পাঁচবিবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির অভিযোগ
মোঃমোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার শহরতলীর সমিরন নেছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা বানুর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় চরম অবহেলা রয়েছে।
তাদের দাবি, চারু ও কারু পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতের কাজের নামে নগদ টাকা আদায়, কিছু শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, এবং বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঘুমানো ও মোবাইলে ব্যস্ত থাকা—এসব অনিয়ম নিয়মিত ঘটছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ে দপ্তরি থাকলেও শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেট পরিষ্কার করা হয় না, এবং শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে পৌরসভার অপরিশোধিত পানি পান করছে।
অভিযোগকারীরা হলেন—খালেকুজ্জামান, আব্দুর রহমান, শামীমুর রহমান, শফিকুর রহমান, আলমগীর কুম কুম, প্রণব বসাক, মনজুর মোরশেদ, ফাতেমা বেগমসহ স্থানীয় ১০ জন নাগরিক।
প্রধান শিক্ষক মুক্তা বানু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ। বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে।”
পাঁচবিবির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলায়েত হোসেন জানান,
> “গতকাল ইউএনও বদলি হয়েছেন, আমি আজ থেকে দায়িত্ব নিয়েছি। অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জেছের আলী বলেন,
> “গত ৭ অক্টোবর তারিখে লেখা একটি অভিযোগ সম্প্রতি আমাদের দপ্তরে এসেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
—
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে শাস্তির ধারা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে নিচের আইনি ধারা প্রযোজ্য হতে পারে—
1. বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code), ১৮৬০
ধারা ৪০৯: সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অর্থ আত্মসাৎ — সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
ধারা ১৬৬: সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা — সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
2. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (ধারা ২(ঙ), ১৯)
সরকারি কর্মচারীর দ্বারা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বা সরকারি অর্থের অপব্যবহার হলে তা দুর্নীতির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
3. সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি, ১৯৭৯
কোনো সরকারি শিক্ষক বা কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাকে বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, বা চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
4. প্রাথমিক শিক্ষা আইন, ২০১৮ (ধারা ৩২ ও ৩৫)
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যদি শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন করেন বা প্রশাসনিক অব্যবস্থা সৃষ্টি করেন, তবে শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তদন্ত করে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।