‘বিপ্লব ছাত্রদল’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টের অভিযোগ; ‘প্রাণের শহর বেনাপোল’ গ্রুপের অ্যাডমিন হাসানুজ্জামান হাসান, প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তে সাইবার সহায়তার দাবি
শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে গুরুতর বক্তব্য বা অভিযোগ প্রকাশের আগে সেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সম্প্রতি ‘প্রাণের শহর বেনাপোল’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে নুরুজ্জামান লিটনকে ঘিরে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগসংবলিত একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে বলে পাওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়। পোস্টের সঙ্গে থাকা গ্রাফিক্স বা পোস্টারেও সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা, ফলে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে এগুলোকে বর্তমানে অভিযোগ ও দাবির পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।
পোস্টটি ‘বিপ্লব ছাত্রদল’ নামের প্রোফাইল থেকে
প্রাপ্ত স্ক্রিনশট ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দৃশ্যমান তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত পোস্টটি ‘বিপ্লব ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।
ফেসবুক প্রোফাইলের নাম দেখেই তার প্রকৃত ব্যবহারকারী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়,ফলে ‘বিপ্লব ছাত্রদল’ নামের প্রোফাইলটি বাস্তবে কে পরিচালনা করেন, পোস্টটি কে করেছেন এবং পোস্টে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস কী—এসব বিষয় যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এ কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রয়োজন হলে আইনসম্মতভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তের দাবি জানানো হয়েছে।
‘প্রাণের শহর বেনাপোল’ গ্রুপের অ্যাডমিন হাসানুজ্জামান হাসান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমান তথ্য অনুযায়ী, ‘প্রাণের শহর বেনাপোল’ ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে হাসানুজ্জামান হাসান নামের একটি প্রোফাইলের পরিচয় দেখা যাচ্ছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন হওয়া মানেই ওই গ্রুপে প্রকাশিত প্রতিটি পোস্টের লেখক, প্রকাশক বা তথ্যের উৎস হওয়া।
সুতরাং হাসানুজ্জামান হাসান ওই আলোচিত পোস্ট করেছেন, পোস্টটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বা পোস্টটি প্রকাশে ভূমিকা রেখেছেন—এমন কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রকৃত পোস্টদাতা শনাক্তে সাইবার সহায়তার দাবি
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনগত অনুসন্ধানের প্রয়োজন হলে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিটের সহযোগিতা নিতে পারে।
প্রয়োজনে পোস্টের স্ক্রিনশট, প্রকাশের সময়, সংরক্ষিত ডিজিটাল কপি এবং আইনসম্মতভাবে পাওয়া অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করে পোস্টটির প্রকৃত উৎস ও ব্যবহারকারী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
‘বিপ্লব ছাত্রদল’ প্রোফাইলের ব্যবহারকারী কিংবা ‘প্রাণের শহর বেনাপোল’ গ্রুপের অ্যাডমিন হাসানুজ্জামান হাসানকে ওই পোস্টের জন্য দায়ী করা সমীচীন।
জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট পরিচয়
আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
গণমাধ্যমটির মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো গুরুতর অভিযোগ বা বক্তব্য প্রকাশিত হলে সেটির সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তাদের বক্তব্য, নুরুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক অংশ। তবে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাচাইহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়া উচিত নয়।
তাদের দাবি, মতামত প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য প্রকাশ করা হলে তার পক্ষে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের প্রতি তদন্তের আহ্বান
আলোচিত পোস্টের প্রকৃত তথ্য জানতে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের প্রতি বিষয়টি আইনসম্মতভাবে যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, প্রয়োজন হলে পোস্টটির ডিজিটাল কপি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিটের সহায়তায় বিষয়টি পরীক্ষা করা হোক। বিশেষ করে ‘বিপ্লব ছাত্রদল’ নামের প্রোফাইলটি কে পরিচালনা করেন, পোস্টটি কখন ও কীভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস কী—এসব বিষয় যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।
একই সঙ্গে ‘প্রাণের শহর বেনাপোল’ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে দৃশ্যমান হাসানুজ্জামান হাসানের বিষয়ে কোনো দায় নির্ধারণের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য যাচাই।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হলে তার সত্যতা যাচাই করা যেমন জরুরি, তেমনি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একইভাবে কোনো ফেসবুক প্রোফাইলের নাম, গ্রুপের অ্যাডমিন পরিচয় কিংবা একটি স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে কাউকে কোনো পোস্টের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা উচিত নয়। প্রকৃত ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রযুক্তিগত ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
প্রয়োজনীয় তদন্ত, প্রযুক্তিগত যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচিত পোস্টের প্রকৃত উৎস ও ঘটনার বাস্তব চিত্র সামনে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় নেতাকর্মীদের।