শাপলা প্রতীক নিয়ে প্রতারণামূলক চাল? এনসিপি নেতা সারজিস আলমের পোস্টে ধরা পড়ল দ্বিচারিতা
জাতীয় প্রতীক নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিতর্ক ছড়াচ্ছে NCP, বিএনপিকে পরোক্ষভাবে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঢাকা, ৯ জুলাই ২০২৫:
Nationalist Conservative Party (NCP)-এর নেতা সারজিস আলমের সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে আবারও নতুন করে দানা বাঁধছে প্রতীক রাজনীতি ঘিরে বিতর্ক। তিনি প্রশ্ন তোলেন—“শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হতে পারে, তাহলে ধানের শীষও হতে পারবে না।” এই কথার মধ্যে নিহিত রয়েছে একাধিক স্তরের রাজনৈতিক ইঙ্গিত, যার প্রধান লক্ষ্য—বিএনপি ও তার প্রতীক ধানের শীষ।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারজিসের এই মন্তব্য একটি কৌশলী বিভ্রান্তি এবং তার নিজেরই অবস্থান এতে খণ্ডিত হয়েছে।
যুক্তির মুখোশ খুলে গেল
“ধান” বাংলাদেশের মানুষের কৃষিজীবন ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হলেও এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত জাতীয় প্রতীক নয়। পক্ষান্তরে, “শাপলা” ফুল বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত জাতীয় ফুল। এটি সরকারি লোগো, পাঠ্যপুস্তক ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
সারজিস আলম পোস্টে দাবি করেছেন—শাপলা আসলে “জাতীয় প্রতীকের অংশমাত্র”, পুরো জাতীয় প্রতীক নয়। অথচ তিনিই আবার বলছেন, শাপলা যদি নিষিদ্ধ হয়, ধানের শীষও হওয়া উচিত নয়।
এই বিপরীতধর্মী বক্তব্য বিশ্লেষকদের মতে—NCP-এর রাজনৈতিক দ্বিচারিতার প্রমাণ। কারণ, ধানের শীষকে আক্রমণ করে মূলত বিএনপিকেই বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যদিও বিষয়টি সরাসরি বলা হয়নি।
—
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত চাল কি?
1. NCP নিজেই নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শাপলা’ প্রতীক চাইছে, আবার গণমাধ্যমে জাতীয় প্রতীকের নাম করে অন্যদের বিরোধিতা করছে।
2. সারজিস আলমের বক্তব্যে বিএনপি বা ‘ধানের শীষ’ বারবার টার্গেট, যদিও স্পষ্টভাবে দলটির নাম উচ্চারণ করা হচ্ছে না।
3. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ বলছে—এই বিতর্ক আসলে শাপলা প্রতীক একচেটিয়া করে নেওয়ার চাল।
জনগণের প্রতিক্রিয়া জোরালো
সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—
> “যে ফুল শিশুর বইয়ের পাতায় থাকে, সরকারি লোগোতে থাকে, সেটা নিয়ে এভাবে লড়াই নোংরা রাজনীতির নামান্তর।”
“শাপলা বাংলাদেশের নারীত্ব, শান্তি আর স্বকীয়তার প্রতীক—এটা পুঁজিবাদী স্বার্থে বিক্রি করা যাবে না।”
“যারা শাপলার পবিত্রতা নিয়ে খেলছে, তারা এই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি দায়হীন।”
আইন কী বলে?
Representation of the People Order, 1972 অনুযায়ী—জাতীয় প্রতীক ব্যবহারে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ থাকলেও, প্রতীক হিসেবে ব্যবহারযোগ্য কিনা, তা নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। শাপলা ফুল যদি অনুমোদন পায়, সেটি আইনত বৈধ হতে পারে। তবে এর ব্যবহারে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা থাকা আবশ্যক।
—
এই খেলা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার দলিল
এনসিপি এবং সারজিস আলম একদিকে শাপলা প্রতীক নিজেদের মার্কা হিসেবে চাইছেন, অন্যদিকে বিএনপির মতো বিরোধী পক্ষ শাপলা চাইলে তাদের উপর ‘জাতীয় প্রতীক অপব্যবহার’-এর অভিযোগ তুলে দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটা নিছক এক প্রতীকের বিষয় নয়, বরং এটা একটি রাজনৈতিক ফাঁদ। যেখানে একদিকে জনপ্রিয় জাতীয় প্রতীক দখলে আনা, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই মূল লক্ষ্য।
> “এই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা মানুষ ধরে ফেলেছে,” বলেছেন একজন সিনিয়র অধ্যাপক।
“এটা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার কৌশল মাত্র, কিন্তু মানুষ এখন সচেতন।”
শাপলা কোনো একক রাজনৈতিক দলের মালিকানা হতে পারে না। এটি বাঙালির হৃদয়ের প্রতীক, সংবিধান স্বীকৃত জাতীয় পরিচয়। যে কেউ এটি চাইতে পারে, কিন্তু তাকে নিয়ে রাজনৈতিক লোভের খেলা মানুষ বরদাশত করবে না।