“ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না” — ছাত্রদল নেতার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক জবাবদিহির নতুন আলোচনার ঢেউ
রিপোর্ট:বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৫ – রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত দায় ও দলীয় দায়ের পার্থক্য স্পষ্ট করে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বাপ্পি। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেন:
“আমার ব্যক্তিগত অপরাধের দায় একান্তই আমার, আমার দলের নয়। এটা সবাইকে বুঝতে হবে।”
এই সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী বক্তব্যটি রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্নে এক নতুন ধারা উন্মোচন করেছে—যেখানে একজন ব্যক্তি দলীয় আবরণে নিজেকে দায়মুক্ত করতে চায় না, আবার একইসঙ্গে দলকেও অহেতুক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করতে দেন না।
বাপ্পির এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। সমালোচকরা যেমন এটিকে একটি কৌশলী আত্মরক্ষামূলক অবস্থান হিসেবে দেখছেন, বিশ্লেষকরা তেমনি এটিকে রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং জবাবদিহির প্রতি অঙ্গীকার হিসেবে প্রশংসা করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—একজন কর্মীর কোনো ব্যক্তিগত অপরাধ বা অনিয়মকে কেন্দ্র করে পুরো দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। বিশেষত বিরোধী দলগুলোর ক্ষেত্রে এই ‘Collective Criminalization’-এর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।
একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,
“রাজনীতি করতে হলে নেতৃত্বের মধ্যে আত্মসমালোচনার সাহস থাকতে হয়। কিন্তু সেই আত্মসমালোচনাও যেন দলের সামগ্রিক অবস্থানকে অকারণে কলঙ্কিত না করে, সেদিকেও দৃষ্টি রাখা জরুরি।”
রাজনৈতিক পরিবেশে বড় এক প্রশ্ন উঠেছে—কেন বিরোধী দলের একজন কর্মীর অপরাধ পুরো দলকে অপরাধী প্রমাণের হাতিয়ার হয়, অথচ সরকারদলীয় দুর্নীতির ক্ষেত্রে দলকে দায়ী করা হয় না? রাজনৈতিক বৈষম্য ও ‘targeted accountability’-এর এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও “একজন অপরাধী মানেই গোটা সংগঠন সন্ত্রাসী” এই সূত্রে অনেক রাজনৈতিক কর্মী হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাতে দলভিত্তিক রাজনীতির প্রকৃতি নষ্ট হয়েছে, এবং দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। কামরুজ্জামান বাপ্পির এই মন্তব্য সেই ভুলকে আর পুনরাবৃত্ত না করারই বার্তা দেয়।
রাজনৈতিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও যুক্তির জায়গা ফিরিয়ে আনা জরুরি। ব্যক্তি দায় তার নিজের, দল যদি প্রমাণসাপেক্ষে তাকে প্রশ্রয় দেয়—তবেই দল দায়ী।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বাপ্পির বক্তব্য সেই যুক্তিসম্মত রাজনৈতিক ভাষাকেই প্রতিষ্ঠা করেছে—যা একদিকে আত্মসমালোচনার সাহস, অপরদিকে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষার অঙ্গীকার বহন করে।