘১২৫’ সংখ্যাটি কেটে ‘১৩৫’ করা হয়েছে।

সরকারি রেকর্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি বালাম বইয়ে এ ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ডরুমের রেজিস্টার যাচাই করা হয়।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে মূল লক্ষ্য ছিল—বালাম বইটি কখন রেকর্ডরুম থেকে বের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে কারা সেটি ব্যবহার করেছেন, তার তথ্য বের করা।

 

রেকর্ডরুমের রেজিস্টারে তিনজনের নাম

সংশ্লিষ্ট রেকর্ডরুমের রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচিত বালাম বইটি পর্যায়ক্রমে ইসমত আলী, রাবেয়া বেগম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু বের করেছিলেন।

নথিতে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

তাদের দাখিল করা জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাময়িক বরখাস্ত একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা; এটি নিজে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের জন্য তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

 

ধামইরহাটে তদন্ত, পরে মান্দায় অধিকতর অনুসন্ধান

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রথমে ধামইরহাটের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়।

তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট বালাম বইয়ের হাতের লেখা এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

তবে তদন্তকারীদের কাছে বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিশেষ করে পরিবর্তিত সংখ্যাটি কে লিখেছেন বা পরিবর্তনের সঙ্গে কার সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এরপর ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার সুপারিশ করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দার সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বালাম বই?

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত বালাম বই ও অন্যান্য সরকারি রেকর্ড নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এসব রেকর্ড ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনগত প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে কোনো সরকারি রেকর্ডে কাটাছেঁড়া, সংখ্যা পরিবর্তন বা তথ্যের পরিবর্তনের অভিযোগ উঠলে সেটি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পোরশার আলোচিত ঘটনায় ‘১২৫’ থেকে ‘১৩৫’ করার বিষয়টি তাই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে এই সংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কী ধরনের সুবিধা পেয়েছেন বা এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

—

তদন্তের মূল প্রশ্নগুলো

আলোচিত ঘটনায় তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে।

প্রথমত, বালাম বইয়ে পরিবর্তনটি ঠিক কখন করা হয়েছে?

দ্বিতীয়ত, পরিবর্তনের সময় বালাম বইটি কার কাছে ছিল?

তৃতীয়ত, ‘১৩৫’ সংখ্যাটি কার হাতের লেখা?

চতুর্থত, ‘১২৫’ সংখ্যাটি কাটার ধরন কী?

পঞ্চমত, পরিবর্তনটি ইচ্ছাকৃত নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে?

ষষ্ঠত, পরিবর্তিত তথ্যের সঙ্গে কোনো দলিল বা নিবন্ধন কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে কি না?

সপ্তমত, বালাম বইটি রেকর্ডরুম থেকে বের করার পর কারা সেটি ব্যবহার করেছেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

 

আইনে সরকারি রেকর্ড জাল করার শাস্তি

বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এ জালিয়াতি ও সরকারি রেকর্ড জাল করার বিষয়ে বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে।

দণ্ডবিধির ৪৬৬ ধারায় আদালতের নথি বা কার্যক্রমের রেকর্ড কিংবা সরকারি রেজিস্টারসহ আইনে উল্লেখিত নির্দিষ্ট নথি জাল করার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে আলোচিত ঘটনায় ৪৬৬ ধারা সরাসরি প্রযোজ্য হবে কি না, সেটি তদন্তের তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথির আইনগত প্রকৃতি এবং মামলার প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে।

অর্থাৎ কোনো সরকারি নথিতে পরিবর্তন দেখা গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৪৬৬ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয় না।

 

জাল নথি ব্যবহার করলেও আইনি দায় হতে পারে

দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় জাল দলিল বা নথি আসল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টিও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেটিকে জাল বলে জেনেও বা জাল হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে আসল হিসেবে ব্যবহার করেন।

এ ক্ষেত্রে যে মূল জালিয়াতির অপরাধের সঙ্গে নথিটি সম্পর্কিত, তার ভিত্তিতে শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

তবে এই বিধান কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হবে কি না, সেটিও তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে বিভাগীয় শাস্তির সম্ভাবনা

নথি টেম্পারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি শুধু ফৌজদারি আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে গুরুতর অনিয়ম বা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর মধ্যে অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরিগত শাস্তির প্রশ্ন উঠতে পারে।

একই ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হলে আদালতের বিচার এবং বিভাগীয় কার্যক্রম—দুটি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলতে পারে।

 

সাময়িক বরখাস্তের পর কী হতে পারে?

সাময়িক বরখাস্তকে সাধারণত তদন্তকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়।

তদন্তে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী বিভাগীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ হতে পারে।

আবার তদন্তে অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ও আসতে পারে।

তাই বর্তমান পর্যায়ে আমির উদ্দিন বাবুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

 

ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফরেনসিক পরীক্ষা।

কারণ নথির পরিবর্তনটি কে করেছেন—এ বিষয়ে শুধু বালাম বইটি কারা বের করেছিলেন, সেই তথ্য যথেষ্ট নয়।

তদন্তের জন্য প্রয়োজন হতে পারে নথির হাতের লেখা, লেখার বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক উপাদান বিশ্লেষণ।

ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে ফরেনসিক পরীক্ষা কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং তার ফলাফল কী হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষাগারের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

 

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

পোরশার এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়—

– ১৪২১/৪৭১ নম্বর বালাম বইয়ে ‘১২৫’ থেকে ‘১৩৫’ করার বিষয়টি নজরে এসেছে;
– বিষয়টি নিয়ে পোরশা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে;
– রেকর্ডরুমের রেজিস্টারে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে;
– সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে;
– তাদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে;
– ধামইরহাটে তদন্ত হয়েছে;
– ফরেনসিক পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে;
– অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দায় পাঠানো হয়েছে;
– এবং প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

এর বাইরে কোনো ব্যক্তির সরাসরি অপরাধের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

প্রশাসনের সামনে এখন বড় দায়িত্ব

সরকারি নথি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সম্পদ। এসব নথির নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তাই পোরশার আলোচিত ঘটনায় তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট বালাম বইয়ের ফরেনসিক পরীক্ষা, রেকর্ডরুমের মুভমেন্ট রেজিস্টার যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা যেতে পারে।

তদন্তে যার দায় পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং যার দায় পাওয়া যাবে না, তাকে সেই অনুযায়ী দায়মুক্ত রাখাই হবে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া।

 

চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পোরশা

একটি সরকারি বালাম বইয়ে ‘১২৫’ থেকে ‘১৩৫’ করার অভিযোগ এখন পোরশা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রশাসনিক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুসহ তিনজনের সাময়িক বরখাস্তের পরও তদন্ত থেমে নেই। বরং ফরেনসিক পরীক্ষার সুপারিশ এবং অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এখন অপেক্ষা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং ফরেনসিক পরীক্ষার।

যদি তদন্তে সরকারি নথি জালিয়াতি বা সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধের আইনগত উপাদান প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি মামলা, কারাদণ্ড ও জরিমানার পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তির বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

আর যদি অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া না যায়, তাহলে সেটিও তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অবস্থান

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ কোনো তদন্তাধীন ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি ও কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ভিত্তিতে ঘটনাটি পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো।

সরকারি নথির নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে এবং প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আসবে—এটাই প্রত্যাশা।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নজর রাখবে।

প্রতিবেদন:
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি


More News Of This Category
bdit.com.bd