কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ তুলে যশোর জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে এমন কোনো চূড়ান্ত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগের পক্ষে উত্থাপিত বিভিন্ন তথ্য, ভিডিও বা নথির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি। ফলে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষককে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইন অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেছেন, তিনি ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানের সঙ্গে পূর্ববিরোধ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে জমি ও স্থাপনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ তুলে যশোর জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর দাবি তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত প্রতিটি দাবির সত্যতা এবং সেগুলোর পক্ষে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসার পর প্রধান শিক্ষক তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং পেশাগতভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেই একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ সামনে এনেছে।
১৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়েছে বলে জানা গেলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষক পক্ষের বক্তব্য, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগেই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করা হলে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রধান শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ
প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে পূর্বে একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি হতে থাকে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে সামনে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে প্রধান শিক্ষকের এ বক্তব্যকে তাঁর নিজস্ব দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানের সঙ্গে পূর্ববিরোধ
প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান অভিযোগের আগে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
তাঁর দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে তাঁর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, সহকারী শিক্ষককে ঘিরে পূর্ববিরোধ এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে এ যোগসূত্রের বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে নেই। সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানের বক্তব্যও এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে জমি-স্থাপনা নিয়ে বিরোধের দাবি
প্রধান শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের নেপথ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে জমি ও স্থাপনা-সংক্রান্ত বিরোধের কথাও উল্লেখ করেছেন।
তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের আওতাধীন প্রায় দুই শতক জমিতে একটি স্থাপনা ছিল। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে জমিটির মালিকানা, দখল, স্থাপনার বৈধতা এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রশাসনিক কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি বা উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
দুই বিরোধের সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের সম্পর্কের দাবি
প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের দাবি, সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানের সঙ্গে পূর্ববিরোধ এবং ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ—দুই ঘটনাই পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনের প্রেক্ষাপট হতে পারে।
তাঁর অভিযোগ, এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের সঙ্গে পূর্ববিরোধের বাস্তব কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রমাণের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের প্রশ্ন
প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার পক্ষে তাঁর সামনে এখন পর্যন্ত এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, যার ভিত্তিতে অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলা যায়।
তাঁর মতে, অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ফরেনসিক তথ্য, ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ উৎস, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত তদন্তের আওতায় এনে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রমাণ আইনগতভাবে প্রয়োজন হবে, তা ঘটনার প্রকৃতি ও তদন্তের ওপর নির্ভর করে। কোনো একটি নির্দিষ্ট নথি অনুপস্থিত থাকাকে এককভাবে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণের চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই।
ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগের সঙ্গে একটি ভিডিও প্রচারের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। প্রধান শিক্ষক পক্ষের দাবি, ভিডিওতে একজন শিক্ষার্থীকে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনাতে দেখা যায়।
তাঁদের বক্তব্য, কোনো শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনালেই সেই বক্তব্যের প্রতিটি দাবির সত্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না। ভিডিওটি কখন, কোথায়, কার উপস্থিতিতে এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে ভিডিওটি সাজানো বা ষড়যন্ত্রের অংশ—এমন দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই ভিডিওটির মূল উৎস, সম্পূর্ণ ফুটেজ, ধারণের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়
প্রধান শিক্ষক পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনার সময়, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, বিদ্যালয়ের উপস্থিতি ও রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় সেগুলো সত্য বা মিথ্যা—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।
বিদ্যালয়ে হেনস্তার অভিযোগ
প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেছেন, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে একদল ব্যক্তি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তাঁকে অপদস্থ ও হেনস্তার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত।
তবে এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কারা ছিলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কী এবং এ বিষয়ে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ
প্রধান শিক্ষক পক্ষ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের বক্তব্য তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তার পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরাপদ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ সত্য হলে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ প্রমাণিত না হলে কোনো ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত সুনাম অকারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সহকারী শিক্ষক ও ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে যে সহকারী শিক্ষকের নাম এসেছে তিনি মোঃ খালিদুজ্জামান।
একইভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুলের নাম উল্লেখ করেছেন প্রধান শিক্ষক।
তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক ও ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়
প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুতর। একই সঙ্গে তিনি যে ষড়যন্ত্র, হয়রানি ও সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলোও তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে সত্য বা মিথ্যা বলার সুযোগ নেই।
বিশেষ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক যে পূর্ববিরোধের কথা বলেছেন, সেটিও প্রয়োজন হলে তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে।
সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামানকে ঘিরে পূর্ববিরোধ, ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—এই ঘটনাগুলোর মধ্যে বাস্তব কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নথি, সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিক্ষার পরিবেশ রক্ষাই এখন প্রধান বিষয়
সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
অভিযোগ সত্য হলে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আবার অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও থাকতে হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে একদিকে প্রকৃত অপরাধ বা অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের কারণে হয়রানির শিকার হলে তাঁর সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যাবে।
প্রতিবেদকের নোট
এই প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই এবং তাঁর ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হওয়ার বক্তব্যকে তাঁর নিজস্ব দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামান ও ইউপি সদস্য আসাদুলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তদন্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে; তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে না থাকায় অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক, ইউপি সদস্য এবং অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।