ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৫
রিপোর্ট : নাজমুস সাকিব
“মুনিয়াই শেষ নয়—বসুন্ধরার ছেলেদের হাতে একের পর এক নারী নিপীড়নের শিকার।”
শুধু আলোচিত মুনিয়া হত্যাই নয়, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলমের পরিবার যেন এক যৌন ও ক্ষমতার দাপটের দুর্বৃত্ত সাম্রাজ্য। এই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে একের পর এক অভিযোগ: ধর্ষণ, গর্ভপাত, হত্যা, এবং নির্যাতন।
সর্বশেষ অভিযোগ উঠে এসেছে সাফিয়াত সোবহান সানভীরকে ঘিরে। ইশরাত জাহান রিদিকা নামের এক নারী দাবি করেছেন—তিনি সানভীরের দ্বারা ১০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। এরপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন।
এই সানভীরই সেই ব্যক্তি যিনি এর আগে এক “ক্লাব পার্টি”তে কর্মচারী সাব্বিরকে মাথায় মদের বোতল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আছে। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে হত্যার চিত্র। তারপরও, শেখ হাসিনার আমলে সেই মামলা নিস্পত্তি হয় ‘প্রমাণের অভাবে’।
শাহ আলমের বড় ছেলে সাদাত সোবহান তানভীর জোর করে এক বিমানবালাকে বিয়ে করে, তার গর্ভপাত ঘটায় এবং সম্পর্ক ভেঙে দেয়। তৃতীয় সন্তান সায়েম সোবহান আনভীরই আলোচিত মুনিয়া হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি—কিন্তু আজও একবারের জন্যও তাকে ডাকা হয়নি জেরা করতে। আর সর্বকনিষ্ঠ তাসভীর সোবহান তো এক নারীকে মারধর করে মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেয়—পরে হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেয় সেই কাহিনি।
এই পরিবারের অপকর্ম যেন নিয়মিত ‘ফ্যামিলি ট্র্যাডিশন’। দেশের প্রচলিত আইনের সামনে তারা কার্যত ধূর্ত এক ছায়া—যা ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। কোনো সরকারই তাদের ধরতে চায় না।
তবে এবার?
রিদিকার অভিযোগ কি নতুন কিছু ঘটাবে? নাকি আরও একবার “পত্রিকার পেছনের পাতায় শোক সংবাদ” হয়ে মিলিয়ে যাবে?
সম্প্রতি হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যেসব ‘বাগ্মী হুঙ্কার’ শোনা গেছে—তাও অনেকে দেখছেন একটি দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে। গত দশ মাসেও তার কিংস পার্টির মুখে শাহ আলমদের বিরুদ্ধে কোনো শব্দ শোনা যায়নি—হয়তো আরও কিছু ‘হালুয়া রুটির’ আশাতেই!
এই প্রতিবেদনের কোনো অংশই চূড়ান্ত আদালতের রায় নয়, বরং ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য, অভিযোগ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে গঠিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।