“জাতির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়ের নাম এবিএম খাইরুল হক”: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ | ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খাইরুল হককে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এই চেয়ারে বসে কেউ দেশের এত ক্ষতি করেনি।” নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিক এসব মন্তব্য করেন এবং সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন।
তিনি লেখেন, “ফ্যাসিস্ট আমলের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবিএম খাইরুল হক। নাহ, কোনোমতেই তিনি তার দায়িত্বের মর্যাদা উপলব্ধি করেননি এবং আমানত রক্ষা করেননি। বরং হঠকারী রায় দিয়ে রাজনৈতিক মাফিয়াদের হাতে গুম, খুন, লুণ্ঠনের লাইসেন্স তুলে দেন।”
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পটভূমিতে এবিএম খাইরুল হকের নেতৃত্বে কিছু রায়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তকে ইতিহাস “প্রতারণামূলক” ও “ক্ষমতালোভীদের সেবকতুল্য” হিসেবে মনে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে—এটা জাতির জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ন্যায়বিচারই প্রত্যাশা করি। তিনি যেন আইন ও ইতিহাসের শিক্ষণীয় শাস্তি পান—এই আশাই জাতি করে।”
তবে এখন পর্যন্ত এবিএম খাইরুল হক-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খাইরুল হকের সময়ে দেওয়া কিছু যুগান্তকারী রায় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অনেকে একে বিচার বিভাগের ‘রাজনীতিকরণ’ এবং বিচারপতিদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে চরম ধাক্কা হিসেবেও দেখেন।
এখন তার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়া শুধু একটি ব্যক্তির নয়—বরং একটি প্রজন্মের বিচারবোধ, স্মৃতি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থার পুনঃস্থাপনের প্রশ্নও।