কাজিপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: সহকারী শিক্ষক নজরুলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অভিভাবকদের উত্তাল ক্ষোভ
মোঃ আব্দুর রব মনসুর, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকানী ইউনিয়নের জুমার খুকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির কোমলমতি এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলামের এই হীন কর্মকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, জুমার খুকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম সম্প্রতি উক্ত বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন এবং তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে কুপ্রস্তাব দেন। ঘটনার পর শিশুটি ভয়ে ও মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই প্রথম নয়, বরং এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের নৈতিকতাহীন ও অশোভন আচরণের মৌখিক অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেসময় কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক নজরুলের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বস্তুনিষ্ঠ সত্যতা যাচাইয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
স্কুল প্রাঙ্গণে এহেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবরে অভিভাবক মহল চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, যে শিক্ষক শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত, তার বিরুদ্ধে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠলে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হয়। বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা প্রাথমিক তথ্য অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিমাত্রই আমরা তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিশ্লেষণ করব। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সামান্যতম সত্যতাও মিললে দেশের প্রচলিত চাকরি বিধি ও আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য গ্রহণের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে তাঁর বক্তব্য পাওয়া মাত্রই প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এবং শিশুটির সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার স্বার্থে প্রচলিত আইন ও নীতি অনুসরণ করে তার নাম, ছবি, অভিভাবকের পরিচয় ও ঠিকানা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। ঘটনাটির সত্যতা উদঘাটনে উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ এখন শিক্ষা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।