• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি

গোদাগাড়ীতে বিএনপি নেতার ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ভাইরাল: জেলাজুড়ে তোলপাড় ও নিন্দার ঝড়

বিশেষ প্রতিনিধি রাজশাহী / ১২৯ Time View
Update : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

 

গোদাগাড়ীতে বিএনপি নেতার ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ভাইরাল: জেলাজুড়ে তোলপাড় ও নিন্দার ঝড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | মার্চ ০৮, ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাটিকাটা ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতার নৈতিক অবক্ষয়ের খবর। ৬ নং মাটিকাটা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক টিয়া হাজি-র একটি ১২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।

 

ঘটনার বিবরণ
সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন—ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইমো এবং হোয়াটসঅ্যাপে টিয়া হাজির একটি গোপন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি কক্ষের ভেতর তিনি এক নারীর সাথে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অনৈতিক অবস্থায় লিপ্ত রয়েছেন। ভিডিওটি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তা ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট’-এ পরিণত হয়।

স্থানীয় ও সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একজন রাজনৈতিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজের তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি:

প্রকাশ্যে এই নৈতিক স্থলনের বিচার করতে হবে।

দলীয় পদ থেকে তাকে দ্রুত অব্যাহতি দিতে হবে।

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযুক্তের পরিচয়
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত টিয়া হাজি বিবাহিত এবং তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। মাটিকাটা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি রাজনৈতিক মহলে বেশ পরিচিত। তবে এই ভিডিও ফাঁসের পর তার চারিত্রিক নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি
এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় যেন দল না পায়, সেজন্য অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত টিয়া হাজি এলাকা থেকে অনেকটা আড়ালে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো আপত্তিকর ভিডিও প্রচার বা শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সকল পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি
টিয়া হাজির এই কেলেঙ্কারির পর তার নিজ দল ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে তাকে দলীয় সকল পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই ধরনের ব্যক্তি রাজনৈতিক পদের অযোগ্য।

জনসাধারণের দাবিগুলো হলো:

সাংগঠনিক ব্যবস্থা: অনতিবিলম্বে ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদসহ দলের সকল পর্যায় থেকে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষায় তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সামাজিক বয়কট: চারিত্রিক স্খলনজনিত কারণে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

বর্তমান অবস্থা
অভিযুক্ত টিয়া হাজি বিবাহিত এবং গোদাগাড়ীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তার এই কর্মকাণ্ডে খোদ তার নিজ পরিবারের সদস্যরাও চরম লজ্জিত। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সম্পাদকের মন্তব্য: পবিত্র রমজান মাস সংযম ও শুদ্ধির মাস। এমন সময়ে এই ধরনের চারিত্রিক অবক্ষয় সমাজ ও ধর্মের ওপর চরম আঘাত। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।


More News Of This Category
bdit.com.bd